প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে, আর নতুন করে ৮০৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে একজন করে ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। নতুন এই চারজনের মৃত্যুর পর চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৯ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া ৮০৩ জনের মধ্যে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী এসেছে। বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৭ জন, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় ১৪৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩০ জন, খুলনা বিভাগে ৪৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ১৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৭১ জন রোগী। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬০ হাজার ২৬৩ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে একই সময়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ১৭০ জনে দাঁড়ানোয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখনো ঝুঁকি রয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা ধীরগতিতে শুরু হলেও অক্টোবর মাসে আক্রান্তের সংখ্যা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, বৃষ্টিপাত ও শহরাঞ্চলে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন অব্যাহত থাকায় এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশই জ্বর, তীব্র শরীর ব্যথা, বমি, ও প্লাটিলেট কমে যাওয়ার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ঘরের আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পুরনো টায়ার, ক্যান বা বোতলে পানি জমতে না দেওয়া এবং প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে মশা নিধন স্প্রে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও পৌর কর্তৃপক্ষকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নগরীর ড্রেন, খোলা নালা ও নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি পরিদর্শন এবং নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা জনগণকে অনুরোধ করেছেন— জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং নিজে থেকে ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রথম দেখা দেয় ২০০০ সালে, তবে গত কয়েক বছরে রোগটির বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। চলতি বছরও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিধন কার্যক্রমে স্থায়ী সমাধান ও সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও প্রতিদিনের জীবনে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।










