যে কারণে ৩০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিচ্ছে গুগল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৪ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ নিয়ে গুগলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আবারও বড় অঙ্কের জরিমানার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো। ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই তথ্য সংগ্রহ করার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলার নিষ্পত্তি করতে গুগল সম্মত হয়েছে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে ফেডারেল কোর্টে চলছিল এবং সোমবার (১৯ আগস্ট) সেখানে প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি দাখিল করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে শিশুদের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শিশু সুরক্ষা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে তাদের বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে, মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে জরিমানা দিতে সম্মত হলেও গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) এবং নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের যৌথ তদন্তে একই ধরনের অভিযোগে গুগলকে দিতে হয়েছিল ১৭০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা। বারবার একই ধরনের লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় প্রযুক্তি জায়ান্টটির গোপনীয়তা সুরক্ষার নীতিমালা ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যথেষ্ট অঙ্কের আর্থিক জরিমানা পরিশোধের পরও যদি একই ধরণের অনিয়ম থেকে যায়, তবে এর পেছনে হয় কাঠামোগত সমস্যা, নয়তো দায়সারা মনোভাব কাজ করছে।

এই মামলার প্রভাব শুধু গুগলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র প্রযুক্তি শিল্পকে নতুন করে শিশুদের গোপনীয়তা সুরক্ষা ইস্যুতে ভাবতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে এমন সময়ে এই ঘটনা সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে আইন কঠোর করা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক এবং টেক্সাসসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে সম্প্রতি এমন আইন পাস হয়েছে, যেখানে নাবালকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের আগে বয়ঃসীমা যাচাই এবং অভিভাবকের সম্মতি নিশ্চিত করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আইনপ্রণেতা ও শিশু অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের তথ্য ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন টার্গেটিংয়ের মতো কাজ করছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের অনিয়ম প্রতিরোধে কেবল জরিমানা নয়, বরং কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রযুক্তিগত নীতিমালা ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।

গুগল যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করছে, তবে বারবার একই ধরণের মামলার মুখে পড়া এবং বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হওয়া প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও ব্যবসায়িক অবস্থানকে চাপে ফেলছে। এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অন্যান্য দেশেও শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে, এবং অনেকেই মনে করছেন ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত