প্রকাশ: ১৭ অগাস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, মস্কো সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় এবং সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সম্মান জানায়। সম্প্রতি আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বৈঠক শেষে দেশে ফিরে রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে পুতিন সফরের ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি এই বৈঠককে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ক্রেমলিন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আলাস্কার বৈঠকে পুতিন ও ট্রাম্প তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় উভয়পক্ষ বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনা ও ইউক্রেন সংকটের মতো জটিল বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। পুতিন জানান, বৈঠকে সংকটের মূল কারণগুলো নিয়ে গভীরভাবে কথা হয়েছে এবং সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এই মূল কারণগুলো দূর করতে পারলেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
পুতিন বলেন, “এটি ছিল আমাদের আমেরিকান প্রতিপক্ষদের কাছে রাশিয়ার অবস্থান শান্তভাবে এবং বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ। আমরা মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানকে সম্মান করি। তারা দ্রুত শত্রুতা বন্ধের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এবং আমরা একইভাবে চাই সবকিছু শান্তিপূর্ণ পথে সমাধান হোক।” তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল উন্মুক্ত ও বাস্তবসম্মত, যা উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় সমাধানের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
বৈঠকের শেষে পুতিন ও ট্রাম্প দুজনকেই বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা যায়। পুতিন দাবি করেন, তারা একটি “বোঝাপড়ায়” পৌঁছেছেন। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে এখনো কোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলাস্কার এই বৈঠক ভবিষ্যতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। যদিও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নানা দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনও রয়ে গেছে, তবুও উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতাদের এমন সংলাপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে—এই বৈঠকের ফলাফল বাস্তবিক সমঝোতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতটা কার্যকর হয়।