প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আজ এক শোকাবহ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের লড়াকু সৈনিক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা। জানাজায় ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজা শুরুর ঠিক আগে উপস্থিত লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি তার ছোট ভাইকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন এবং প্রশাসনের কাছে এক কঠিন বিচার দাবি উত্থাপন করেন।
পরিবারের সবচেয়ে ছোট এবং আদরের সদস্যকে হারানোর যন্ত্রণায় আবু বকর সিদ্দিক যখন কথা বলছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ হাজার হাজার মানুষের চোখে অশ্রু দেখা যায়।
বক্তব্যের শুরুতেই আবু বকর সিদ্দিক হাদির শিশুপুত্রের কথা উল্লেখ করে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন। তিনি বলেন, “ওসমান হাদির সন্তানের বয়স এখন মাত্র ৮ মাস। সন্তান হওয়ার পর সে আমাকে বলেছিল—ভাই, আমার সন্তানের জন্য এমন একটা নাম নির্বাচন করবেন যে নামের মধ্যে বিপ্লবী চেতনা থাকবে, যে নাম সাহসিকতার পরিচয় বহন করবে। আমি ওর সন্তানের নাম রেখেছিলাম ‘ফিরনাস’, যার অর্থ বিপ্লবী ও সাহসী।
আজ সেই অবুঝ শিশুটির মুখের দিকে তাকানো যায় না। আমার বৃদ্ধ মা সন্তানের শোকে প্রায় পাগল হয়ে গেছেন, বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। আমরা ছয় ভাই-বোনের মধ্যে হাদি ছিল সবার ছোট, অথচ আজ বড় ভাই হয়ে তার লাশ আমাকে কাঁধে বহন করতে হচ্ছে।”
ব্যক্তিগত শোকের পাশাপাশি আবু বকর সিদ্দিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দেশের মানুষের সামনে এক গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেন। ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ আপনাদের কাছে আমার অন্য কোনো দাবি নেই, শুধু একটিই দাবি—প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানী ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্যে গুলি করে খুনিরা যদি পার পেয়ে যায়, তবে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। ঘটনার আজ ৭ থেকে ৮ দিন পার হয়ে গেল, অথচ খুনিদের ধরা যায়নি। তারা যদি সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে গিয়ে থাকে, তবে সেই ৫-৭ ঘণ্টা সময় তারা কীভাবে সুযোগ পেল? রাষ্ট্রের কাছে এই প্রশ্ন আমি রেখে গেলাম।”
তার এই বক্তব্যের পর পুরো জানাজাস্থলে এক গম্ভীর ও বিচারপ্রার্থী আবহাওয়া তৈরি হয়। উপস্থিত জনতা সমস্বরে হাদির হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। জানাজা শেষে শহীদ হাদির কফিন যখন দাফনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন চারপাশ ‘হাদি তোমার রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বড় ভাইয়ের এই সাহসী ও যৌক্তিক দাবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সবখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা সরকারের ওপর খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।