সর্বশেষ :
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দূরত্ব ঘোচেনি ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

র্মজীবনে বই পড়ার গুরুত্ব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮ বার
কর্মজীবনে বই পড়ার অভ্যাস

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বই পড়া নিঃসন্দেহে একটি মানবিক, সৃজনশীল ও চিন্তাশীল অভ্যাস। শৈশব ও ছাত্রজীবনে আমাদের অধিকাংশের জীবনেই বই ছিল নিত্যসঙ্গী। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, কবিতা কিংবা জ্ঞানমূলক বই পড়ে আমরা ধীরে ধীরে চিন্তার জগৎকে বিস্তৃত করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কর্মজীবনে প্রবেশের পর অনেকের জীবন থেকে এই অভ্যাসটি প্রায় হারিয়ে যায়। ব্যস্ততা, দায়িত্ব, সময়ের অভাব—সব মিলিয়ে বই পড়া যেন হয়ে ওঠে বিলাসিতা। অথচ সত্য হলো, কর্মজীবনেই বই পড়ার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।

অনেকেই মনে করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা মনোযোগে ঘাটতি আসা স্বাভাবিক। কিন্তু গবেষণা বলছে, এটি বয়সজনিত সমস্যা নয়; বরং মানসিক চর্চার অভাব। নিয়মিত পড়াশোনা, নতুন কিছু শেখা বা বই পড়ার অভ্যাস না থাকলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসে। আমরা তখন দোষ দিই সময়কে, বয়সকে কিংবা কর্মচাপকে। অথচ একটু সচেতন হলেই বোঝা যায়—এই সমস্যার মূল কারণ আমাদের পাঠাভ্যাস থেকে দূরে সরে যাওয়া।

ছাত্রজীবনে আমরা নিয়মিত পড়েছি। পরীক্ষার জন্য হোক বা জ্ঞান অর্জনের জন্য—পড়ার মধ্যেই ছিল আমাদের দিনরাত। তখন মস্তিষ্ক ছিল সক্রিয়, নতুন তথ্য গ্রহণে প্রস্তুত। কিন্তু কর্মজীবনে এসে যখন শেখার প্রক্রিয়াটি সীমিত হয়ে যায়, তখন চিন্তাশক্তিও স্থবির হতে শুরু করে। অফিসের কাজ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেখানে শেখার সুযোগ অনেক সময় নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে। বই পড়া এই সীমাবদ্ধতা ভাঙতে সাহায্য করে। নতুন ভাবনা, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল চিন্তার জগতে আমাদের নিয়ে যায় বই।

বই পড়ার আরেকটি বড় দিক হলো মানসিক প্রশান্তি। কর্মজীবনের চাপ, প্রতিযোগিতা আর দায়িত্বের ভারে আমাদের মন প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই ক্লান্ত মনকে বিশ্রাম দেয় বই। একটি ভালো উপন্যাস, জীবনী বা প্রবন্ধ আমাদের বাস্তবতার বাইরে নিয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য। সেই সময়টুকু আমাদের মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। বই শুধু জ্ঞান বাড়ায় না, বরং মনকে করে হালকা, চিন্তাকে করে গভীর।

তবু প্রশ্ন আসে—সময় কোথায়? সত্যি বলতে, সময়ের অভাব অনেকটাই মানসিক। আমরা যদি ইচ্ছা করি, তবে ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করা সম্ভব। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে আধা ঘণ্টা বই পড়া, অফিসে যাতায়াতের পথে কয়েক পৃষ্ঠা পড়া কিংবা ছুটির দিনে কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখাই পারে আবার অভ্যাস গড়ে তুলতে। বই যদি বালিশের পাশে থাকে, তাহলে মোবাইল ফোনের বদলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে রাতের শেষ সঙ্গী।

বই পড়ার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৈচিত্র্য। একই ধরনের বই দীর্ঘদিন পড়লে একসময় একঘেয়েমি আসতে পারে। তাই সাহিত্যের পাশাপাশি জীবনী, দর্শন, ইতিহাস, বিজ্ঞান বা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখা বই পড়া দরকার। কেউ যদি উপন্যাস ভালোবাসেন, তবে মাঝেমধ্যে প্রবন্ধ বা স্মৃতিকথাও পড়তে পারেন। আবার যারা দর্শন বা ইতিহাস পড়েন, তারা সাহিত্য দিয়ে নিজেদের পড়ার জগৎকে রঙিন করতে পারেন। এই বৈচিত্র্যই বই পড়াকে আনন্দময় করে তোলে।

আনন্দ ছাড়া বই পড়া দীর্ঘস্থায়ী হয় না। অনেকেই মনে করেন, বই পড়া মানেই কঠিন কিছু বা শুধুই জ্ঞান অর্জনের বোঝা। এই ধারণা থেকেই অনেক সময় বইয়ের প্রতি অনীহা তৈরি হয়। অথচ বই পড়া হতে পারে আনন্দের উৎস। যে বই পড়ে আপনি আনন্দ পান না, যে বই আপনার কৌতূহল জাগায় না—সেই বই শেষ করতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ভালো না লাগলে বই বদলান। কারণ একটি ভালো বই আপনার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু ভুল বই সেই আগ্রহটাই নষ্ট করে দিতে পারে।

কর্মজীবনে বই পড়ার আরেকটি সুফল হলো ব্যক্তিত্বের বিকাশ। নিয়মিত পড়াশোনা মানুষকে করে সহনশীল, যুক্তিবাদী ও সহমর্মী। ভিন্ন মত ও ভিন্ন জীবনের গল্প পড়লে অন্যকে বোঝার ক্ষমতা বাড়ে। এটি কর্মক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বই পড়ার মাধ্যমে আরও দৃঢ় হয়।

বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে বই পড়ার অভ্যাসও কর্মজীবনে বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে। একসঙ্গে একটি বই বেছে নিয়ে পড়া, পরে তা নিয়ে আলোচনা করা—এই চর্চা শুধু পাঠাভ্যাসই তৈরি করে না, সম্পর্ককেও করে গভীর। বই নিয়ে আলোচনা মানেই নতুন চিন্তার আদান-প্রদান, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আজকের ডিজিটাল যুগে বই পড়ার মাধ্যমও বদলে গেছে। কাগজের বইয়ের পাশাপাশি ই-বুক ও অডিওবুক অনেকের জন্য সহজ বিকল্প হয়ে উঠেছে। যারা সময়ের অভাবে বসে বই পড়তে পারেন না, তারা অডিওবুক শুনতে পারেন গাড়িতে বসে বা হাঁটার সময়। মূল বিষয় হলো, পড়ার অভ্যাসটা যেন কোনো না কোনোভাবে বজায় থাকে।

সবশেষে বলা যায়, কর্মজীবন মানেই শুধু দায়িত্ব আর ব্যস্ততা নয়। এটি নিজের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক গড়ার সময়ও। বই পড়া সেই সম্পর্ককে গভীর করে। জীবনের গতির ভিড়ে বই আমাদের থামতে শেখায়, ভাবতে শেখায়, মানুষ হতে শেখায়। তাই কর্মজীবনেও বই পড়ার অভ্যাস যেন হারিয়ে না যায়—এই সচেতনতা আজ সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত