নারায়ণগঞ্জে বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১০৫

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮ বার
নারায়ণগঞ্জে বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১০৫

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার সাতটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে পরিচালিত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যসহ মোট ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনভর জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে অভিযানে পাঁচ কেজি গাঁজা ও ৬০টি ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১০৫ জনের মধ্যে ৭৬ জন মাদকসেবী। এ ছাড়া তিনজন মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্য, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১০ জন, নিয়মিত মামলার দুই আসামি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ছয় সদস্য রয়েছেন। বাকি তিনজনসহ মোট ১২ জনকে বিভিন্ন অভিযোগ ও অন্যান্য ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফতুল্লা মডেল থানা এলাকায়। সেখানে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ২৭ জন মাদকসেবী, কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্য, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুই ব্যক্তি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের চার সদস্য রয়েছেন। পুলিশের এই হিসাব থেকে বোঝা যায়, ফতুল্লা এলাকায় মাদকসেবন ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে।

সোনারগাঁওয়েও পুলিশের অভিযানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানে ৬০টি ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ২০ জন মাদকসেবী এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে ২৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি ওই এলাকায় মাদক সরবরাহ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি সামনে এনেছে।

রূপগঞ্জে পরিচালিত অভিযানে পাঁচ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ জন মাদকসেবী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার অভিযানে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় মাদক সরবরাহের উৎস ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তদন্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বন্দর থানা পুলিশও পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন মাদকসেবী, তিনজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এবং অন্য তিনজনকে বিভিন্ন ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা এলাকায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আটজন। তাদের মধ্যে পাঁচজন মাদকসেবী, দুইজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন সদস্য রয়েছেন।

অন্যদিকে আড়াইহাজার থানা পুলিশের অভিযানে একজন মাদকসেবী এবং বিভিন্ন মামলার দুই আসামিসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই মাদকসেবীকে। সাতটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে একই সময়ে অভিযান পরিচালনা করায় অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। [নারায়ণগঞ্জ টাইমস |

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানিয়েছেন, জেলার সাতটি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়েও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আগে ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জেলার সাতটি থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে ৮৭ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়। ওই অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, বিভিন্ন মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার আগেও চলতি মাসে নারায়ণগঞ্জে একাধিক বিশেষ অভিযানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

একই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মাদকসেবন, মাদক কারবার এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ তরুণ প্রজন্ম, পরিবার ও স্থানীয় সামাজিক পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যেমন অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তেমনি এসব অপরাধের পেছনে থাকা কারণ চিহ্নিত করা এবং তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখার সামাজিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় শুধু মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়। মাদকসেবনের সঙ্গে অনেক সময় পারিবারিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ, অপরাধপ্রবণতা এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে কিশোরদের কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা পরিবার ও সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে বিপুলসংখ্যক মাদকসেবী গ্রেপ্তারের তথ্যও নারায়ণগঞ্জে মাদক সমস্যার ব্যাপকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। একই সঙ্গে কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরছে। শুধু ব্যবহারকারীদের গ্রেপ্তার না করে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট চক্র শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অপরাধ দমনে দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা সেই ধারাবাহিক তৎপরতারই অংশ। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই এ ধরনের অভিযানের গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা আরও বাড়াতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com