গির্জার মঞ্চে ইসলাম ধর্মের প্রশংসা—ঘানার যাজকের আন্তধর্মীয় বার্তায় সাড়া বিশ্বজুড়ে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৬ বার
গির্জার মঞ্চে ইসলাম ধর্মের প্রশংসা—ঘানার যাজকের আন্তধর্মীয় বার্তায় সাড়া বিশ্বজুড়ে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ধর্মীয় বিভাজন নয়, পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া—এমনই এক সাহসী ও সময়োপযোগী বার্তা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন ঘানার একজন খ্রিস্টান যাজক। সম্প্রতি ঘানার একটি গির্জায় দেওয়া বক্তৃতায় ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন দিকের প্রশংসা করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক ধর্মীয় অঙ্গনে দৃষ্টি কাড়েন। তাঁর বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য ছিল আন্তধর্মীয় সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, এবং নিজের ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে আত্মসমালোচনার সাহস।

ঘটনার ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ঘানার গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে। যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি ও সহিংসতা প্রায়ই শিরোনাম হয়, সেখানে এই যাজকের বক্তব্য এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে।

বক্তব্যে যাজক প্রশ্ন তোলেন খ্রিস্টানদের গির্জায় ধর্মচর্চার শৃঙ্খলা ও আন্তরিকতা নিয়ে। তুলনামূলকভাবে মুসলিম সমাজে ধর্মীয় রীতি ও ভক্তিপূর্ণ আচরণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “মুসলমানেরা যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন তারা জুতা খুলে, পা ধুয়ে, নিজেকে শারীরিকভাবে পরিষ্কার করে নেয়। এটি কেবল শারীরিক পরিচ্ছন্নতা নয়, বরং এক ধরণের আত্মিক প্রস্তুতি। যদি গির্জায় এমন কঠোর শুদ্ধিকরণ নিয়ম চালু করা হতো, তাহলে হয়তো অনেকেই গির্জামুখো হতেন না।”

এখানেই থেমে না থেকে তিনি মুসলিমদের ইবাদতের ধরন এবং রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ইমামদের প্রতি যে সম্মান তারা দেখায়, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। যাজকের মতে, ধর্মীয় নেতৃত্বকে সম্মান দেখানো ও ধর্মাচরণের প্রতি আনুগত্যের এই মনোভাব যে কোনো ধর্মের ক্ষেত্রেই উদাহরণ হতে পারে।

তিনি দুঃখ করে বলেন, “আমরা অনেক সময় নিজেদের খ্রিস্টান সমাজেই ধর্মীয় নেতাদের সম্মান দিতে ব্যর্থ হই। এমনকি তাদের নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র তৈরি, কাগজে কলমে উপহাস করতেও কুণ্ঠা বোধ করি না। অথচ মুসলমানরা তাদের ইমামদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল এবং কোনোভাবেই তাদের অবমূল্যায়ন করে না।”

এই বক্তব্য অনেক খ্রিস্টান অনুসারীকে একদিকে যেমন আত্মজিজ্ঞাসায় নিয়ে গেছে, তেমনি ইসলাম ধর্মের রীতিনীতি ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতেও সহায়ক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় বিশ্লেষকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই যাজকের এই সাহসী ও উদার বক্তব্যের প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন, “এমন আন্তধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেই শান্তির সমাজ গড়ে উঠতে পারে।”

অন্যদিকে, কিছু রক্ষণশীল মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, গির্জার ভেতরে ইসলাম ধর্মের প্রশংসা কতটা যৌক্তিক বা ধর্মতাত্ত্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে সমালোচনার তুলনায় প্রশংসাই ছিল বহুগুণ বেশি, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।

বিশ্বজুড়ে চলমান ধর্মীয় সহিংসতা, ইসলামোফোবিয়া কিংবা খ্রিস্টান বিদ্বেষের বিরুদ্ধে এই বক্তব্য যেন এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। ধর্ম যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং বোঝাপড়া ও সহানুভূতির সেতুবন্ধন তৈরি করে—এই বার্তা নিয়েই যাজকটির বক্তৃতা এখন ছড়িয়ে পড়ছে প্ল্যাটফর্ম থেকে প্ল্যাটফর্মে।

বিশ্বায়নের এ যুগে যেখানে ধর্মীয় বিভাজনের আগুন ঘন ঘন জ্বলে ওঠে, সেখানে এমন আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই হতে পারে সত্যিকারের শান্তির ভিত্তি। এই যাজকের মতো ধর্মীয় নেতারা যদি আরও বেশি করে এগিয়ে আসেন আন্তধর্মীয় সম্মান ও বোঝাপড়ার আহ্বান নিয়ে, তবে হয়তো একটি সহনশীল, বৈচিত্র্য-বান্ধব বিশ্ব গড়া সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত