চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩০০ অতিক্রম করেছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩০০ অতিক্রম করেছে

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রভাবে মৃত্যুর সংখ্যা তিন শতাধিক অতিক্রম করেছে, যা গত দুই বছরের ভয়াবহতার সঙ্গে তুলনীয়। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যা পৌনে এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে পাঁচজন নারী, পাঁচজন পুরুষ এবং তিনজন শিশু রয়েছেন। স্থানভিত্তিক হিসেব বলছে, মৃতদের মধ্যে পাঁচজনই ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দা, তিনজন ঢাকা উত্তর সিটির এবং একজন করে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি, অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই রোগীদের প্রায় ৪৪ শতাংশই ঢাকা শহরের দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। চলতি বছর এ পর্যন্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৯৯২ জনে।

ডেঙ্গুর ইতিহাসে ২০০০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ওই বছরে তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা নেন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। গত বছরও ডেঙ্গুর প্রভাব অব্যাহত ছিল। ২০২৪ সালে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যার মধ্যে মারা যান ৫৭৫ জন। চলতি বছরের এই ৩০২ জনের মৃত্যুর ঘটনা এখন পর্যন্ত তিন বছরের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শুধুমাত্র হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা নয়, বরং ঘরে ও আশেপাশের পরিবেশ থেকে এডিস মশার প্রজনন কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর প্রস্তুতি বাড়ানো, ত্রাণকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করা জরুরি। তারা আরও বলেছেন, নগরাঞ্চল ও জনবহুল এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে সংক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গু মূলত এডিস মশার কারণে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিষ্কার পানি ও আবর্জনার মধ্যে বেড়ে ওঠে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জলজ স্থানের পরিচ্ছন্নতা, ফোঁটা-ফোঁটা পানি নিষ্কাশন এবং মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য।

চলতি বছর ডেঙ্গুর তীব্রতা তিন বছর ধরে চলমান প্রবণতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগী ভর্তি সংখ্যা একেবারে বাড়ছে। এতে স্বাস্থ্য খাতের উপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। নাগরিকদের ঘরে মশারি ব্যবহার, গৃহপালিত স্থান পরিষ্কার রাখা ও মশার ডিম ধ্বংস করা, হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যথাযথ প্রস্তুতি রাখার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবেলা সম্ভব।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব। তবে সরকার, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণকে একসাথে কাজ করতে হবে। না হলে চলতি বছর এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ডেঙ্গুর প্রভাবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক করে জানিয়েছেন, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এডিস মশার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং জনস্বাস্থ্য বিপন্ন হবে।

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর এই প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যাই নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই নাগরিকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সরকারি পদক্ষেপগুলো মেনে চলা এখন সময়ের দাবী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত