প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইসলাম ধর্মে নামাজ এমন এক ফরজ ইবাদত, যা প্রতিদিনের জীবনে একজন মুসলমানের আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও পরকালীন সফলতার প্রতীক। নামাজ কেবল দেহের নয়, আত্মারও প্রশান্তি আনে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে সময়মতো নামাজ আদায় করতে এবং নামাজের প্রতি গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। নামাজ হচ্ছে সেই মাধ্যম, যা মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে, সৎকর্মে উৎসাহিত করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যখন মসজিদে নামাজের প্রতীক্ষায় থাকে, সে যেন নামাজের মধ্যেই থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত সে মসজিদে অবস্থান করে, ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে—‘হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ, তার প্রতি রহম করুন।’” (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩০)। এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, সময়মতো নামাজ আদায় করা শুধু একটি ধর্মীয় কর্তব্য নয়, বরং এটি আল্লাহর অসীম রহমত ও ক্ষমা লাভের এক মহাসুযোগ।
আজ মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫, ১৯ কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার নামাজের সময়সূচি অনুযায়ী, আজ জোহরের নামাজ শুরু হবে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে, আসরের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটে, মাগরিবের আজান হবে ৫টা ২১ মিনিটে এবং এশার সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে। আগামীকাল বুধবার ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৪টা ৫৩ মিনিটে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ঘটবে বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে, আর আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ০৬ মিনিটে।
নামাজের এই সময়সূচি প্রতিদিনের জীবনে একজন মুসলমানকে সময়ানুবর্তী ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করে তোলে। শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, নামাজের মধ্যে রয়েছে মানসিক প্রশান্তি, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থা। প্রতিটি নামাজ যেন হয় একেকটি আত্মিক নবজাগরণ, যেখানে মানুষ নিজের ভুলত্রুটি উপলব্ধি করে, অনুতাপ করে, এবং নতুনভাবে সঠিক পথে চলার সংকল্প গ্রহণ করে।
ঢাকা ছাড়াও দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরে নামাজের সময় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। যেমন—চট্টগ্রামে নামাজের সময় থেকে ৫ মিনিট, সিলেটে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হয়। অন্যদিকে খুলনায় সময়ের সঙ্গে ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট যোগ করতে হয়। এই পার্থক্য মূলত ভৌগোলিক অবস্থান ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের পার্থক্যের কারণে হয়ে থাকে।
আজকের নামাজের সময়ের পাশাপাশি মুসলমানদের জন্য এই দিনটি হতে পারে আত্মশুদ্ধির নতুন এক সূচনা। কারণ নামাজ কেবল পাঁচ ওয়াক্তের কিছু দোয়া বা রুকু-সিজদার সমষ্টি নয়, বরং এটি এমন এক আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ, যা মানুষকে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল করে তোলে এবং সমাজে ন্যায়ের চেতনা জাগিয়ে তোলে।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সময়মতো নামাজ আদায় করতে পারেন না। তবে যারা তাদের সময়কে আল্লাহর ইবাদতের জন্য অগ্রাধিকার দেন, তারা জীবনেও শান্তি ও প্রশান্তি লাভ করেন। নামাজ মানুষকে অহংকার, হিংসা, লোভ ও অন্যায় থেকে দূরে রাখে। একজন নিয়মিত নামাজি মানুষ তার প্রতিটি কর্মে আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করেন, ফলে তিনি অন্যের প্রতি সদাচার ও ন্যায়বিচার করতে সচেষ্ট থাকেন।
প্রতিদিনের নামাজ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, এটি সমাজের ঐক্য ও সংহতিরও প্রতীক। মসজিদে একসঙ্গে নামাজ আদায় করলে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ে, ধনী-গরিব, শাসক-শাসিত সবাই আল্লাহর দরবারে এক কাতারে দাঁড়ায়—যা ইসলামের সমতার মূল শিক্ষা প্রকাশ করে।
আজকের এই দিনে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নামাজের প্রতি গুরুত্ব বাড়ানো এবং নামাজের সময়সূচি অনুযায়ী নিজের দৈনন্দিন কাজের সময় ভাগ করে নেওয়া। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে হলে, সময়মতো নামাজ আদায় করা ছাড়া বিকল্প নেই।
কারণ, নামাজ সেই শক্তি, যা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যায়, হতাশা থেকে আশায় ফিরিয়ে আনে, এবং মানবজীবনের প্রতিটি দুঃখে-সুখে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়। তাই প্রতিদিন নামাজের সময় মেনে, মনোযোগ ও আন্তরিকতা নিয়ে নামাজ আদায়ই হোক আমাদের জীবনের মূল অঙ্গীকার।