ফেসবুকের ‘ডিসলাইক’ বাটন: ব্যবহারকারীর সত্য অনুভূতির সুযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৯ বার
ডিসলাইক’ বাটন

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ফিচার অবশেষে বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। বহু বছরের প্রতীক্ষার পর ফেসবুক তাদের মোবাইল অ্যাপে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে নতুন ‘ডিসলাইক’ বাটন, যা ব্যবহারকারীদের পোস্ট বা মন্তব্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ দেবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারকারীরা এমন একটি বিকল্পের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা দিয়ে তারা সরাসরি অসন্তুষ্টি, আপত্তি বা অসহমতি প্রকাশ করতে পারবেন।

নতুন ফিচারটি ব্যবহারকারীদের কাছে ধীরে ধীরে উন্মুক্ত করা হচ্ছে। আপডেটের পর অনেক ব্যবহারকারী মোবাইল অ্যাপে নতুন ‘ডিসলাইক’ বাটনটি দেখতে পাচ্ছেন। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই কোনো মন্তব্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব। ফেসবুক আগে “Annoying” নামে একটি নিচের তীরচিহ্নযুক্ত বোতাম দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফিচার চালু করেছিল, তবে পরে সেটির নাম পরিবর্তন করে পরিচিত শব্দ ‘Dislike’ রাখা হয়। ওয়েব সংস্করণে এটি এখনো চালু হয়নি এবং সব ব্যবহারকারীর কাছে এটি একযোগে পৌঁছায়নি।

মেটার তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেসবুক সীমিত পরিসরে এই ফিচার পরীক্ষা করছে এবং ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করার পর ধাপে ধাপে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ব্যবহারকারীদের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি নতুন স্বাধীনতা প্রদান করবে, যা সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকে আরও বাস্তবধর্মী এবং স্বচ্ছ করবে।

ফেসবুক দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রদানের সুযোগ দেয়নি, মূলত ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যেই। ‘লাইক’ এবং অন্যান্য রিঅ্যাকশনগুলো ব্যবহারকারীদের ইতিবাচক অনুভূতি প্রকাশের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সব ধরনের কনটেন্ট ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার দাবিদার নয়। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা কোনো পোস্ট বা মন্তব্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাতে চায়, যা পর্যন্ত ফেসবুক সরাসরি দিতে পারেনি।

ফেসবুকের নতুন ‘ডিসলাইক’ বাটনের আগমন সামাজিক যোগাযোগের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এটি ব্যবহারকারীদের সরাসরি আপত্তি বা অসন্তুষ্টি প্রকাশের সুযোগ দেবে, যা প্ল্যাটফর্মকে আরও স্বচ্ছ ও বাস্তবধর্মী করবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনমত বিষয়ক আলোচনায় এটি ব্যবহারকারীদের অনুভূতির যথার্থ প্রকাশ নিশ্চিত করবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে এই ধরনের ফিচারের প্রতীক্ষা করছিলেন। বিভিন্ন দেশে ‘ডিসলাইক’ বাটনের জন্য আগেরও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, তবে ফেসবুকের মূল নীতি অনুযায়ী এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়নি। এবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ায় ব্যবহারকারীরা প্রথমবার সরাসরি এই বিকল্প অনুভব করতে পারছেন।

https://russkinbright.com/courses/graphics-

ফেসবুকের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন বাটনটি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এটি ‘নিরপেক্ষ ও বাস্তবমুখী প্রতিক্রিয়া’ প্রদানের সুযোগ বাড়াবে। অন্যরা মনে করছেন, নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রদানের সুযোগ বাড়ার কারণে কখনো কখনো ব্যবহারকারীরা অযাচিত বিতর্কের মধ্যে প্রবেশ করতে পারেন।

যদিও এখন ফিচারটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, তবু এটি সামাজিক যোগাযোগের প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যবহারকারীদের বাস্তব অনুভূতি প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া সামাজিক যোগাযোগের পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী ও মানবিক করবে। এটি কেবল ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া জানার সুযোগ নয়, বরং ফেসবুককে আরও কার্যকর ও প্রতিফলনশীল একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলবে।

এই পরীক্ষামূলক ফিচার সফল হলে, ভবিষ্যতে এটি ফেসবুকের ওয়েব সংস্করণেও চালু করা হতে পারে। ধাপে ধাপে সকল ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে গেলে এটি সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ও প্রতিক্রিয়ার মানচিত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত