রাজনীতির প্রতি অনীহা, কঙ্গনার সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার দাবি উঠলো

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৯ বার
রাজনীতির প্রতি অনীহা, কঙ্গনার সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার দাবি উঠলো

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বলিউড তারকা কঙ্গনা রানাউতের রাজনৈতিক জীবন এক বছরও পূর্ণ করেনি, এরই মধ্যে তার মুখে বিরক্তি ও আক্ষেপের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আসন থেকে বিজেপির মনোনয়নে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কঙ্গনা। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার আবির্ভাব ছিল একপ্রকার চমক হিসেবেই দেখা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবের রাজনীতি তাকে ভিন্ন অভিজ্ঞতা দিয়েছে, যার অনেকটাই হতাশাজনক।

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা রানাউত জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাধারণ মানুষের নানা ছোটখাটো সমস্যা—যেমন নালা পরিষ্কার, রাস্তা মেরামত ইত্যাদি বিষয় নিয়েও তার কাছে অভিযোগ আসে। যা তাকে বিস্মিতই নয়, বিরক্তও করেছে। কঙ্গনার ভাষায়, তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন একটি সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এই দায়িত্ব তাকে অপ্রত্যাশিত রকমের জটিলতায় ফেলেছে।

তিনিও স্বীকার করেছেন, সংসদ সদস্য হওয়ার প্রস্তাব পেয়ে তিনি ভেবেছিলেন কাজটি হালকাচালে করা যাবে। বলা হয়েছিল, বছরে ৬০-৭০ দিন সংসদে উপস্থিত থাকলেই যথেষ্ট হবে। বাকি সময় নিজের পছন্দসই পেশা, অর্থাৎ অভিনয়ে ব্যয় করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কঙ্গনা জানিয়েছেন, সংসদীয় কাজের চাপ ও জনগণের প্রত্যাশা এত বেশি যে, তার অভিনয়জীবন থেকে প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার কেবল একটি সিনেমা—‘ইমার্জেন্সি’ মুক্তি পেয়েছে, যেটির শুটিং শেষ হয়েছিল নির্বাচনের আগে। এরপর আর কোনো নতুন চলচ্চিত্রে তিনি যুক্ত হননি।

রাজনীতি করে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রেও তিনি সন্তুষ্ট নন বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, সংসদ সদস্য হিসেবে যে সম্মানী মেলে, তা বলিউডের জীবনের তুলনায় কিছুই নয়।

এই মন্তব্যের পর থেকেই বিজেপির ভেতরে ও বাইরে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। হিমাচল প্রদেশ সরকারের মন্ত্রী জগৎ সিং নেগি কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, কঙ্গনা যদি সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকেন, তাহলে তার উচিত অবিলম্বে পদত্যাগ করা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও কাজ না করলে তা জনদায়িত্বের অবমাননার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতির মতো গুরুভার পেশায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কঙ্গনার প্রকাশ্য অনীহা ও নেতিবাচক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে রাজনীতিতে প্রবেশ করা এক কথা, কিন্তু তা ধরে রাখা ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা অন্য এক কঠিন বাস্তবতা।

বর্তমানে কঙ্গনার বলিউড থেকে দূরত্ব, রাজনৈতিক হতাশা এবং নতুন করে হলিউডে কাজ শুরু করার খবর মিলিয়ে এটাও জল্পনার জন্ম দিয়েছে যে, হয়তো তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে কঙ্গনা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইঙ্গিত দেননি, তবে তার মন্তব্যগুলো যে নিজ দলেই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এখন দেখার বিষয়, কঙ্গনা রানাউত সত্যিই তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন নাকি ভবিষ্যতে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে নিজেকে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করেন। তবে হিমাচলের সাধারণ মানুষ, যারা তাকে আশাবাদ নিয়ে সংসদে পাঠিয়েছিলেন, তারা ইতোমধ্যেই এই নতুন সংসদ সদস্যের এমন মনোভাব দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত