প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বলিউডের বহুল আলোচিত ও প্রভাবশালী অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত সম্প্রতি তার আসন্ন দক্ষিণী সিনেমা ‘কেডি-দ্য ডেভিল’-এর ট্রেলার উন্মোচন অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। শুধু নিজের অভিনীত সিনেমার কথাই নয়, বরং সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ ও বক্তব্য এদিন মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সঞ্জয় দত্ত বলেন, বর্তমানে বলিউডে যে আবেগ এক সময় ছায়াছবির প্রাণ ছিল, সেটির বড় রকমের অভাব অনুভব করছেন তিনি। “বলিউডে এখন আর আগের মতো সেই প্যাশনটা নেই,” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমি সেই আবেগটা এখন দক্ষিণী সিনেমা, এমনকি বাংলা চলচ্চিত্রেও খুঁজে পাচ্ছি। আমি চাই এই অনুভূতিটা আবার বলিউডে ফিরে আসুক, কারণ সিনেমা মূলত একটি আবেগের মাধ্যম।”
অভিনেতা জানান, তিনি বর্তমানে তেলেগু ভাষা শেখার চেষ্টা করছেন এবং এ ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা প্রভাস। “প্রভাস আমাকে শেখায়, আবার মাঝেমধ্যে আমাকে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে,” সঞ্জয়ের মন্তব্যে হাস্যরস থাকলেও তা ফুটিয়ে তোলে দুই অভিনেতার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক।
সঞ্জয় দত্ত জানান, দক্ষিণী চলচ্চিত্রের প্রতি তার ভালোবাসা নতুন নয়। কিংবদন্তি অভিনেতা চিরঞ্জীবীর প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি চিরঞ্জীবী স্যারের ভীষণ ভক্ত। উনি এখানে মুন্না ভাই হয়েছেন। তার সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। ঈশ্বর তার মঙ্গল করুন।”
সিনেমার মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ এবং সেই আবেগে দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সঞ্জয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বরাবরই স্পষ্ট। কিন্তু এখনকার বলিউডে সেই সংবেদনশীলতা ও আন্তরিকতার জায়গাটা কমে যাচ্ছে বলেই তিনি মনে করেন। ফলে একজন শিল্পী হিসেবে তিনি এখন নতুন উদ্দীপনা খুঁজে পাচ্ছেন দক্ষিণী ও বাংলা সিনেমায়।
‘কেডি-দ্য ডেভিল’ সিনেমাটি ২০২৬ সালের ১০ জুলাই মুক্তি পাবে। এর পাশাপাশি সঞ্জয় দত্ত আরও কয়েকটি ভিন্ন ভাষার ছবিতে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে তেলেগু সিনেমা ‘অখণ্ড ২’ ও ‘দ্য রাজা সাব’, হিন্দি সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ ও ‘বাপ’ এবং পাঞ্জাবি ছবি ‘শেরান দি কৌম পাঞ্জাবি’। এর মধ্য দিয়ে এই অভিনেতা যেন নিজেকে শুধু বলিউডে আটকে না রেখে ভারতীয় সিনেমার বহুধারায় প্রবেশ করছেন, যেখানে তার কাছে আসল মূল্য ‘আবেগ’, ‘প্যাশন’ এবং ‘নির্মল অভিনয়’।
সঞ্জয় দত্তের এই উন্মুক্ত স্বীকারোক্তি শুধু একজন শিল্পীর অভিজ্ঞতার নির্যাস নয়, বরং তা বলিউডের বর্তমান অবস্থা এবং তার ভবিষ্যতের এক গুরুত্বপূর্ণ আভাসও বটে। তাঁর মতো একজন তারকা যখন বাংলা ও দক্ষিণী সিনেমার পক্ষে কথা বলেন, তখন তা নিছক প্রশংসা নয়, বরং একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত দেয়।