গাছ কেটে দখল, হুমকিতে মধুপুরের শালবন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ বার
গাছ কেটে দখল, হুমকিতে মধুপুরের শালবন

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশে। সরকারের পক্ষ থেকেও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বিদ্যমান প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলকে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, একদিকে পুরোনো শাল ও গজারি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই জমি দখল করে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ এবং স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রাকৃতিক বনভূমিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে মধুপুরের অনন্য বনজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা।

প্রাকৃতিক শাল-গজারির বন হিসেবে পরিচিত মধুপুর বনাঞ্চল টাঙ্গাইলের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ। বহু বছর ধরে এই বন স্থানীয় প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী, মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, বনের কিছু এলাকায় প্রকাশ্যে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। পরে সেই জমি দখল করে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ করা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে এ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দোখলা রেঞ্জের সদর বিট, চুনিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ফেকামারি এবং জামবাইদ এলাকার প্রায় পাঁচ বিঘা বনভূমিতে পুরোনো শাল ও গজারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব এলাকায় শত শত গাছ কাটা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে এ কারণে যে, কেবল গাছ কেটে কাঠ সংগ্রহের মধ্যেই কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ থাকছে না; গাছ সরিয়ে ফেলা জমি পরবর্তী সময়ে কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এভাবে গাছ কাটা ও জমি দখলের ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে বনভূমির আয়তন ক্রমে সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বনভূমিতে গাছ কাটার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর প্রতিরোধের অভাব রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে গাছ কাটার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন তদন্তের ফলাফল কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি, তারপরও অভিযোগগুলো বন ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের শনাক্ত করা এবং বনভূমি রক্ষায় বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মধুপুর বনাঞ্চলের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো বনভূমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, অরণখোলা বিটের আওতাধীন কিছু জমি দখল করে পাকা ইমারত নির্মাণ করা হচ্ছে। বনভূমিতে এ ধরনের স্থাপনা গড়ে উঠলে তা শুধু জমির ব্যবহার পরিবর্তন করে না, বরং ভবিষ্যতে ওই এলাকা পুনরুদ্ধার করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একবার কোনো বনভূমিতে স্থায়ী বসতি বা স্থাপনা গড়ে উঠলে সেখানে মানুষের উপস্থিতি, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক পরিবেশের জায়গা দখল করে নেয় মানুষের ব্যবহারযোগ্য জমি।

প্রাকৃতিক বন রক্ষার প্রশ্নটি শুধু গাছের সংখ্যা দিয়ে বিচার করার সুযোগ নেই। একটি পরিণত শালবনে বিভিন্ন বয়সের গাছ, গুল্ম, লতাপাতা, মাটির জীব, পাখি, কীটপতঙ্গ এবং অন্যান্য প্রাণীর পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে একটি জটিল পরিবেশব্যবস্থা গড়ে ওঠে। পুরোনো গাছ কেটে ফেললে সেই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নষ্ট হয়ে যায়। নতুন চারা লাগিয়ে কিছুটা সবুজ আচ্ছাদন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা একটি প্রাকৃতিক বনের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য দ্রুত পুনর্গঠন করা যায় না। তাই বন সংরক্ষণে নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি পুরোনো প্রাকৃতিক বন অক্ষত রাখাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

শাল ও গজারি গাছ বনভূমির কাঠামো ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের শিকড় মাটি আঁকড়ে রাখে, পাতাঝরা ও পচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ হয় এবং বনাঞ্চলের ভেতরে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার একটি স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় থাকে। গাছের আচ্ছাদন কমে গেলে মাটির ওপর সরাসরি রোদ ও বৃষ্টির প্রভাব বাড়তে পারে। এতে মাটির গুণাগুণ পরিবর্তন, ক্ষয় এবং বনের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে বনের ওপর নির্ভরশীল প্রাণীদের খাদ্য ও আশ্রয়ের জায়গা কমে যেতে পারে।

পরিবেশগত দিকের পাশাপাশি মধুপুর বনাঞ্চলের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবিকার সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। বনকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক পরিচয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বন সংকুচিত হলে এর প্রভাব শুধু গাছ বা বন্যপ্রাণীর ওপর পড়ে না; স্থানীয় পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বনভূমি টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বন সংরক্ষণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা না করে তাঁদের অংশগ্রহণ, সচেতনতা ও ন্যায্য স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী রাতুল মুন্সি বলেছেন, বন বিভাগের লোকজনের বন কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পুরোনো। তাঁর মতে, বনের জীববৈচিত্র্য কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা না গেলে বন রক্ষা করা কঠিন হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক বনের কিছু সুফলভোগীও গাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত থাকছেন, অথচ বিষয়টি বন বিভাগের অজানা থাকার কথা নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বন কাটার ঘটনায় কাঠ জব্দ বা মামলা করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা দিয়ে একা বন রক্ষা করা সম্ভব নয়; মানুষের সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধও প্রয়োজন।

রাতুল মুন্সির বক্তব্যে বন সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা উঠে এসেছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বনভূমির ওপর মানুষের চাপ, স্থানীয় পর্যায়ে স্বার্থের সংঘাত এবং বন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রমাণের ভিত্তিতে তা যাচাই করা জরুরি। বন রক্ষার নামে সাধারণ বননির্ভর মানুষকে হয়রানি করা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি প্রভাবশালী কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা উপেক্ষা করাও উচিত নয়। স্বচ্ছ তদন্ত, নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমেই বন ব্যবস্থাপনায় আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

অভিযোগের বিষয়ে দোখলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আমিনুর রহমান জানিয়েছেন, জামবাইদ এলাকার বন সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অন্যদিকে বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ওই এলাকায় বন কাটার বিষয়ে তাঁরা অবগত এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে সেখানে গাছ কাটা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে ঘটনাটি সম্পর্কে বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবগতির অবস্থানে পার্থক্য দেখা যায়। ফলে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট স্থান, গাছ কাটার সময়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এসবি তানবির আহমদ ইমন জানিয়েছেন, তাঁকে তথ্য দেওয়া হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেছেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তাকে সেখান থেকে সরানো হয়েছে। ছবি ও তথ্য পাঠানো হলে সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে কর্মকর্তার বদলি বা তদন্তের আশ্বাসই যথেষ্ট নয়; অভিযোগের সত্যতা যাচাই, বনভূমির সীমানা নির্ধারণ, অবৈধভাবে কাটা গাছের হিসাব এবং দখল হয়ে যাওয়া জমির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।

মধুপুর বনাঞ্চল রক্ষায় এখন সবচেয়ে জরুরি হলো অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। কোন এলাকায় কত গাছ কাটা হয়েছে, জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে কি না, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ ছিল কি না এবং আগের অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা দরকার। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল, গাছ কাটার সরঞ্জাম ও কাঠ পরিবহনের ওপর আইনসম্মত নজরদারি, বনভূমির সীমানা চিহ্নিতকরণ এবং অবৈধ দখল ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কোনো স্থাপনা বা কৃষিকাজ অবৈধ বনভূমি দখলের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে বলে প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৫ লাখ বৃক্ষরোপণের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণের গুরুত্ব আরও বেশি। বৃক্ষরোপণ পরিবেশ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলেও নতুন চারা লাগানোর মাধ্যমে পুরোনো বন ধ্বংসের ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ করা যায় না। একটি কার্যকর পরিবেশনীতি তাই নতুন গাছ লাগানো, বিদ্যমান বন রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধ—সবকিছুকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। বৃক্ষরোপণের সাফল্য শুধু কতটি চারা লাগানো হলো, তা দিয়ে নয়; কতটি চারা টিকে রইল এবং কতটুকু প্রাকৃতিক বন অক্ষত রাখা গেল, তা দিয়েও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

মধুপুরের শাল-গজারির বন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এই বন রক্ষা করা কেবল বন বিভাগের দায়িত্ব নয়; সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, পরিবেশকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদেরও ভূমিকা রয়েছে। তবে দায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে কার্যকর প্রশাসনিক তদারকি ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ। অভিযোগ তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, অনিয়মের বিরুদ্ধে দুর্বল ব্যবস্থা কিংবা বনভূমি দখলকে উপেক্ষা করা হলে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বনাঞ্চলের অবশিষ্ট সম্পদ রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই প্রাকৃতিক সম্পদ টিকিয়ে রাখার সুযোগ থাকবে। এখন প্রয়োজন আশ্বাসের পাশাপাশি দৃশ্যমান পদক্ষেপ, যাতে মধুপুরের বন কেবল মানচিত্রে নয়, বাস্তবেও বেঁচে থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com