প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সকালের প্রথম কাজ হিসেবে হালকা পানি পান শরীরকে সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি পান করা শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে না, বরং হজম প্রক্রিয়া ও দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমকে সক্রিয় রাখে। তবে অনেকের জন্য সরাসরি পানি খেলে বমি ভাব বা অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কিছু নির্দিষ্ট পানীয় সকালের শুরুতে গ্রহণ করা উপকারী হতে পারে।
সকালে হালকা গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান। প্রয়োজনে সামান্য মধু মিশিয়ে নেওয়া যায়। লেবু-মধুর এই পানীয় শুধুমাত্র ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক নয়, এটি পেটে জমে থাকা অ্যাসিড কমাতে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে এবং গ্যাস, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ অন্যান্য পেটের সমস্যাও কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে এটি দেহের অভ্যন্তরীণ টক্সিন বের করতে ও ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী রাখতে পারে।
সকালের প্রথম চায়ের বিকল্প হিসেবে গ্রিন টি গ্রহণ করা যেতে পারে। গ্রিন টি কেবল ওজন কমাতে সহায়তা করে না, এটি মেটাবলিজম রেট বাড়িয়ে শরীরের শক্তি এবং কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। এছাড়া এতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে কার্যকর। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরের কোষগুলো অতিরিক্ত ফ্রি রেডিকেল থেকে রক্ষা পায়, যা বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য করে।
নারকেল বা ডাবের পানি সকালের জন্য আরেকটি স্বাস্থ্যসম্মত পানীয়। ছোট পরিমাণে প্রতিদিন ডাবের পানি পান করলে দেহের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ হয়। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে বদহজম বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাই এটি নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে গ্রহণ করা উত্তম।
বিভিন্ন ধরনের সবজির রসও সকালের খাদ্যাভ্যাসে যুক্ত করা যেতে পারে। বিশেষ করে বিটের রস অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত বিটের রস পান করলে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়, শরীরে আয়রনের ঘাটতি কমে এবং দেহের ভিতরে জমে থাকা টক্সিন দূর হয়। এছাড়া, এটি রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করে এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখে।
আদার কুচি বা আদার রস গরম পানিতে মিশিয়ে খাওয়াও সকালের জন্য উপকারী। প্রয়োজনে সামান্য মধু মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে, শ্বাসনালীর সমস্যা কমাতে এবং ঠাণ্ডা লাগা, সর্দি-কাশি প্রতিরোধে কার্যকর। এছাড়া ভেষজ উপকরণ দিয়ে তৈরি চা—যেমন দারুচিনি বা গোলমরিচের সঙ্গে—সকালে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
সকালের খাবারের আগে এই ধরনের পানীয় গ্রহণের মাধ্যমে শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং হাইড্রেশন দেওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন সকালে ১০-১৫ মিনিটের ব্যবধান রেখে এই পানীয়গুলো গ্রহণ করলে দেহের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। এটি শুধুমাত্র শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে না, মানসিক সতেজতাও বৃদ্ধি করে।
সর্বোপরি, খালি পেটে উপযুক্ত পানীয় গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের মেটাবলিজম বাড়ে, হজম প্রক্রিয়া সুস্থ থাকে এবং দৈনন্দিন জীবনে সতেজ ও সক্রিয় থাকার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। হালকা গরম পানি, লেবুর রস, গ্রিন টি, ডাবের পানি, সবজির রস এবং ভেষজ চা—এই সমস্ত পানীয় সকালের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করলে দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্য দুটোই লাভবান হয়।