ঢাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ, বিপাকে নগরবাসী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ বার
ঢাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা মহানগরীতে ফের মারাত্মক আকার ধারণ করেছে গ্যাসের স্বল্পচাপ সমস্যা। আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ ও শিল্পকারখানা—সবখানেই গ্যাস সরবরাহে ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সকাল ও রাতের রান্নার সময় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে অনেক বাসাবাড়িতে চুলা জ্বালানোই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাজধানীর লাখো মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এক বিজ্ঞপ্তিতে গ্যাসের এই স্বল্পচাপের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং একই সময়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় ঢাকা মহানগরীতে মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, আমিন বাজার এলাকায় তুরাগ নদীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে পাইপলাইনের একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে দ্রুত মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হলেও মেরামতকালীন সময়ে পাইপলাইনের ভেতরে পানি প্রবেশ করে। এর ফলে গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং চাপ পুনরুদ্ধার করতে সময় লাগছে।

তিতাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একই সময়ে ঢাকায় সামগ্রিকভাবে গ্যাসের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব রাজধানীতে সরাসরি পড়েছে। এর ফলেই নগরজুড়ে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গ্যাসের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা যেমন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মোতিজিল, মালিবাগ, রামপুরা, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাসকারী অনেক পরিবার জানিয়েছেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুলায় আগুন ধরানোই যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও রাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।

একজন গৃহিণী বলেন, “সকালে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর আগে রান্না করতে পারছি না। গ্যাস থাকে না বললেই চলে। বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বাড়তি খরচ।” এমন অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং নগরীর অসংখ্য পরিবারের প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। অনেক ছোট খাবারের দোকান গ্যাস না পেয়ে কার্যত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বড় রেস্তোরাঁগুলো বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার ব্যবহার করলেও এতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। এক রেস্তোরাঁ মালিক বলেন, “হঠাৎ করে সিলিন্ডারে নির্ভর করতে গেলে খরচ দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে লাভ তো দূরের কথা, টিকে থাকাই কঠিন।”

গ্যাস স্বল্পচাপের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাতেও। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, নিয়মিত গ্যাস না পেলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং সরবরাহ চেইনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইপলাইনে প্রবেশ করা পানি অপসারণ এবং চাপ স্বাভাবিক করতে প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের এক কর্মকর্তা বলেন, “পাইপলাইন মেরামত শেষ হলেও ভেতরে পানি থাকায় চাপ ফিরতে দেরি হচ্ছে। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যেন দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হয়।”

গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই দুর্ভোগের জন্য তারা গ্রাহকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী এবং সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ দীর্ঘদিনের সমস্যা। পাইপলাইন সুরক্ষা, নদীপথে নৌযান চলাচলের সময় সতর্কতা এবং বিকল্প জ্বালানির পরিকল্পনা আরও জোরদার না করলে এ ধরনের সংকট ভবিষ্যতেও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

এদিকে সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন, শীত মৌসুমে গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দৈনন্দিন জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধান এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত