ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু বৃদ্ধি, হাসপাতালে ভর্তি ১,১৩৯

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮ বার
ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু বৃদ্ধি, হাসপাতালে ভর্তি ১,১৩৯

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

সারা দেশে মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১,১৩৯ জন, যা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরে এ নিয়ে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৩ জনে, আর মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এখন ৮১ হাজার ৭৭৩ জনে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত একদিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৭৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৫ জন, ঢাকা বিভাগের বাইরে ২২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৫৪ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। খুলনা বিভাগে ৮৯ জন, রাজশাহী বিভাগের বাইরে ৪৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের বাইরে ৮২ জন, রংপুর বিভাগের বাইরে ৫ জন এবং সিলেট বিভাগের বাইরে ৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১,০১১,২১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেই বছরের মধ্যে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৫৭৫ জন। তুলনামূলকভাবে, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৭০৫ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯।

ডেঙ্গুর এই সংক্রমণ বৃদ্ধি সারা দেশে জনস্বাস্থ্য সঙ্কটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ঘনবসতি, আবহাওয়ার আর্দ্রতা এবং আবর্জনার সঠিক নিষ্কাশন না হওয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের বিস্তারকে সহজ করে দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং সাধারণ মানুষকে বাড়িতে ও আশেপাশের পরিবেশে মশার বংশবৃদ্ধি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পানি জমে থাকা এলাকা পরিষ্কার রাখা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ও মৃত্যুর হার হঠাৎ বৃদ্ধি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি করছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মনে করাচ্ছেন, সক্রিয়ভাবে মশা নিধন কার্যক্রম চালাতে না পারলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো ভয়ঙ্কর আকার নেবে।

দেশজুড়ে গত কয়েক বছরে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়মিত বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা, শহুরে বসতি ও জলাধার নিয়ন্ত্রণের অভাব এ রোগের বিস্তারকে সহজ করে দিচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতাল বেড, চিকিৎসা ও ওষুধ নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, হাসপাতালে যথাযথ সেবা দিতে মেডিকেল টিম ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে। রোগীদের পর্যবেক্ষণ এবং মশার প্রজনন কেন্দ্র ধ্বংস করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মীরা একযোগে কাজ করছেন।

সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করা, হাসপাতাল সেবার মান বৃদ্ধি এবং জরুরি ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্কুল-কলেজ ও অফিস এলাকায় মশার প্রজনন ঠেকাতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও এনজিও কার্যক্রমের গুরুত্বও অনেক। সাধারণ মানুষকে মশার বংশবৃদ্ধি রোধে পানি জমে না রাখার পাশাপাশি শরীরে মশা প্রতিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, দ্রুত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সক্রিয় ব্যবস্থা ছাড়া আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যু বৃদ্ধির খবর জনগণের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। রোগীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে মেডিকেল টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে এবং নতুন রোগীদের ভর্তি ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা, জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা এবং মশার জন্মনিয়ন্ত্রণে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা না করলে আগামী মাসগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত