হতাশা ছাপিয়ে নন্দিত পূর্ণিমার রূপালী অধ্যায়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪ বার

হতাশা ছাপিয়ে নন্দিত পূর্ণিমার রূপালী অধ্যায়
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নাম দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। নব্বই দশকের শেষপ্রান্তে যখন দেশীয় সিনেমা পলক পেতে অপেক্ষা করছিল নতুন মুখের, ঠিক তখনই পূর্ণিমার আবির্ভাব যেন নতুন এক আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে। রুপালি পর্দায় আত্মপ্রকাশের পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি অগণিত দর্শকের ভালোবাসা আর আস্থার প্রতীক হয়ে আছেন। আজ এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর জন্মদিন। নতুন কোনো সিনেমার শুটিং সেট বা জমকালো কোনো আয়োজনে নয়, বরং পরিবারের সঙ্গেই তিনি দিনটি কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পূর্ণিমা নিজেই।

পূর্ণিমার অভিনয়জীবন শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ১৫ মে, পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মধ্য দিয়ে। সে সময় তার বিপরীতে ছিলেন জনপ্রিয় নায়ক রিয়াজ। সিনেমার পর্দায় প্রথমবারেই নজর কেড়ে নেন তিনি। শুরু হয় নিরন্তর পথচলা, কখনো আলো, কখনো অন্ধকার পেরিয়ে। পূর্ণিমা নিজেই বলেছেন, দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময়ের এই অভিনয় জীবনে বারবারই এসেছে চড়াই-উৎরাই, অনেক সময় এমনও হয়েছে যখন তিনি ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছিলেন, হতাশ হয়েছিলেন। তবে সেই হতাশা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। উপস্থাপনার মাধ্যমে আবারো ফিরে আসেন আলোচনায়, ফিরে পান দর্শকের সেই আগের ভালোবাসা।

আজকের পূর্ণিমা দাঁড়িয়ে আছে সেই বিরল অভিনেত্রীদের তালিকায়, যাদের ঝুলিতে রয়েছে প্রায় ৮০টি ব্যবসাসফল সিনেমা। ‘যোদ্ধা’ সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্য তার ক্যারিয়ারকে যেমন মজবুত করেছিল, তেমনি ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকায় আছে নায়ক রাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘সুলতান’, ‘পিতা মাতার আমানত’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’, ‘বিয়ের প্রস্তাব’, ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলোনা’ প্রভৃতি সিনেমা। এই দীর্ঘ তালিকা প্রমাণ করে, একজন অভিনেত্রী হিসেবে পূর্ণিমা কেবল রূপালী পর্দায় নয়, মানুষের মনে স্থায়ী আসন পেয়েছেন তার অভিনয়নৈপুণ্য আর চারিত্রিক সহজতার কারণে।

পূর্ণিমার নিজের কথাতেই উঠে এসেছে কৃতজ্ঞতার ছোঁয়া—প্রযোজক, পরিচালক, সহশিল্পী, সাংবাদিক থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ দর্শক, এমনকি তার মায়ের অবদানও তিনি অকপটে স্বীকার করেন। সেই মা-ই তাকে অভিনয়ে এগিয়ে যেতে প্রেরণা দিয়েছিলেন, যার কারণে বাংলাদেশের সিনেমা পেয়েছে পূর্ণিমার মতো এক শক্তিমান শিল্পীকে।

অভিনয়ের শুরুতে সিনেমার পাশাপাশি টিভি নাটকেও কাজ করেছেন পূর্ণিমা। রেজানুর রহমানের নির্দেশনায় শহীদুজ্জামান সেলিমের বিপরীতে করা নাটক তার মঞ্চাভিনয় দক্ষতাকে আরও শাণিত করেছিল। পরে কাজী হায়াতের ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলোনা’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, যা তার ক্যারিয়ারের আরেকটি উজ্জ্বল পালক।

দীর্ঘ এই অভিনয়জীবনের পরও পূর্ণিমার গল্প থেমে নেই। সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘আহারে জীবন’-এর মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, সময় বদলালেও পূর্ণিমার প্রতি মানুষের ভালোবাসা একই রকম অটুট। আজকের পূর্ণিমা তাই শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি এক প্রজন্মের স্বপ্ন, সিনেমার ভিড়ে এক অদম্য অধ্যায়—যে অধ্যায় বারবার হতাশা পেরিয়ে নতুন করে জ্বলে উঠেছে ক্যামেরার আলোয়।

জন্মদিনে পূর্ণিমাকে ভালোবাসা আর শুভেচ্ছা। দীর্ঘ অভিনয়জীবন হোক আরও রঙিন, আরও সমৃদ্ধ, আরও নতুন গল্পের রূপালী ছোঁয়ায় ভরা—এটাই পূর্ণিমার ভক্ত আর দেশীয় সিনেমাপ্রেমীদের একান্ত কামনা।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত