চট্টগ্রামে হত্যার ঘটনায় সাবেক পুলিশ কমিশনার সাইফুল ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৫ বার
চট্টগ্রামে হত্যার ঘটনায় সাবেক পুলিশ কমিশনার সাইফুল ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামে জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১-এ তাকে উপস্থিত করা হয়। এই হাজিরি দেশজুড়ে বড় ধরনের সমালোচনা ও নজর কাড়েছে, বিশেষ করে মানবাধিকার রক্ষা ও শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে।

মো. সাইফুল ইসলামকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তখন তিনি নগরীর চান্দগাঁও থানার একটি মামলায় আটক হন এবং এ পর্যন্ত জেলহাজতে ছিলেন। গ্রেফতারের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্ত চলছে, যা মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা মো. ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত এবং মো. ফারুক হত্যার ঘটনায়।

জুলাই আন্দোলন চলাকালে, চলমান সরকারের নজরে থাকা আন্দোলনকারীদের ওপর অত্যাচার ও হত্যার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। সেই সময় নিরীহ ছাত্র-জনতা আন্দোলন চালাচ্ছিল, যেখানে তারা সমতার দাবিতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে বৈষম্য রোধের লক্ষ্য নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ২৫টিরও বেশি মিথ্যা মামলা দিয়ে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়েছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম ও তার অধীনস্থ কর্মকর্তারা ছাত্রদের ওপর সহিংসতা চালাতে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী এবং সামাজিক মাধ্যমের ভিডিও ও ছবি এই অভিযোগের সমর্থন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একাধিক হত্যার ঘটনা নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ।

সাইফুলের ট্রাইব্যুনালে হাজিরির দিন সকাল থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে নজরদারি রাখা হয়। সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং আন্দোলন সমর্থকরা আদালতের বাইরে উপস্থিত ছিলেন। তারা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের ভেতরে আইনজীবী ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা সাবেক কমিশনারের বক্তব্য নেন, যেখানে তিনি নিজের নিরাপত্তা ও আইনগত প্রতিকার দাবি করেন।

অভিযোগ ও তদন্তের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাইফুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো শুধু হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুলিশের অধীনে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন, নিরীহ আন্দোলনকারীদের উপর অত্যাচার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের অভিযোগও রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মামলাটি শুধুমাত্র চট্টগ্রামের জন্য নয়, সমগ্র দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ এটি প্রমাণ করবে যে সরকারি কর্মকর্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব কতটা পালন করা হয়েছে।

মামলার প্রাথমিক শুনানিতে দেখা গেছে, তদন্তকারীরা বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, যেখানে মোবাইল ফোনের কল লিস্ট, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি এবং অন্যান্য প্রমাণাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলো মামলার দিকে এক নতুন দিক নির্দেশ করছে এবং সাইফুলের ভূমিকা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে।

সার্বিকভাবে এই ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই মামলার দিকে নজর রাখছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই বিচার প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে এবং যারা নিরীহ জনগণের ওপর সহিংসতা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা দিকও প্রকাশ পায়, যেখানে দেখা যায়, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এবং আন্দোলনকারীদের উপর বর্বরতা চালানো হয়েছিল। এতে স্থানীয় জনগণ এবং শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে যথেষ্ট উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সরকারি তদন্তে এসব প্রমাণ সংগ্রহ ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিতর্কের সমাধান আনা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মো. সাইফুল ইসলামের ট্রাইব্যুনালে হাজিরি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দায়িত্বের প্রমাণ নয়, বরং এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দিকেও ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য কর্মকর্তাদের জন্যও এটি একটি বার্তা হিসেবে কাজ করবে, যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং ট্রাইব্যুনালে হাজিরির ঘটনা সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি সাধারণ জনগণকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং নিরীহ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

চট্টগ্রামের জনমনে এই মামলার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থী ও সমাজের অন্যান্য অংশ বিশেষ এই ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তারা আশা করছেন, মামলার ন্যায্য বিচারে অভিযুক্তদের দায়িত্ব প্রমাণিত হবে এবং বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরায় ঘটতে না পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত