প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
এবারের হজে নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ. ম. খালিদ হোসেন। তার ভাষায়, সৌদি সরকারের সম্মতি পাওয়া গেলে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ড. খালিদ হোসেন বলেন, হজযাত্রী নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল ১২ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে মোট ৫৯ হাজার ৮৫৯ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। এর পর থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে সৌদি সরকারের সঙ্গে আগামীকাল (১৪ অক্টোবর) বৈঠকের পর সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সময় বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিতে পারে।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও জানান, হজ এজেন্সিগুলোর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যাতে সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের সংখ্যা জানাতে বলা হয়েছে। এই তথ্যই সৌদি সরকারের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, “যদি অনেক যাত্রী নিবন্ধনের অপেক্ষায় থাকেন, তাহলে আমরা সময় বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরব।”
এবারের হজে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থার কোটা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ যতজন নিবন্ধন করবেন, ততজনই হজে যেতে পারবেন। চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ২৬ মে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র হজ।
সংবাদ সম্মেলনে ড. খালিদ হোসেন আরও জানান, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ‘মাসার নুসুক’ প্ল্যাটফর্মে জমা থাকা অব্যয়িত ৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকারও বেশি অর্থ ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশের ৯৯০টি হজ এজেন্সি। এই অর্থ ফেরত আনতে ধর্ম মন্ত্রণালয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ও একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছে। তারই ফলশ্রুতিতে সৌদি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হজ অফিসের আইবিএএন হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত দিয়েছে।
ধর্ম উপদেষ্টা জানান, সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থায় হজযাত্রীদের খরচ নির্বাহের জন্য সৌদি প্রান্তে পাঠানো অর্থের কিছু অংশ অব্যয়িত অবস্থায় ছিল। সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোর অনুরোধে ধর্ম মন্ত্রণালয় এই অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয়। মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টায় সৌদি কর্তৃপক্ষ অবশেষে সেই অর্থ ফেরত দিতে সম্মত হয়। ইতোমধ্যে ফেরত পাওয়া অর্থ বাংলাদেশ হজ অফিসের ‘মাসার নুসুক’ প্ল্যাটফর্ম থেকে সৌদি ফ্রান্সি ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এই অর্থ ফেরত পাওয়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতার বড় সাফল্য। হজযাত্রীদের সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
একই সংবাদ সম্মেলনে ড. খালিদ হোসেন জানান, দাওরায়ে হাদিস সনদপ্রাপ্ত কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা আপাতত এ বিষয়ে অগ্রসর হচ্ছি না।”
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মু. আ. আউয়াল হাওলাদার, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম, প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমতিয়াজ হোসেন, যুগ্মসচিব (হজ) ড. মঞ্জুরুল হক এবং উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, সময়সীমা বাড়ানো গেলে আরও অনেক আগ্রহী ধর্মপ্রাণ মানুষ এবারের পবিত্র হজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।