প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে পিনাট বাটার অনেকের প্রিয় একটি খাবার। রুটি, টোস্ট, কলা, আপেল, ক্র্যাকার, সেলারি, স্মুদি, সালাদ, ডেজার্ট বা ওটসের সঙ্গে এটি খাওয়া যায়। তবে প্রশ্ন হলো, পিনাট বাটার কি আসলেই শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর, নাকি অতিরিক্ত খেলে ক্ষতির কারণ হতে পারে?
পিনাট বাটার সম্পর্কে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে। অনেকে নাট বাটারের সঙ্গে একে মিশিয়ে ফেলে। বাস্তবে পিনাট বাটার ও নাট বাটার একই নয়। নাট বাটার তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের বাদাম যেমন চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম ইত্যাদি দিয়ে, কিন্তু পিনাট বাটার কেবল চিনাবাদাম থেকে তৈরি। পিনাট বাটারের স্বাদ, টেক্সচার ও পুষ্টিগুণ বাড়াতে মাঝে মাঝে এতে লবণ, চিনি, তেল বা ঘি মেশানো থাকে।
পিনাট বাটারের পুষ্টিগুণ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এটি প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের একটি ভালো উৎস। বিশেষ করে ভিটামিন ই, নিয়াসিন, ভিটামিন বি-৬, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং জিঙ্কের চমৎকার উৎস। পুষ্টিবিদরা বলছেন, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে পিনাট বাটার খেলে শরীরে নানা সুফল দেখা যায়।
এটি পেশি গঠনে সহায়ক এবং শক্তি যোগায়। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। নিয়াসিন পরিবেশগত চাপ যেমন দূষণ ও সূর্যালোক থেকে ত্বকের কোষকে রক্ষা করে। ভিটামিন বি-৩ শরীরকে শক্তি উৎপাদনে সহায়ক, আর ভিটামিন বি-৬ মেটাবলিজম প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাগনেসিয়াম পেশী ও স্নায়ুর সঠিক কার্যকারিতায় সহায়ক, ফসফরাস হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, এবং জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
তবে, সব ধরনের খাবারের মতো পিনাট বাটারও অতিরিক্ত খেলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিনাট বাটারের উপকারিতা নির্ভর করে কীভাবে এবং কতটা খাওয়া হচ্ছে তার উপর। অল্প পরিমাণে এটি উপকারী, কিন্তু বেশি খেলেই ক্যালরি বৃদ্ধি ও প্রদাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দুই চামচের বেশি খেলে এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত ক্যালোরির কারণে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া অনেক ব্র্যান্ডে অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম এবং অন্যান্য উপাদান থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
পিনাট বাটারের সাথে অ্যালার্জি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিছু মানুষের চিনাবাদামে অ্যালার্জি থাকতে পারে, যা মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই অ্যালার্জি থাকলে এটি খাওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, স্বাস্থ্যকর পিনাট বাটার কেবল চিনাবাদাম, লবণ এবং অল্প ঘি দিয়ে তৈরি হওয়া উচিত। চিনি, পরিশোধিত তেল বা অন্যান্য অ্যাডিটিভ থাকলে তা এড়ানো উচিত।
বাজার থেকে পিনাট বাটার কেনার সময় লেবেলে লেখা উপাদান ও সার্টিফিকেশন যাচাই করা জরুরি। অস্পষ্ট লেবেল বা স্থানীয়ভাবে তৈরি সন্দেহজনক পণ্য এড়ানো উচিত। পুষ্টিবিদরা সুপারিশ করেন, দিনে প্রায় ২০-২৫ গ্রাম পিনাট বাটার গ্রহণ করলে তা শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর হবে।
পিনাট বাটার প্রোটিন ও পুষ্টিতে সমৃদ্ধ হলেও, পরিমিতভাবে খাওয়াই শ্রেয়। এটি ব্যালেন্সড ডায়েটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত খেলে ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই সঠিক পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পিনাট বাটার খাওয়া উচিত, যাতে শরীর উপকৃত হয় এবং কোনও ধরনের অপ্রত্যাশিত ক্ষতি না ঘটে।
“একটি বাংলাদেশ অনলাইন” পাঠকদের জন্য বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করছে, যা পিনাট বাটার খাওয়া নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে সঠিক মাত্রায় পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করা সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।