প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতিদিনের মতোই সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আজ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন দামের ঘোষণা এসেছে, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্বর্ণের ভরির দাম ভিন্ন ক্যারেট অনুযায়ী নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা।
পূর্ববর্তী দিনে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৩৫৩ টাকা কমানো হয়েছিল। বাজুস জানিয়েছে, এই সমন্বয় স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের প্রভাব, দেশীয় চাহিদা এবং মুদ্রার মান—all এই কারণগুলো স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি খরচও মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সাধারণ ক্রেতার কাছে প্রকৃত মূল্য কিছুটা বেশি হয়ে থাকে।
বাজুসের নতুন ঘোষিত দামের ভিত্তিতে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৩১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টাকা। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার-নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি পরিবর্তিত হতে পারে।
বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে স্বর্ণের এই মূল্য সামঞ্জস্য করে ক্রেতাদের জন্য একটি সুষ্ঠু বাজার তৈরি করা হচ্ছে। দেশের গ্রামীণ ও শহুরে ক্রেতারা প্রতিদিনের দামের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে কেনা-বেচার সিদ্ধান্ত নেন। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম, ধর্মীয় উৎসব বা আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বর্ণ ক্রয়ের চাহিদা বাড়ে। তাই বাজারে স্বর্ণের দামের পরিবর্তন ক্রেতাদের মনোভাব ও বাজেট পরিকল্পনায় সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এর আগে বুধবার (১৯ নভেম্বর) বাজুস দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেইদিন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৬১২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭১ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৯২ টাকা কার্যকর হয়েছিল ২০ নভেম্বর থেকে। অর্থাৎ, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যে স্বর্ণের দাম কমেছে, যা বাজারে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি করেছে।
বাজুসের নতুন ঘোষিত দামের সঙ্গে ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শও জড়িত। বাজারে স্বর্ণের ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক সময় ও সঠিক মূল্য বুঝে কেনা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বর্ণের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, স্থানীয় চাহিদা, মুদ্রার মান, এবং ব্যাংকিং খাতের সুদের হার—all একসাথে প্রভাব ফেলে। ফলে, ক্রেতাদের উচিত নির্ধারিত বাজারমূল্য ও ভ্যাট-মজুরি সঠিকভাবে যাচাই করে লেনদেন করা।
স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়। অর্থাৎ, রূপার দাম স্থিতিশীল থাকার কারণে স্বর্ণ ও রুপার মধ্যে ক্রেতাদের নির্বাচনের সুযোগ একইভাবে রয়েছে।
স্বর্ণের বাজারের ওঠানামা সাধারণ মানুষের আর্থিক পরিকল্পনায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিবাহ, পূজা-পার্বণ, বিনিয়োগ, ও সঞ্চয়—all ক্ষেত্রে স্বর্ণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই দেশের ক্রেতারা প্রতিদিন বাজার পরিস্থিতি অনুসারে তাদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য কিছুটা কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব ফেলবে। তাই ক্রেতাদের উচিত বাজারে মূল্য ওঠানামা বুঝে বিনিয়োগ ও ক্রয়-বিক্রয় পরিচালনা করা। এমন পরিস্থিতিতে বাজার পর্যবেক্ষণ, মূল্য সমন্বয় এবং স্বর্ণের প্রকৃত মূল্য যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের বাজারে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় সব সময়ই চাহিদা অনুযায়ী ওঠানামা দেখায়। বিশেষ করে সোনার প্রতি মানুষের আস্থা ও বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে স্বর্ণের গুরুত্ব বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এজন্য ক্রেতারা, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীরা স্বর্ণের মূল্যের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকছেন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রতিদিনই বাজার পর্যবেক্ষণ করে, মূল্য সমন্বয় করে ক্রেতাদের সঠিক তথ্য দেয়ার চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের পরামর্শ হলো, ভরিতে স্বর্ণের দাম দেখার পাশাপাশি গহনার মান, ডিজাইন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রয়-বিক্রয় করা। বাজারে যে কোনও অনিশ্চয়তার সময় দাম পরিবর্তন হতে পারে। তাই আজ ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষিত নতুন দাম অনুযায়ী ক্রয়-বিক্রয় করে ক্রেতারা সঠিক আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
সব মিলিয়ে আজকের দিনে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা নির্ধারণ হওয়ায় ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় চাহিদার ওঠানামা সবসময় নজরে রাখার গুরুত্ব আছে। স্বর্ণকে কেবল সঞ্চয় বা বিনিয়োগের উপকরণ নয়, বরং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখা হয়। তাই ক্রেতাদের উচিত সচেতনভাবে লেনদেন করা এবং বাজুসের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা।
আজকের এই দাম দেশের বাজারে স্বর্ণের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্রেতারা এখন ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের নতুন দামের সঙ্গে নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা মিলিয়ে কাজ করবেন। একই সঙ্গে রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকার কারণে ক্রেতারা রুপা এবং স্বর্ণের মধ্যে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।