প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সরকার সিঙ্গাপুর থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করবে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা। বুধবার (১২ নভেম্বর) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের মেসার্স অ্যাগ্রোক্রপ ইন্টারন্যাশনাল পিটই লিমিটেডের কাছ থেকে প্যাকেজ-৪-এর আওতায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল কেনা হবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন চালের দাম ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বিবেচনা করে মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ২১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় বাজারে চালের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে এই আমদানি অপরিহার্য। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ক্রয় সম্পন্ন করা হবে, যাতে সরকারি অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়।
সরকারের খাদ্য নীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোক্তাদের জন্য চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এই আমদানির মূল উদ্দেশ্য। তারা মনে করেন, বিদেশ থেকে সরাসরি চাল আনার মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে অতিমূল্য এবং ঘাটতির সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বিশেষত, বিশ্ববাজারে ধান ও চালের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় উৎপাদনে সীমিততার কারণে সিঙ্গাপুরের মতো স্থিতিশীল সরবরাহকারী দেশ থেকে আমদানি কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আর্থিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, এ ধরনের বড় আকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি দেশীয় বাজারে চালের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, আমদানির সঙ্গে জড়িত ট্যারিফ, শুল্ক ও পরিবহন খরচ হিসাব রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সরকারি বাজেটে অপ্রত্যাশিত চাপ না পড়ে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুর থেকে আসা চাল দেশের খাদ্য গুদামে পৌঁছানোর পর সরকারি মূল্য ও বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এটি বিশেষ করে শহর ও দূরবর্তী এলাকায় চালের সংকট কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় ধান উৎপাদন ও সংগ্রহ ব্যবস্থার উন্নতি না হলে বার্ষিক খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে। তারা যুক্তি দিয়েছেন, সরকারি আমদানি অবশ্যই স্থানীয় উৎপাদনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে করা উচিত, যাতে স্থায়ী সমাধান হয় এবং খাদ্য নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত থাকে।
মোটকথা, সিঙ্গাপুর থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক দরপত্রের নিয়ম মেনে চলা এবং স্থানীয় উৎপাদনের সঙ্গে সমন্বয়ই নিশ্চিত করবে, যে এই আমদানি সাধারণ জনগণের জন্য কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে।