কুয়াশা কেটে দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি স্বাভাবিক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া রুটে দীর্ঘ সময় ফেরি ও অন্যান্য নৌযান চলাচল বন্ধ থাকার পর অবশেষে স্বস্তি ফিরেছে। টানা প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর শুক্রবার সকাল থেকে এই নৌরুটে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। এতে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান ঘটেছে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

ঘাট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত আড়াইটার দিকে পদ্মা নদীর অববাহিকায় হঠাৎ করেই ঘন কুয়াশা নেমে আসে। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেড়ে যায় যে নদীতে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। কয়েক হাত দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের নৌ দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এই সিদ্ধান্তের ফলে রাতভর উভয় ঘাটে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ নানা ধরনের যান সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক যাত্রী রাতভর গাড়ির ভেতরেই অপেক্ষা করেন। শীতের কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য এই পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কষ্টকর।

ঘাট সূত্র জানায়, কুয়াশার কারণে নদীতে দিক নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফেরির নাবিকরা জানান, এমন পরিস্থিতিতে চলাচল করলে ফেরি চ্যানেল থেকে সরে যাওয়ার বা অন্য নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকে। অতীতে এই রুটে কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার নজির থাকায় কর্তৃপক্ষ এবার কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায়নি। তাই নিরাপত্তার স্বার্থেই চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়।

শুক্রবার সকাল হওয়ার পরও কুয়াশার প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো বাড়তে থাকায় ধীরে ধীরে কুয়াশার ঘনত্ব কমতে শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে নৌপথে দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এলে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরপরই একের পর এক ফেরি চলাচল শুরু হয় এবং দীর্ঘ লাইনে আটকে থাকা যানবাহন পারাপার হতে থাকে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে রাত আড়াইটার দিকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। নৌপথে দৃশ্যমানতা শূন্যের কাছাকাছি নেমে যাওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তাই ছিল আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। পরে সকালে কুয়াশার ঘনত্ব কমে আসে এবং দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক হলে বেলা ১০টার দিকে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা হয়।

তিনি আরও জানান, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যে যানজট সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে অতিরিক্ত ফেরি প্রস্তুত রাখা হয়। চালু হওয়ার পর দ্রুতগতিতে যানবাহন পারাপারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে আটকে পড়া যাত্রীদের ভোগান্তি কমে আসে। তবে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।

দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুট দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রুট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী যান চলাচল করে। ফলে ফেরি চলাচল বন্ধ হলেই এর প্রভাব পড়ে সড়ক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে পড়লে বিভিন্ন এলাকায় পণ্যের সরবরাহে বিলম্ব ঘটে, যার প্রভাব পড়ে বাজারেও।

যাত্রীরা জানান, কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ থাকা নতুন কিছু নয়। প্রতি বছর শীত মৌসুম এলেই এই রুটে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকলে ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অনেক যাত্রী আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে কুয়াশার মধ্যেও সীমিত আকারে হলেও ফেরি চলাচল সম্ভব হতে পারে।

নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীত মৌসুমে পদ্মা নদীতে ঘন কুয়াশা একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কারণ একটি বড় দুর্ঘটনা হলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি অপূরণীয় হতে পারে। একই সঙ্গে তারা পরামর্শ দিয়েছেন, কুয়াশা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি, যাতে শীতকাল এলেই যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে না পড়ে।

এদিকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন চালক ও যাত্রীরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নদী পার হয়ে অনেকেই গন্তব্যের পথে রওনা হয়েছেন। যদিও ঘাট এলাকায় এখনও কিছুটা চাপ রয়েছে, তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সব মিলিয়ে, সাড়ে সাত ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে আবারও গতি ফিরেছে। তবে শীত মৌসুম জুড়ে ঘন কুয়াশার আশঙ্কা থাকায় আগামী দিনগুলোতেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই যাত্রী ও যানবাহন চালকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি যাত্রার আগে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত