প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শারদীয় দুর্গাপূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হচ্ছে টানা ছুটি। সাপ্তাহিক ছুটি, দুর্গাপূজার অবকাশ এবং লক্ষ্মীপূজার ছুটি মিলিয়ে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা টানা ১০ দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, কলেজের ছুটির সূচি অনুযায়ী অবকাশের মেয়াদ আরও দীর্ঘ হতে পারে। তবে বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার ছুটির তালিকায় পার্থক্য থাকায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই সময়ে বা সমান দিনের ছুটি কার্যকর হচ্ছে না।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই ছুটিকে ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে স্বস্তি ও বাড়তি আনন্দ। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, বাড়ির কাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যস্ত রুটিন থেকে কয়েক দিনের বিরতি পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় থাকেন, তাঁদের অনেকেই এই অবকাশে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা পারিবারিক কাজে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে ছুটির সঠিক মেয়াদ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা জরুরি।
২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির সূচি অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি এবং পরে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ যুক্ত হওয়ায় বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজার ছুটি কার্যকর হলে ১৬ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
এই ছুটির ফলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও কিছুটা স্বস্তি মিলবে। নিয়মিত পাঠদান, শ্রেণিকক্ষের প্রস্তুতি, মূল্যায়ন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ব্যস্ত থাকেন। ছুটির সময় তাঁরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে সময় দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী পাঠদানের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন। শিক্ষার্থীরাও বিশ্রামের পাশাপাশি পড়াশোনার ঘাটতি পূরণ, বই পড়া এবং নতুন শিক্ষণীয় কাজে সময় ব্যয় করতে পারবে।
তবে ছুটির হিসাব করার সময় একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সব বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ও ছুটির ব্যবস্থাপনা একরকম নয়। নির্ধারিত ছুটির বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরীক্ষা, বিশেষ কার্যক্রম কিংবা কর্তৃপক্ষের আলাদা নির্দেশনা থাকলে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই সাধারণ ছুটির সূচির সঙ্গে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ঘোষণার মিল যাচাই করে নেওয়া উচিত। এতে ছুটি শেষে ক্লাসে ফেরার দিন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
কলেজের ক্ষেত্রে ছুটির মেয়াদ আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ধারিত ছুটির সূচি অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে অবকাশ রাখা হয়েছে। এর আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি এবং পরে ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ যুক্ত হলে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১৬ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘ এই অবকাশ কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন বিশ্রামের সুযোগ তৈরি করবে, তেমনি পড়াশোনার পরিকল্পনা নতুন করে সাজানোরও সময় দেবে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী আসন্ন পরীক্ষা, ভর্তি প্রস্তুতি কিংবা অন্যান্য একাডেমিক লক্ষ্য নিয়ে ব্যস্ত, তারা ছুটির দিনগুলোকে কাজে লাগাতে পারে। তবে দীর্ঘ ছুটি মানেই পড়াশোনা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা নয়। নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস বজায় রেখে বিশ্রাম ও বিনোদনের মধ্যে ভারসাম্য রাখলে শিক্ষার্থীরা ছুটির সময়কে আরও ফলপ্রসূ করতে পারবে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসার ছুটির সূচিতে ভিন্নতা রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি, এমপিওভুক্ত ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয় বা কলেজের মতো মাদ্রাসার সব শিক্ষার্থী একই মেয়াদের ছুটি পাবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার নিজস্ব ছুটির বিজ্ঞপ্তি এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরিকল্পনা করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির এই পার্থক্যের কারণে অভিভাবকদের জন্য আগেভাগে তথ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই পরিবারের একাধিক সন্তান যদি ভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানে পড়ে, তাহলে তাদের ছুটির সময়সূচিও আলাদা হতে পারে। কোথাও দীর্ঘ অবকাশ থাকলেও অন্য প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম ছুটি কার্যকর হতে পারে। এ কারণে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বিদ্যালয়, কলেজ বা মাদ্রাসার নোটিশ বোর্ড, নিজস্ব বিজ্ঞপ্তি কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
শারদীয় দুর্গাপূজা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এই সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রতিমা দর্শন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। ছুটির কারণে শিক্ষার্থীরা পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত, আত্মীয়বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পরিকল্পনাও অনেক পরিবারের মধ্যে দেখা যেতে পারে।
দীর্ঘ ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সময়ের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। শিশু-কিশোরদের বাইরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভিড়পূর্ণ স্থানে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চলাফেরা করার অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ছুটির পুরো সময় মোবাইল ফোন বা অনলাইন বিনোদনে ব্যয় না করে বই পড়া, সৃজনশীল কাজ, খেলাধুলা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
শিক্ষাবিদদের দৃষ্টিতে ছুটি শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি ও নতুন উদ্যম নিয়ে পড়াশোনায় ফেরার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে ছুটির পর পাঠদান যেন নিয়মিত গতিতে ফিরে আসে, সেদিকেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নজর রাখা প্রয়োজন। দীর্ঘ অবকাশের পর ক্লাস শুরু হলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি, পরীক্ষা ও নির্ধারিত শিক্ষাকার্যক্রম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হলে তাদের জন্য পড়াশোনায় ফিরে আসা সহজ হবে।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে আজ থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হচ্ছে ছুটির মৌসুম। মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক বন্ধ এবং নির্ধারিত ছুটি মিলিয়ে ১০ দিনের অবকাশের সুযোগ রয়েছে। কলেজে তা ১৬ দিন পর্যন্ত হতে পারে, আর মাদ্রাসায় ছুটির মেয়াদ আলাদা। তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত সময়সূচি নিশ্চিত করে ছুটির পরিকল্পনা করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত