জাকির নায়েকের ঢাকায় আগমন: ভারতের কড়া সতর্কবার্তা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৬ বার
উদ্বেগ-বিতর্কের মধ্যেও বাংলাদেশে আসতে পারেন জাকির নায়েক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী নভেম্বরে ঢাকায় আসছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ধর্মপ্রচারক ডা. জাকির নায়েক। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে সতর্ক করেছে যে, নায়েক ভারতের কাছে ‘ওয়ান্টেড’ পলাতক আসামি হিসেবে বিবেচিত। ভারতের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, নায়েক যদি ঢাকায় প্রবেশ করেন, তবে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো বিবেচনায় রাখবে।

গত ৩০ অক্টোবর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “জাকির নায়েক একজন পলাতক আসামি। তিনি ভারতে ওয়ান্টেড। তাই আমরা আশা করি, তিনি যেখানেই যান না কেন, সংশ্লিষ্ট দেশ তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।” ভারতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করেছে।

ডা. জাকির নায়েকের জীবন ও কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালের আগ পর্যন্ত তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে ইসলামিক অনুষ্ঠান ও সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তার বক্তৃতা এবং আন্তর্জাতিক মাধ্যমে প্রচারিত বিষয়বস্তু তাকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দিয়েছে। তবে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের আমলে নায়েকের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার’ এবং একাধিক অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়। সেই সময় তার নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এসব ঘটনার পর নায়েক ২০১৬ সালে ভারতের বাইরে চলে যান এবং স্থায়ীভাবে মালয়েশিয়ায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে ৬০ বছর বয়সী এই ধর্মপ্রচারক মালয়েশিয়ায় আছেন এবং ভারতীয় বিচারিক কর্মকাণ্ডের আওতার বাইরে রয়েছেন। তিনি বারবার বলেছেন, ভারতে ফিরে যাবেন না যতক্ষণ না ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা পান।

ডা. জাকির নায়েক আগামী ২৮ ও ২৯ নভেম্বর ঢাকায় একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং ধারণা করা হচ্ছে, এটি হতে পারে আগারগাঁও এলাকায়। ইতোমধ্যেই তার আগমনকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতের আশঙ্কার পেছনে রয়েছে অতীতের ইতিহাস। ২০১৬ সালে ঢাকার হলি আর্টিজান হামলার পরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত দুই হামলাকারী নায়েকের বক্তৃতা থেকে অনুপ্রাণিত ছিলেন। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশও নায়েকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।

এবারের পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও জটিল। জাকির নায়েকের ঢাকায় আগমনের খবর ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে। দেশটি বাংলাদেশকে সতর্ক করেছে যে, নায়েক যদি ঢাকায় প্রবেশ করেন, তবে তাকে ভারতের হাতে হস্তান্তর করা উচিত। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনার কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রশাসন এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে গত কয়েক বছর ধরে ধর্মীয় বক্তৃতা এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে সংবেদনশীল অবস্থানে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক আইন ও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

ডা. জাকির নায়েকের ঢাকায় আগমনের ফলে দেশের ভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে মনোযোগ বাড়বে। শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার আগমন ধর্মীয় আলোচনার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করবে, তবে একই সঙ্গে তা কূটনৈতিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগেও বারবার সতর্ক করেছে যে, নায়েক একজন ‘পলাতক আসামি’ এবং তার যেকোনো আন্তর্জাতিক সফরকে ভারত বিবেচনা করে নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বার্তা মূলত বাংলাদেশের প্রশাসনকে একটি কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নায়েকের আগমন এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে।

এই পরিস্থিতিতে ঢাকা প্রশাসন কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। সঠিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলার মাধ্যমে বাংলাদেশ যেকোনো ধরনের বিপর্যয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। পাশাপাশি, দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে হবে যে, নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং কূটনৈতিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে।

ডা. জাকির নায়েকের ঢাকায় আগমন কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সফর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ন এবং এটি দুই দেশের মধ্যে সতর্কতার সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি করেছে।

সার্বিকভাবে, ডা. জাকির নায়েকের ঢাকায় আগমন একটি আন্তর্জাতিক নজরকাড়া ঘটনা। এটি ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে গুরুত্ব বহন করছে। ভারতের সতর্কবার্তা এবং বাংলাদেশের প্রস্তুতি ভবিষ্যতে কিভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে, তা নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত