প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শীতকালের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে খেজুর গুড়ের মৌসুমও শুরু হচ্ছে। সুস্বাদু এই গুড় শুধু মিষ্টি তৈরির জন্য নয়, বরং শরীরের স্বাস্থ্যের জন্যও বিশেষভাবে উপকারী। খেজুর গুড়ের স্বাদ যেমন মানুষের কৃশিত আহারকে আকর্ষণ করে, তেমনি এর পুষ্টিগুণও শরীরের নানা প্রয়োজন মেটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পুষ্টিবিদরা মনে করছেন, সাধারণ চিনি থেকে খেজুর গুড়ের দিকে মুখ ফিরালে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারায় সাহায্য পাওয়া যায়।
খেজুর গুড়ে রয়েছে বিভিন্ন খনিজ উপাদান যেমন ফসফরাস, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম। এসব উপাদান শরীরের শক্তি উৎপাদন, হাড়ের মজবুতি, পেশীর কার্যকারিতা এবং রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত এক চামচ খেজুর গুড় খেলে রক্তে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হয়, ফলে ক্লান্তি কমে এবং শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শীতকালে শীতজনিত দুর্বলতা ও শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে খেজুর গুড় দারুণ সহায়ক।
এছাড়াও খেজুর গুড় হজম শক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকর। যারা হজমের সমস্যা অনুভব করেন বা পেটের অস্বস্তিতে ভুগছেন, তাদের নিয়মিত এক চামচ খেজুর গুড় ডায়েটে রাখার পরামর্শ পুষ্টিবিদরা দেন। এতে খাবারের সঙ্গে জটিলতা বা অজীর্ণের সমস্যা কমে যায়। খেজুর গুড়ের এক প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য শরীরকে ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, যা শীতকালে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
খেজুর গুড় ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরে তাত্ক্ষণিক শক্তি জোগায়, ফলে অল্প খাবার খেয়েও শরীর energetic থাকে এবং অতিরিক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে। পুষ্টিবিদরা বলেন, যারা স্বাস্থ্যকর ও ওজন নিয়ন্ত্রিত জীবনধারায় বিশ্বাসী, তারা চিনি বা অন্যান্য মিষ্টির বদলে খেজুর গুড় ব্যবহার করলে তা শরীরের জন্য অধিক উপকারী হবে।
শীতকালে শরীর ঠাণ্ডা ও দুর্বল থাকে, এবং সঠিক পুষ্টির অভাব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে। খেজুর গুড়ে থাকা খনিজ উপাদান ও প্রাকৃতিক শর্করা শরীরকে উষ্ণ রাখে। এক চামচ গুড় কেবল শক্তি বৃদ্ধি করে না, বরং স্নায়ু ও মানসিক সতেজতাও প্রদান করে। পুষ্টিবিদদের মতে, এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে, মনকে সতেজ রাখে এবং দেহে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
খেজুর গুড় ব্যবহার করলে হাড় ও পেশী মজবুত হয়। ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়ামের কারণে হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ হয়, যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হাড় দুর্বল হওয়ার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। পেশী শক্তিশালী হয় এবং শরীরের চলাচলে সঠিক সামঞ্জস্য বজায় থাকে। বিশেষ করে বৃদ্ধবৃদ্ধা বা হাড়ের সমস্যা থাকা মানুষদের জন্য খেজুর গুড় একটি প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে বিবেচিত।
শীতকালে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। খেজুর গুড়ে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও এটি রক্তস্বাভাবিকতা বজায় রাখে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে। এক চামচ খেজুর গুড় নিয়মিত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা সুষম থাকে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।
শুধু স্বাস্থ্য নয়, খেজুর গুড়ের ব্যবহার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালে নানা ধরনের পিঠা, মিষ্টি বা traditional খাবারে খেজুর গুড় ব্যবহার করা হয়। এটি শুধু স্বাদে নয়, বরং পুষ্টিতেও সমৃদ্ধ। বিশেষত শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটি উপকারী, কারণ এতে শরীরে শক্তি, খনিজ এবং প্রাকৃতিক শর্করার সঠিক যোগান মেলে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, খেজুর গুড়ের প্রাকৃতিক উপাদান শরীরকে শক্তিশালী রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। শীতকালে দৈনিক এক চামচ খেজুর গুড় খাওয়া সাধারণ মানুষকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম শক্তি উন্নত করে এবং শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখে।
সংক্ষেপে, শীতকালে খেজুর গুড়ের নিয়মিত ব্যবহার স্বাস্থ্য, শক্তি এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। পুষ্টিবিদরা মনে করেন, প্রচলিত চিনির পরিবর্তে খেজুর গুড় ব্যবহার করলে শরীর স্বাভাবিক ও সতেজ থাকে। শীতকালে খাদ্যতালিকায় খেজুর গুড় সংযোজন এক স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যা কেবল শরীরকে শক্তি দেয় না, বরং সুস্থ ও সতেজ রাখে, শারীরিক ও মানসিক উভয়ভাবেই।