গাজীপুরে অভিযান ঘিরে অপপ্রচার, সেনাবাহিনীর কড়া প্রতিক্রিয়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
গাজীপুরে অভিযান ঘিরে অপপ্রচার, সেনাবাহিনীর কড়া প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে— এমন অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুক্রবার সকালে গাজীপুর মহানগরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান এই অভিযোগ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক পক্ষ বা ব্যক্তির হয়ে কাজ করে না; তারা দেশের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে এবং সবসময় জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান বলেন, “গত ৬ নভেম্বর ভোরে গাজীপুর আর্মি ক্যাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, পুলিশ ও র‍্যাবের প্রত্যক্ষ সহায়তায় শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাজীপুর জেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং শ্রীপুর এলাকার ত্রাস এনামুল হক মোল্লাকে তার নিজ বাড়ির পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে গ্রেফতার করা হয়।”

তিনি জানান, অভিযান চলাকালীন সময়ে তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, চারটি ওয়াকিটকি সেট এবং দুটি লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এনামুল হক মোল্লার বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় একাধিক ডাকাতি, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে বেশ কয়েকটিতে তার নামে ওয়ারেন্ট জারি আছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান আরও বলেন, “অভিযানটি ছিল সম্পূর্ণ তথ্যনির্ভর ও আইনসঙ্গত। এতে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি মহল এনামুল হক মোল্লার গ্রেফতারের ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে এবং রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনী কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়— আমরা দেশের পক্ষে।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “যারা এই ঘটনাকে ঘিরে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, আমরা মনে করি তাদের কোনো না কোনোভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সেনা কর্মকর্তা জানান, এই অভিযানে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ছিল প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, “এলাকার মানুষ অনেক দিন ধরেই এনামুল হক মোল্লার ত্রাসে ভুগছিল। তারা আমাদের তথ্য দিয়েছে, সহযোগিতা করেছে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এমন অভিযান সফল করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে এসেছে। কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে নয়, বরং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই আমরা কাজ করি। কেউ যদি মনে করে সেনাবাহিনী রাজনৈতিকভাবে জড়িত, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ধারণা।”

ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার করবেন না। অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এনামুল হক মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে শ্রীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। তিনি অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর নামে একাধিক মামলা চলমান এবং কয়েকটিতে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

এলাকাবাসীর একাধিক সূত্র জানায়, এনামুল হক মোল্লা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি তৈরি করে রেখেছিল। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হয়রানি বা হামলার মুখে পড়তে হতো। অভিযানে তার গ্রেফতারের পর স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

তবে সেনাবাহিনীর আশঙ্কা, এই ধরনের অপপ্রচার বন্ধ না হলে তা শুধু একটি অভিযানের বিষয়কেই নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনগণের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান বলেন, “আমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করি, কাউকে ভয় দেখানোর জন্য নয়। যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা আসলে অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। তাই জনগণকে অনুরোধ করছি, সত্যের পাশে থাকুন।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণের সেনাবাহিনী। আমরা সবসময় দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যদি এই প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গাজীপুরের এই সফল অভিযান ও সেনাবাহিনীর কঠোর বার্তা দেশের নিরাপত্তা অঙ্গনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতে যেমন অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে, তেমনি জনগণের মাঝে নতুন করে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ জন্ম নিয়েছে। সেনাবাহিনীর এই স্পষ্ট অবস্থান প্রমাণ করেছে— তারা রাজনীতি নয়, দেশের মাটির নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণের জন্যই কাজ করে যাচ্ছে।

অপরদিকে, সেনাবাহিনীর কড়া সতর্কবার্তা দেশের অপপ্রচারকারীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী মিথ্যা প্রচারণা কেবল সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নয়, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এখন দেখা বাকি, অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে কত দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হয়, এবং সেনাবাহিনী কীভাবে এই ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার— সেনাবাহিনীর অবস্থান অবিচল: ন্যায়ের পক্ষে, অন্যায়ের বিপক্ষে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com