সর্বশেষ :
ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের বোনাস ফসলে সরিষার বিপ্লব, যশোরে ভোজ্যতেলের নতুন আশা

আখিরাত অস্বীকারের ভয়াবহ পরিণতি ও কোরআনের সতর্কতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৩ বার
আখিরাত অস্বীকারের ভয়াবহ পরিণতি ও কোরআনের সতর্কতা

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মানুষের বিশ্বাস, চিন্তা ও জীবনদর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে যে বিষয়টি সবচেয়ে গভীর প্রভাব ফেলে, তা হলো পরকালের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। মানুষ কি মনে করে জীবন কেবল জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্তই সীমাবদ্ধ, নাকি মৃত্যুর পরও রয়েছে এক চূড়ান্ত জবাবদিহি, হিসাব ও প্রতিদানের পর্ব—এই বিশ্বাসই নির্ধারণ করে তার নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং আচরণ। পবিত্র কোরআন বারবার এই মৌলিক সত্যের দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সুরা বনি ইসরাঈলের দশ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, যারা আখিরাতে ঈমান আনে না, তাদের জন্য তিনি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।

আয়াতটির ভাষাগত গভীরতা ও অর্থগত তাৎপর্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর যারা আখিরাতে ঈমান আনে না, আমি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” এই সংক্ষিপ্ত আয়াতের মধ্যেই ঈমান ও কুফরের পার্থক্য, মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য এবং চূড়ান্ত পরিণতির একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা ফুটে উঠেছে। আখিরাতে ঈমান ইসলামী আকিদার অন্যতম মূল স্তম্ভ। আল্লাহ, রাসুল, কিতাব, ফেরেশতা ও তাকদিরের প্রতি বিশ্বাসের পাশাপাশি আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া ঈমান পূর্ণতা পায় না।

আখিরাত অস্বীকার করার অর্থ কেবল একটি ধর্মীয় মতবাদ প্রত্যাখ্যান করা নয়; বরং এটি মানুষের চিন্তাজগৎকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, তার কাছে ন্যায় ও অন্যায়, ভালো ও মন্দের সীমারেখা ক্রমে অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। যখন কেউ বিশ্বাস করে যে মৃত্যুর পর কোনো হিসাব নেই, কোনো জবাবদিহি নেই, তখন দুনিয়ার স্বার্থ, ক্ষমতা ও প্রবৃত্তিই হয়ে ওঠে তার জীবনের চূড়ান্ত মানদণ্ড। ফলে সমাজে অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও নৈতিক অবক্ষয় বাড়তে থাকে। কোরআন এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই আখিরাতের প্রতি ঈমানকে মানুষের চরিত্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

এই আয়াতে ব্যবহৃত “আমি প্রস্তুত রেখেছি” বা “أَعْتَدْنَا” শব্দটি বিশেষভাবে চিন্তার দাবি রাখে। এটি বোঝায় যে, আখিরাত অস্বীকারকারীদের জন্য শাস্তি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আল্লাহর সুবিচারভিত্তিক, পূর্বনির্ধারিত ও অবশ্যম্ভাবী ব্যবস্থা। আল্লাহ তাআলা কারও প্রতি জুলুম করেন না; বরং মানুষ নিজেই যখন জেনে-বুঝে সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন সে তার পরিণতির দিকে অগ্রসর হয়। এই শব্দচয়ন মানুষের জন্য একটি গভীর সতর্কবার্তা—এতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আখিরাত অস্বীকার করা নিছক মতের পার্থক্য নয়, বরং এটি এমন এক অবস্থান যা মানুষকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়।

আয়াতে উল্লিখিত “যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি” বা “عَذَابًا أَلِيمًا” শব্দগুচ্ছও বহুমাত্রিক অর্থ বহন করে। অনেকেই শাস্তিকে কেবল শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করে। অথচ কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে স্পষ্ট হয় যে, আখিরাতের শাস্তি শুধু দেহগত কষ্ট নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর আত্মিক লাঞ্ছনা, চরম অনুশোচনা, লজ্জা ও হতাশা। যখন মানুষ বুঝতে পারবে যে সে সত্য জেনেও তা অস্বীকার করেছে, তখন সেই উপলব্ধির বেদনাই হবে তার জন্য এক ভয়াবহ শাস্তি।

কোরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তাআলা আখিরাত অস্বীকারকারীদের মানসিক ও নৈতিক অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন। তারা দুনিয়ার জীবনকে খেল-তামাশা মনে করে, আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঠাট্টা করে এবং নবীদের সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করে। কিন্তু কিয়ামতের দিন সেই উপেক্ষারই ফল তাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তখন আর কোনো অজুহাত, কোনো অনুশোচনা বা কোনো প্রত্যাবর্তনের সুযোগ থাকবে না। এই বাস্তবতা মানুষকে আগেভাগেই সতর্ক করার জন্যই কোরআনে বারবার তুলে ধরা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আয়াতের উদ্দেশ্য মানুষকে হতাশ বা ভীত করে দেওয়া নয়; বরং তাকে সচেতন করা। আল্লাহ তাআলা চান মানুষ বুঝুক যে, এই দুনিয়ার প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা ও প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি চূড়ান্ত হিসাব রয়েছে। আখিরাতে ঈমান মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে, তাকে সংযম শেখায় এবং ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকতে অনুপ্রাণিত করে। একজন মানুষ যখন বিশ্বাস করে যে তাকে একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে জবাব দিতে হবে, তখন সে অন্যায় থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করে, মানুষের হক আদায়ে সচেষ্ট হয় এবং নিজের চরিত্রকে শুদ্ধ করার জন্য সংগ্রাম করে।

আধুনিক সমাজে অনেক সময় আখিরাতের ধারণাকে অবাস্তব বা সেকেলে বলে উপস্থাপন করা হয়। ভোগবাদী চিন্তাধারা মানুষকে বোঝাতে চায় যে সুখ ও সফলতা কেবল এই দুনিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের অন্তরের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। আখিরাতে ঈমানই মানুষকে জীবনের গভীর অর্থ ও উদ্দেশ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে। কোরআনের এই আয়াত সেই চিরন্তন সত্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

সুরা বনি ইসরাঈলের এই আয়াত ঈমানদারদের জন্য যেমন আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি করে, তেমনি অবিশ্বাসীদের জন্যও এক শেষ সতর্কবার্তা বহন করে। এটি ঘোষণা করে যে, আল্লাহর দয়ার দরজা এখনো খোলা আছে, কিন্তু সেই দয়ার সুযোগ চিরকাল থাকবে না। আখিরাত অস্বীকার করা মানেই আল্লাহর প্রস্তুতকৃত কঠোর পরিণতির দিকে এগিয়ে যাওয়া। আর আখিরাতে ঈমান আনা মানেই আল্লাহর ন্যায়বিচার ও দয়ার ওপর ভরসা রেখে দায়িত্বশীল জীবনযাপনের পথে অগ্রসর হওয়া।

এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষ যতই দুনিয়ার উন্নতি, জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাক না কেন, শেষ সত্য হলো আল্লাহর সামনে ফিরে যাওয়া। সেই ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়াই হলো প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা। কোরআনের এই স্পষ্ট সতর্কবার্তা তাই শুধু ধর্মীয় পাঠ নয়, বরং মানবজীবনের দিকনির্দেশনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত