বড়াইগ্রামে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ আজ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার
বড়াইগ্রামে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ আজ

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কয়েকটি এলাকায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আজ বৃহস্পতিবার টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে উপজেলার আগ্রান, পারকোল ও আশপাশের এলাকার গ্রাহকেরা সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের পাশের গাছের ডালপালা কাটার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়সূচি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ২ নম্বর ফিডারের আওতাধীন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের পাশে গাছের ডালপালা কর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত সময়জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা প্রয়োজন হবে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের ঘোষণাটি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সেবাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ব্যবহার থাকায় কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটও স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দিনের কর্মব্যস্ত সময়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে বাসাবাড়ির কাজ, দোকানপাটের কার্যক্রম, ছোট ব্যবসা, অনলাইনভিত্তিক কাজ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

অগ্রিম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সময়সূচি জানানো হলে গ্রাহকেরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান। আগ্রান, পারকোল ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের তাই নির্ধারিত সময়ের কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় কাজ পরিকল্পনা করা জরুরি। যাঁদের বাসায় পানি তোলার জন্য বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়, তাঁরা সম্ভব হলে বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণ করতে পারেন। একইভাবে বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস চার্জ দিয়ে রাখা সাময়িক অসুবিধা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এই সময়সূচি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। যেসব দোকান বা ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাজ সরাসরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল, তাদের কাজের সময় পুনর্বিন্যাস করতে হতে পারে। কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, বৈদ্যুতিক মোটর বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিলে কাজের বিঘ্ন কিছুটা কমানো সম্ভব। যেসব প্রতিষ্ঠানে পচনশীল খাদ্য বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় পণ্য সংরক্ষণ করা হয়, তাদেরও বিদ্যুৎ না থাকার সময়ের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দিনের বেলায় অনলাইন ক্লাস, কম্পিউটার ব্যবহার কিংবা ইন্টারনেটনির্ভর পড়াশোনা করার পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ না থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করে কাজ চালানো সম্ভব হলেও চার্জের সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় পড়াশোনার কাজ আগেভাগে সম্পন্ন করা এবং চার্জযুক্ত ডিভাইস প্রস্তুত রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হবে।

তবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের প্রয়োজনীয়তা শুধু সাময়িক অসুবিধার দিক থেকে বিবেচনা করলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের আশপাশে গাছের ডালপালা বেড়ে গেলে ঝড়ো হাওয়া বা বৃষ্টির সময় সেগুলো লাইনের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন, শর্টসার্কিট বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিদ্যুৎ লাইনের পাশের গাছপালা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ডালপালা ছাঁটাই করা নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের অংশ।

নির্ধারিত সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করার মাধ্যমে সম্ভাব্য ত্রুটি শনাক্ত করা এবং সঞ্চালনব্যবস্থার নিরাপত্তা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়। তবে এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার সময় সঞ্চালন লাইনের কাছাকাছি যাওয়া, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার স্পর্শ করা কিংবা নিজ উদ্যোগে লাইনের কোনো অংশে কাজ করার চেষ্টা করা বিপজ্জনক। কোনো তার ঝুলে থাকতে দেখা গেলে বা বৈদ্যুতিক ঝুঁকির লক্ষণ দেখা দিলে সেটি স্পর্শ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। অর্থাৎ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার যে সময়সূচি দেওয়া হয়েছে, তা সর্বোচ্চ নির্ধারিত সময় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে; কাজ দ্রুত শেষ হলে গ্রাহকেরা আগেই বিদ্যুৎ ফিরে পেতে পারেন। তবে কখন কাজ শেষ হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় গ্রাহকদের নির্ধারিত সময় ধরেই প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার ফলে স্থানীয় গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের সাময়িক বিভ্রাট গ্রাহকদের দৈনন্দিন কাজে প্রভাব ফেললেও বিদ্যুৎব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো নিয়মিত সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছে আগাম তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালুর বিষয়ে যথাসময়ে জানানো সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ধারিত সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং বিদ্যুৎনির্ভর কাজগুলো আগেভাগে পরিকল্পনা করা। বিশেষ করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যাঁদের বাসা, ব্যবসা বা কর্মক্ষেত্রে বিদ্যুতের প্রয়োজন বেশি, তাঁদের বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনায় রাখা উচিত। জরুরি চিকিৎসাসেবা বা বিদ্যুৎনির্ভর কোনো প্রয়োজন থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আগেই প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

সব মিলিয়ে, বড়াইগ্রাম উপজেলার আগ্রান, পারকোল ও আশপাশের এলাকায় আজকের বিদ্যুৎ বিভ্রাট নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা থাকলেও কাজ দ্রুত শেষ হলে আগেই সরবরাহ চালু করা হবে। তাই সাময়িক অসুবিধা এড়াতে গ্রাহকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের পরবর্তী নির্দেশনা ও সরবরাহ চালুর সময় সম্পর্কে খোঁজ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com