ইজতেমা নির্বাচনের পরেই, জানালেন ধর্ম উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২০ বার
ইজতেমা নির্বাচনের পরেই, জানালেন ধর্ম উপদেষ্টা

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশজুড়ে এখন নির্বাচনী উত্তেজনা। রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যস্ততা, প্রচারণা ও আলোচনায় সরগরম গোটা দেশ। এরই মধ্যে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল—এ বছর ইজতেমা হবে কি না, হলে কবে হবে? এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ধর্ম উপদেষ্টা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত থাকবে। তাই দেশের বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন ইজতেমা নির্বাচনের পরে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষই এতে সম্মতি দিয়েছেন।”

তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনেক দিন ধরে চলা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। কারণ, গত কয়েক মাস ধরে তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষ—কাকরাইল ও টঙ্গী শাখার মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে ইজতেমার সময়সূচি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। এমনকি কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে হয়তো এবার ইজতেমা পিছিয়ে যাবে বা সীমিত আকারে আয়োজন করা হবে। কিন্তু ধর্ম উপদেষ্টার এই ঘোষণা এখন ইজতেমা আয়োজনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

ড. খালিদ হোসেন আরও বলেন, “দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে যেন ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। আপাতত নির্বাচন পেছানোর কোনো লক্ষণ বা পরিকল্পনা নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, এবং বড় কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়নি। সবাই দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই সচেষ্ট।”

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে উঠে আসে এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) জুলাই সনদে সই না করার প্রসঙ্গও। উত্তরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “এনসিপির সঙ্গে আলোচনার দরজা এখনো বন্ধ হয়নি। কিছু বিষয় সময় নিচ্ছে, কিন্তু আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই সমাধান হবে। এখন দরজা বন্ধ থাকলেও খুলতে বেশি সময় লাগবে না।”

এর বাইরে আলোচনায় আসে আলোচিত বক্তা ড. জাকির নায়েকের বাংলাদেশে আগমন প্রসঙ্গ। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “ড. জাকির নায়েককে যারা দেশে আনতে চান, তারা দেখা করেছিলেন। তবে বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নয়—এটি পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। বিদেশি নাগরিক বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সফরের বিষয়টি তারা দেখেন। এখানে আমার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কোনো ভূমিকা নেই।”

তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, সরকার জাকির নায়েক ইস্যুতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কারণ, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাংলাদেশ সফর নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সরকারি সূত্রগুলো একে ‘অফিসিয়াল আলোচনার বাইরের বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এমন স্পষ্ট বক্তব্য মূলত দুটি বিষয় ইঙ্গিত করে—প্রথমত, সরকার চায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধর্মীয় ইস্যু যেন অযথা আলোচনায় না আসে; দ্বিতীয়ত, বড় কোনো ধর্মীয় আয়োজন যেন নির্বাচনের পরিবেশে বিঘ্ন না ঘটায়। বিশেষ করে ইজতেমা একটি বিশাল আয়োজন, যেখানে লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নেন, তাই নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়টাই সবচেয়ে উপযুক্ত।

এদিকে তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়াকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ধর্মীয় বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, বহুদিন পর উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার বার্তা এসেছে, যা ভবিষ্যতে ইজতেমার ঐক্যবদ্ধ আয়োজনের পথ সুগম করতে পারে।

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের বক্তব্যের পর তাবলীগ জামাতের অনুসারীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, “এটি একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকবে, তাই ইজতেমা পরে হলে নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ উভয় দিক থেকেই ভালো হবে।”

রাজনৈতিকভাবে অস্থির সময় পার করছে দেশ। দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রচারণা ও জোটবদ্ধতার আলোচনায় ব্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ধর্মীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়—এমনটাই বোঝা যাচ্ছে ধর্ম উপদেষ্টার বক্তব্যে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নির্বাচনোত্তর সময়কে সামনে রেখে সরকার ও ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ইজতেমার মতো বিশাল ধর্মীয় আয়োজনকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার জন্য এটি একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের পর তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষ কীভাবে একসঙ্গে আসর পরিচালনা করে, আর কতটা সফল হয় এই দীর্ঘদিনের ঐক্যের প্রয়াস।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত