প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ বিষয়টি বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো একদলীয় সুবিধা প্রদানের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করছেন। তার ভাষ্য, “সরকার বিশেষ রাজনৈতিক দলকে বিশেষ সুবিধা, সিকিউরিটি দিচ্ছে। প্রশাসনিক সুবিধা ও মিডিয়ার সমান ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না। এ কারণে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হওয়া নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সিগন্যালিং করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা পৌঁছে দেয়। তিনি যোগ করেন, এই উদ্বেগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল নিশ্চিত করেছেন যে, তারা আসন্ন নির্বাচনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই পর্যবেক্ষণ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নিশ্চিত করবে যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে।”
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেছেন, অনেক ঋণ খেলাপির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা নির্বাচনের নিয়মনীতি ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখনও এই বিষয়গুলোতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আশা করি তারা দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেবে, যাতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।”
এছাড়াও নাহিদ বলেন, দেশে নিরাপত্তার অবস্থা সবখানেই উদ্বেগজনক। তিনি উল্লেখ করেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হওয়ায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তথাপি তিনি নিশ্চিত করেন, “আমরা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও মাঠে কাজ করে যাবো এবং জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
নাহিদ ইসলাম জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল জানতে চেয়েছে, কেন তিনি জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে জোটের আসনবিন্যাস চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে। এনসিপি ও অন্যান্য ১১ দলীয় জোট নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন, যা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
বৈঠকের সময় নাহিদ ইসলাম ও প্রতিনিধি দলের মধ্যে নির্বাচনের সম্যক তথ্য বিনিময় হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক দলগুলোর নিরাপত্তা, মিডিয়ার সমান ব্যবহার এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতহীনতা নিশ্চিত করা। এছাড়াও বাংলাদেশের ভেতরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল সমানভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে পারে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশাসন, মিডিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমান ব্যবহার না হওয়ায় আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাহিদ ইসলামের উদ্বেগ শুধু একজন প্রার্থী বা জোটের নয়, বরং দেশের নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পর্যবেক্ষক দলের সংলাপ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নাহিদ ইসলাম শেষ পর্যন্ত বলেন, “আমরা সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে চাই। তবে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, নির্বাচনের মাঠ সমান এবং কোনও দল বিশেষ সুবিধা বা প্রভাব থেকে উপকৃত হবে না। জনগণ যাতে তাদের ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে ব্যবহার করতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এই ধরণের উদ্বেগ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলে ও রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনগণের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো উভয়ই দেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।