সর্বশেষ :
প্রথমবার মার্কিন সফরে চরমোনাই পীর: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নানা আলোচনা তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৬, তাইওয়ানে টাইফুনের আঘাত কালীগঞ্জে পুলিশ টহল দলকে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা: এসআই ও পথচারী নিহত কুতুবদিয়ায় জেলেপল্লীতে ভয়াবহ আগুন: পুড়ে ছাই ৩৩ বসতঘর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে: মীর শাহে আলম সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: শামা ওবায়েদ বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ করবে জাপান সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী লংমার্চ জনগণ মেনে নেবে না: এ্যানি সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশে বিলম্ব: হতাশ বগুড়ার ব্যবসায়ীরা রায়গঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন: পুড়ল ৭৫ লাখ টাকার মালামাল

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে: মীর শাহে আলম

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬ বার
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে: মীর শাহে আলম

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’-এর শুভ উদ্বোধনী ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দের অনুপস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, যারা সারা দিনজুড়ে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে রাজনীতি করেন এবং সংবাদমাধ্যমে উচ্চবাচ্য করেন, তারা যথারীতি রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে জাতির সামনে ধোঁকাবাজি ও চরম রাজনৈতিক দ্বিচারিতার পরিচয় দিয়েছেন। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতীয় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সবার নৈতিক দায়িত্ব থাকলেও বিরোধী দলের নেতারা নানা খোড়া যুক্তি দাঁড় করিয়ে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থেকেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

শুক্রবার সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি ১৯ অক্টোবরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, ঢাকার ওসমানী উদ্যানে সরকারের সার্বিক সহায়তায় নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে দেশের সব সমমনা, সহযোগী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক দাওয়াত কার্ড পাঠিয়েই ক্ষান্ত হওয়া হয়নি, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম স্বয়ং টেলিফোনেও সব শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি ও দাওয়াত নিশ্চিত করেছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, উদ্বোধনী দিনে অত্যন্ত আবেঘন ও ঐতিহাসিক এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই অভ্যুত্থানের অমর শহীদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও আনাসের বাবা এবং আরও এক শহীদের রত্নগর্ভা মাকে সঙ্গে নিয়ে মোট চারটি শহীদ পরিবারের হাতে হাত রেখে স্মৃতিস্তম্ভটি উন্মোচন করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ এক দশক পর আমূল সংস্কারকৃত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানটিকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় গ্যাজেটভুক্ত ৮৩৪ জন বীর শহীদের নাম খোদাই করা এই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু অত্যন্ত আফসোসের বিষয় হলো, অভ্যুত্থানের শহীদদের নাম ভাঙিয়ে যারা সবসময় বক্তব্য দেন, সেই দলগুলোর দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের সামপ্রতিক বক্তব্যের সরাসরি কড়া জবাব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দাওয়াত কার্ডে বিরোধী দলীয় নেতার নাম উল্লেখ ছিল না বিধায় তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি বলে যে অজুহাত দাঁড় করানো হয়েছে, তা একেবারেই অবান্তর ও মিথ্যা। কারণ উক্ত অনুষ্ঠানে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, বামপন্থী নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের নামও মূল দাওয়াত কার্ডে ছিল না। তা সত্ত্বেও প্রটোকলের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের প্রত্যেককে নিজ উদ্যোগেই সম্মানিত মঞ্চে ডেকে নেন। বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে দাওয়াত গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতিনিধিকেও মঞ্চে ডেকে নিয়ে উপযুক্ত সম্মান দিতেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের অন্যান্য রাজনৈতিক মন্তব্যের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দল সরকারের কাছ থেকে সম্মান ও সকল রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, যাকে তিনি মিষ্টি বা ‘চকলেট’ প্রাপ্তির সঙ্গে তুলনা করেন। অতীতে বিরোধী দলে থাকার সময় রাজপথে বসার ন্যূনতম জায়গা কিংবা মত প্রকাশের অধিকার পাওয়া যায়নি, অথচ বর্তমান সরকার বিরোধী দলকে পূর্ণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিয়েছে। তাই নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বেহেস্তের কথা বলে ভোট নেওয়ার সস্তা রাজনীতি বন্ধ করার পরামর্শ দেন তিনি। মীর শাহে আলম বলেন, কিছু দল ভোটের আগে মানুষকে বেহেস্তের লোভ দেখায় এবং দুর্গাপূজায় মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে ঢাকের তালে নাচে, অথচ নির্বাচনের পর বাস্তব জীবনে পূজামণ্ডপে কিংবা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুখে-দুঃখে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশেষ কোনো ধর্ম বা জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বা পুঁজি করে যারা রাজনীতি করে, তাদের আসল চেহারা এবং পরিণতি দেশের মানুষ বহুবার দেখেছে। বিএনপি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করে না, বিএনপি বিশ্বাস করে বাংলাদেশের সবাই সমান নাগরিক এবং দেশপ্রেমিক জনগণের হৃদয় জয় করেই দল আবারও ক্ষমতায় যাবে।

ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী রাজনৈতিক অঙ্গনে বাকস্বাধীনতার নামে অশালীন ও অপমানজনক ভাষা প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক বার্তা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বাকস্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে কেউ যদি অশালীন ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার অব্যাহত রাখে, তবে ঐতিহ্যবাহী জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি তা বরদাশত করবে না। একই সঙ্গে তিনি নিজ দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে দৃঢ় মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, সুবিধাভোগী বা ‘বট’ বিএনপির মধ্যেও অনুপ্রবেশ করেছে। দলের মধ্যে কারা এই ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপকর্ম করছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ্যহীন রাজপথের একতরফা আন্দোলন, সংঘাত ও লংমার্চ পরিহার করে অবিলম্বে সংসদে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আগামী ৯ নভেম্বর থেকে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। সংবিধানে বিরোধী দলের দায়িত্ব ও মর্যাদা সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে। সংসদে স্পিকারের সামনে অবাধে নিজেদের মতামত প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ রয়েছে। সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করাও সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অপূর্ব সৌন্দর্য।

শুক্রবার সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ ও স্পর্শকাতর সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কড়া রাজনৈতিক মন্তব্য প্রদান করেন। গত ১৯ অক্টোবর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত স্মারক স্মৃতিস্তম্ভের শুভ উদ্বোধনের সার্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় বলেন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত বিশেষ অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় ঐক্য ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে দেশের সকল সমমনা, রাজনৈতিক সহযোগী এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলসহ সার্বিক দলগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণপত্র বা কার্ড পৌঁছানো হয়েছিল। কেবল প্রথাগত চিঠি বা দাওয়াত কার্ড পাঠিয়েই আয়োজকরা থেমে থাকেননি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম স্বয়ং মুঠোফোনে সকল শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জোরালো অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মুহূর্তের বিশদ বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মহান শহীদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ এবং বীর সন্তান আনাসের সম্মানিত পিতা এবং অন্য এক শহীদের রত্নগর্ভা বীর মাতাকে সঙ্গে নিয়ে সর্বমোট চারটি শহীদ পরিবারের অভিভাবককে স্বীয় পাশে বসিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির শুভ ফলক উন্মোচন করেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘ এক দশক ধরে অবহেলিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ঢাকার প্রাণকেন্দ্রের ঐতিহ্যবাহী ওসমানী উদ্যানটিকে পুনরায় আমূল আধুনিকায়ন করে দেশের আপামর সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তৎকালীন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবন দেওয়া গ্যাজেটভুক্ত ৮৩৪ জন বীর শহীদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে খোদাই করে রাখা এই বিশাল স্মৃতিস্তম্ভটি জাতির ইতিহাসের এক অনন্য ও অমর স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। অথচ অত্যন্ত আফসোসের বিষয় হলো, যারা সারাদিন জুলাই আন্দোলন ও শহীদদের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতির মাঠে ফায়দা লুটতে চান, তাঁরা সেই সুবর্ণ মুহূর্তে জাতীয় শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র ও সরাসরি জবাব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দাওয়াত কার্ডে বিরোধী দলীয় নেতার নাম স্পষ্টভাবে লেখা ছিল না বলে তাঁরা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি—এমন অজুহাত সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন। কারণ ১৯ অক্টোবরের সেই ঐতিহাসিক জাতীয় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আসা প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, বামপন্থী জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম শীর্ষ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের নামও মূল দাওয়াত কার্ডের ছাপা তালিকায় ছিল না। তা সত্ত্বেও প্রটোকল বা আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে উদার ও মানবিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের প্রত্যেককে অত্যন্ত সম্মান জানিয়ে মূল মঞ্চে ডেকে নিয়ে পাশে বসিয়েছেন। বিরোধী দলের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক সংীর্ণতা ভুলে যদি সরকারের দাওয়াত গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতেন, তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই তাঁদের প্রতিনিধিকেও পরম সম্মানে মঞ্চে ডেকে নিয়ে উপযুক্ত স্থান দিতেন।

জামায়াতের নেতৃত্বের অপরাপর রাজনৈতিক মন্তব্যের ব্যবচ্ছেদ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিরোধী দল সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ গণতান্ত্রিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করছে, যাকে তিনি রূপক অর্থে ‘চকলেট’ প্রাপ্তির সঙ্গে তুলনা করেন। অতীতে বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন রাজপথে সভা-সমাবেশ করা তো দূরের কথা, কোনো মঞ্চে বসার ন্যূনতম জায়গা কিংবা মত প্রকাশের মৌলিক অধিকারটুকুও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অথচ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিরোধী দলকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে রাজনীতি করার পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। এই অবস্থায় নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষকে ধর্মীয় আবেগ ও জান্নাতের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায় করার সস্তা রাজনৈতিক চর্চা বন্ধ করার কড়া তাগিদ দেন তিনি।

মীর শাহে আলম অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনের পূর্বে সাধারণ মানুষকে ধর্মীয় প্রলোভন দেখায়, আবার শারদীয় দুর্গোৎসবে গিয়ে বিভিন্ন মণ্ডপে ঢোকার সুবিধার্থে ঢাকের তালে তালে নাচানাচি করে; কিন্তু নির্বাচনের পর কোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপদে বা সার্বজনীন পূজামণ্ডপে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের আবেগকে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করে, তাঁদের আসল রূপ ও পরিণতি দেশবাসী ইতিপূর্বে বহুবার প্রত্যক্ষ করেছে। বিএনপি কোনো বিশেষ সুবিধাভোগী বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে না; বিএনপির দর্শনে দেশের প্রতিটি মানুষই সমান অধিকারভোগী ‘বাংলাদেশি’ এবং সাধারণ জনগণের হৃদয়ের আস্থা জয় করেই বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে।

ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী রাজনৈতিক বক্তব্য বা বাকস্বাধীনতার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনসভায় অশালীন, মানহানিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষা প্রয়োগ না করার বিষয়ে চরম সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে অশালীন ভাষাপ্রয়োগ অব্যাহত রাখা হলে জাতীয়তাবাদী শক্তির কোটি কোটি নেতা-কর্মী তা নীরবে মেনে নেবে না। পাশাপাশি নিজ দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে সুবিধাবাদী কিছু অসাধু লোক বা ‘বট’ দলটির মূল স্রোতে প্রবেশ করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিএনপির ভেতরে গোপনে অবস্থান নেওয়া এসব বিতর্কিতদের চিহ্নিত করতে বিশেষ নজরদারি ও গোপন তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অপরাধ প্রমাণ হওয়া মাত্রই তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিরোধী দলকে অনর্থক রাজপথের একতরফা আন্দোলন, সংঘাত কিংবা তথাকথিত লংমার্চের অশুভ পথ পরিহার করে সরাসরি জাতীয় সংসদে এসে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আকুল আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আগামী ৯ নভেম্বর থেকে জাতীয় সংসদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। সংবিধানে বিরোধী দলের মর্যাদা, বক্তব্য রাখার স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক ভূমিকা স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সংসদে স্পিকারের সামনে দাঁড়িয়ে সরকারের যেকোনো ভুলত্রুটি বা নীতিমালার অবাধ সমালোচনা করার অখণ্ড অধিকার তাঁদের রয়েছে। এমনকি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ওয়াকআউট করাও সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অপূর্ব সৌন্দর্য, যা শেষ করে পুনরায় সংসদে ফিরে আসার নিয়ম রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জুলাই ঐতিহাসিক সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যেই নতুন গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ এখনো শূন্য রাখা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিরোধী দল সেখানে প্রতিনিধি প্রেরণ না করে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি বিরোধী দলকে অনতিবিলম্বে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার পথ ছেড়ে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নিজেদের ৫ জন উপযুক্ত প্রার্থীর নাম জমা দিয়ে জুলাই সনদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয়ভাবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। প্রেস ব্রিফিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার পর প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে স্থানীয় মেধাবী শিক্ষার্থী ও গুণী শিক্ষকদের মধ্যে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

সংঘাত ছেড়ে দায়িত্বশীল রাজনীতির চর্চা করার পরামর্শ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই ঐতিহাসিক সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পাঁচটি সদস্য পদ সম্পূর্ণ শূন্য রাখা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিরোধী দল সেখানে প্রতিনিধি না দিয়ে অসহযোগিতা করছে। তিনি সংঘাতের পথ ত্যাগ করে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যেকোনো মুহূর্তে পাঁচজন প্রতিনিধির নাম পাঠিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন। প্রেস ব্রিফিং শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত স্থানীয় প্রতিভাবান শিক্ষক ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com