রাজশাহীতে ছিনতাই-ডাকাতি বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষ আতঙ্কে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার
রাজশাহীতে ছিনতাই-ডাকাতি বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষ আতঙ্কে

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রত্যেক দিন ঘরে ফিরে বা রাস্তায় চলাচল করার সময় আতঙ্কিত হচ্ছেন। পুলিশের নজরদারি থাকলেও এসব অপরাধের ঘটনা যেন সীমাহীন এবং নিয়মিত ঘটে চলেছে। স্থানীয়রা জানান, পথচারী বা ব্যবসায়ীরা দিনের আলোয়ও ছিনতাইকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন।

তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা বাজারের একটি ঘটনায় সম্প্রতি জনমনে দারুণ আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ১৫ অক্টোবর রাত পৌনে ১১টার দিকে, বাড়ি ফেরার পথে বিকাশ এজেন্ট নাসির উদ্দীন নির্মমভাবে আক্রান্ত হন। মুখোশধারী ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাথায় জোরে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় নাসির উদ্দীনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নাসিরের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন জানান, ঘটনার পর থেকে তার স্বামী মানসিক ভারসাম্য হারানোর পথে। তিনি এখন সঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। তার মাথায় মারাত্মক আঘাত লেগেছে। রাবেয়া বলেন, “পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। এখন আমরা খাওয়াদাওয়াও ঠিকমতো করতে পারছি না।”

নাসিরের ভাই তাছির আহমেদ বলেন, “দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার হয়নি। ফলে আমরা ক্ষোভে ফুঁসছি। এই ঘটনার ফলে পুরো এলাকা আতঙ্কে রয়েছে।”

এদিকে, একই উপজেলার চৌবাড়িয়া এলাকায় গত ২৫ অক্টোবর এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ব্যবসায়ী ফটিক হাসানের বাড়িতে তিনজন ডাকাত প্রবেশ করে তার স্ত্রী ও সন্তানদের জিম্মি করে। তারা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। রাতে বা দিনের বেলায় ঘর থেকে বের হওয়াও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা পুলিশের প্রতি অভিযোগ করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা মনে করছেন, অপরাধীরা দ্রুত ধরা না পড়ার কারণে নতুন উদ্যমে আরও অপরাধ চালাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বলছেন, প্রতিটি বাড়ি এবং দোকানেই তারা সাবধানতা অবলম্বন করছে। অনেকে রাতে বাড়িতে আতঙ্কে থাকছেন এবং দিনের বেলায়ও বাইরে বের হওয়ার আগে সতর্ক হচ্ছেন।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তারা প্রতিটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, এই ধরনের সাধারণ মানুষের উপর ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধীরা যেন শহর ও উপজেলায় সহজে অপরাধ করতে না পারে, সে জন্য কড়া আইন প্রয়োগ ও তৎপরতা আবশ্যক।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি দেশে ছিনতাই ও ডাকাতির বৃদ্ধি এমন একটি প্রমাণ যে, শুধু পুলিশের উপস্থিতি যথেষ্ট নয়; স্থানীয় প্রশাসন, জনগণ এবং পুলিশকে একত্রিত হয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তারা মনে করছেন, প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত আলো, সিসিটিভি নজরদারি, স্থানীয় প্রতিরক্ষা কমিটি ও নিয়মিত পুলিশ пат্রোল অপরিহার্য।

নাগরিক অধিকার ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রতি স্থানীয়দের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এলাকার মানুষদের মতে, যদি অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আরও বেড়ে জনজীবনকে কঠিন করে তুলবে।

এই পরিস্থিতি জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। স্কুল, বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা—সবখানেই মানুষ ভয়ে চলাচল করছে। যারা রাতের সময়ে বাইরে বের হচ্ছেন, তারা এখন নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

রাজশাহীর এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, সামাজিক ও মানসিক দিক থেকেও মানুষের উপর চাপ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষ এখন নিরাপদে ঘরে ফিরতে চাইছেন, আর প্রশাসনকে দাবি করছেন দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

এই ধারাবাহিক ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা ও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রশাসন ও পুলিশকে দ্রুত, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা আর আতঙ্ক সৃষ্টি না হয় এবং সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

রাজশাহীর সাধারণ মানুষ আশা করছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে তারা চায়, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হোক এবং ছিনতাইকৃত সম্পত্তি ফিরিয়ে আনা হোক, যাতে শহরে পুনরায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত