প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়লেও হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের নিরাপত্তা এবং অনুমোদন নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে গড়ে ওঠা দেড় শতাধিক হোটেল ও রিসোর্টের একটিরও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে কাঠ, বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে নির্মিত এসব স্থাপনার অনেকগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ফায়ার লাইসেন্স এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের ঘাটতি রয়েছে। ফলে পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পর্যটকদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব যেসব প্রতিষ্ঠানের, সেগুলোরই একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীনভাবে ব্যবসা পরিচালিত হলেও কার্যকর তদারকি, নিয়মিত পরিদর্শন এবং আইন প্রয়োগের ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), পরিবেশ অধিদপ্তর এবং হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ছয় শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট-কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য অংশের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা পরিচালনা করছে। অথচ পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবনের বৈধতা নিশ্চিত করতে একাধিক সরকারি দপ্তরের অনুমোদন ও ছাড়পত্র প্রয়োজন হতে পারে।
কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে পর্যটন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের ইনানী ও পাটুয়ারটেক এলাকাতেও পর্যটকদের জন্য তৈরি হয়েছে নানা ধরনের আবাসন ও বিনোদনকেন্দ্র। সমুদ্র, পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি এবং মনোরম পরিবেশের কারণে এসব স্থাপনা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে নিরাপত্তা ও অনুমোদনসংক্রান্ত ঘাটতি থাকলে তা পর্যটকদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে কাঠ ও বাঁশের তৈরি রিসোর্টগুলোতে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে রান্নার কাজে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার, বৈদ্যুতিক তারের ত্রুটি এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের অভাব ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। পর্যটন মৌসুমে এসব স্থাপনায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান করেন। ফলে কোনো ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং উদ্ধারকাজে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম জানিয়েছেন, সমিতির তালিকাভুক্ত অধিকাংশ হোটেলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে। তবে জেলার অনেক রিসোর্ট ও কটেজের অনুমোদন নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রচলিত নিয়মকানুন অনুসরণ না করায় সেগুলোকে সমিতির আওতায় আনা হয়নি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈধ কাঠামোর মধ্যে আনা গেলে পর্যটনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যেও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স শাখার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি বছর মাত্র ৫০টি হোটেল তাদের কাছ থেকে লাইসেন্স নবায়ন করেছে। এ ছাড়া মোট ১০০টি আবেদন জমা পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে প্রায় ২০০টি হোটেলের ফায়ার লাইসেন্স ছিল। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, জনবলসংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে লাইসেন্স গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। তাঁর মতে, ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় ফায়ার লাইসেন্সের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হলে অনেক প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য হতো। ব্যবসায়ীদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা ছাড়া শতভাগ স্থাপনাকে নিরাপত্তার আওতায় আনা কঠিন বলেও তিনি মনে করেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেছেন, জেলায় হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এসব প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে টুপটুপ রিসোর্টকে দুবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উদ্বেগ রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সতর্ক না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শুধু অগ্নিনিরাপত্তা নয়, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনাও কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামোর অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অনেক হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁয় যথাযথ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই কিছু প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পর্যটন এলাকায় অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কক্সবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ মোর্শেদ জানিয়েছেন, জেলায় সর্বোচ্চ ৫০টি হোটেলের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে। ছাড়পত্র না থাকায় গত এক বছরে ৫৮টি হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট-কটেজ ও রেস্তোরাঁকে প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অবস্থিত শতাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে সব ধরনের আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁর জন্য একই অনুমোদন প্রযোজ্য নয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণত ২০ কক্ষের কম আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয় না। একইভাবে ৩০ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের কিছু রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রেও ছাড়পত্রের বাধ্যবাধকতা নেই। এসব বিধানের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোন অনুমোদন বাধ্যতামূলক, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট আইন, স্থাপনার ধরন, অবস্থান ও কার্যক্রমের ওপর।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট-কটেজ অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আবেদন করা আর সব শর্ত পূরণ করে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া এক বিষয় নয়। ফলে প্রকৃতপক্ষে কতটি প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে হালনাগাদ ও সমন্বিত তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন।
কক্সবাজারের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেছেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রশাসন সক্রিয় হয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু তার আগে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে দিনের পর দিন ব্যবসা পরিচালনা করে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তাঁর মতে, জেলার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের সঠিক হিসাব না থাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটি ও দপ্তর থাকার পরও যদি প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে এসব কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
জেলা প্রশাসক আ. মান্নানও কক্সবাজারে অনেক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, পর্যটন করপোরেশন, কউক ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, মেরিন ড্রাইভের স্থাপনাগুলোর বৈধতা নিয়ে কউকের অবস্থান আরও কঠোর। কউকের প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের আশপাশে গড়ে ওঠা হোটেল ও রিসোর্টগুলোর কোনো অনুমোদন নেই। এলাকাটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানে নতুন স্থাপনার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর তথ্য অনুযায়ী, মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে দেড় শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব স্থাপনাকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার নোটিশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো অপসারণ করা হয়নি। চলতি মাসে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন। তবে অভিযান বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট স্থাপনার প্রকৃত অবস্থা যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কউকের বক্তব্য অনুযায়ী, কক্সবাজার পৌর এলাকায় সমুদ্রতট থেকে ৩০০ মিটার এবং পৌরসভার বাইরে ৫০০ মিটারের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। এদিকে নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হলে ভবিষ্যতে পর্যটন অবকাঠামোর ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পর্যটনশিল্প কক্সবাজারের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও অন্যান্য সেবার ওপর নির্ভর করে বহু মানুষের আয়-রোজগার। তাই অনুমোদনহীন স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য স্বচ্ছ অনুমোদনপ্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং নিয়ম মেনে চলার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা যায় না।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনা, জরুরি নির্গমনপথ এবং পরিবেশগত শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন। নিয়মিত পরিদর্শন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকা প্রকাশ, প্রয়োজন অনুযায়ী জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা এবং কার্যকর তদারকি ছাড়া পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি সম্ভব নয়।
কক্সবাজারের পর্যটনকে নিরাপদ ও টেকসই করতে হলে দুর্ঘটনার পর সাময়িক তৎপরতার পরিবর্তে নিয়মিত নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সমুদ্র দেখতে আসা পর্যটক যেন অনিরাপদ আবাসনে প্রাণহানির আশঙ্কা নিয়ে থাকতে বাধ্য না হন, আর স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও যেন নিয়ম মেনে টেকসইভাবে ব্যবসা করতে পারেন—এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত