প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সৌদি আরব সরকার ওমরাহ ভিসার প্রযোজ্য সময়সীমা নতুন করে নির্ধারণ করেছে। এর আগে ওমরাহ ভিসা ইস্যুর তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও এখন তা এক মাসের মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নিয়ম ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ভিসা ইস্যুর এক মাসের মধ্যে দেশটিতে প্রবেশ করতে হবে, অন্যথায় ভিসাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। যদিও দেশে প্রবেশের পর সর্বোচ্চ অবস্থানের সময়সীমা আগের মতো তিন মাসই বহাল থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আহমেদ বাজায়েফার এ সিদ্ধান্তকে মূলত আবহাওয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রীষ্মকাল শেষে শীতল আবহাওয়ার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় বিপুলসংখ্যক ওমরাহযাত্রী আগমন করেন। এ জন্য নিরাপদ ও সুচারুভাবে ভিসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই পদক্ষেপ যাত্রীদের প্রবেশ প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করবে এবং ভিসার অপব্যবহারও কমাবে।
চলতি বছরের জুন মাস থেকে শুরু হওয়া ওমরাহ মৌসুমে সৌদি আরবে ইতিমধ্যেই চার মিলিয়নের বেশি বিদেশি হাজি পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের পুরো মৌসুমের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রবৃদ্ধি মুসলিম বিশ্বের মধ্যে পবিত্র ভূমি সফরের প্রতি আগ্রহের প্রমাণ বহন করছে। ওমরাহ পর্যটন, হজ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় অর্থনীতির জন্য এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বিদেশি ওমরাহযাত্রীদের ভিসা ব্যবস্থাপনা আরও সংহত হবে। এতে ভিসা ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত আনুষঙ্গিক কার্যক্রম, যেমন বিমানসংযোগ, হোটেল বুকিং এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার প্রক্রিয়া দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ মূলত জনগণের নিরাপত্তা এবং মৌসুমী ভিড় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো ভিসা ইস্যু এবং ওমরাহর জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রবেশকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। এভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং ভ্রমণকারীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপস্থিত থাকায় সেবা ব্যবস্থা আরও নিখুঁতভাবে পরিচালিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিয়মের ফলে ভিসাধারীরা সময়মতো প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হবেন। ভ্রমণ পরিকল্পনা, টিকিট সংরক্ষণ এবং হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে পূর্বপরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি দেশটির পর্যটন খাতও আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হবে, যা সৌদি আরবের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চলতি মৌসুমের রেকর্ড সংখ্যক ওমরাহযাত্রীর আগমন, নতুন ভিসা নিয়মের বাস্তবায়ন এবং গ্রীষ্মকালের পরে শীতল আবহাওয়ার প্রস্তুতি মিলিত হয়ে সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে অভিমত রয়েছে বিশ্লেষকদের। তারা আশা করছেন, এই পদক্ষেপ ওমরাহ ভ্রমণকারীদের জন্য সহজলভ্য ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবে এবং ভিসা ব্যবস্থাপনার জটিলতা কমাবে।
সৌদি আরবের নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে প্রবাসী মুসলিমদেরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। ভিসা ইস্যুর এক মাসের মধ্যে প্রবেশের নিয়ম মেনে চলা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন প্রস্তুত রাখা এবং সফরের পরিকল্পনা সময়মতো সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দেশে ফেরার বিষয়েও পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, নতুন নিয়মের বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় দেশটির সকল কনসুলেট ও দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। দেশের বাইরে থেকে আগত ভিসাধারীদের তথ্য সঠিকভাবে রেকর্ড করা, ভিসা ইস্যুর তারিখ অনুযায়ী প্রবেশ তদারকি এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ভিসাধারীরা নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে ওমরাহ সম্পন্ন করতে পারবে।
এই পরিবর্তনের ফলে সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসা প্রক্রিয়া আরও কাঠামোবদ্ধ, স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হবে। মুসলিম বিশ্বের জন্য এটি পবিত্র শহরগুলোতে নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খল সফরের নিশ্চয়তা দিচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পরিচিত করাবে।
নতুন ভিসা নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর আশা করা হচ্ছে, পবিত্র মক্কা ও মদিনায় যাত্রীদের ভিড় আরও নিয়ন্ত্রিত হবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং ওমরাহ যাত্রীদের জন্য সেবা মান উন্নত হবে। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সৌদি আরবের পর্যটন খাত এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে।










