প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের প্রত্যন্ত ও অবহেলিত অঞ্চলের হিফজ শিক্ষার্থীদের শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা করতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার অনুমোদিত বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পিপলস ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিসব)। শীতকালীন এই কার্যক্রমের আওতায় ৭ জেলার ২৫টি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে গিজার ও রুম হিটার বিতরণ করা হয়েছে। এতে শত শত শিক্ষার্থী উপকৃত হচ্ছে, যারা প্রতিদিন ভোররাতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে বসে কোরআন হিফজের কাজে নিয়োজিত থাকে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা এবং মানিকগঞ্জের বিভিন্ন আবাসিক মাদ্রাসার হিফজ শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও উষ্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রামের বেশকিছু মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অধিকাংশ শিক্ষার্থীই দরিদ্র ও এতিম পরিবারের সন্তান। শীতকালে তাদের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাব থাকায় শিক্ষার্থীরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। কারও কম্বল পাতলা, কারও একেবারেই নেই। ফলে একই কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শীত সহনশীলতায় বড় ফারাক দেখা যায় এবং অনেক শিক্ষার্থী তীব্র কষ্টে পড়তে হয়।
হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভোরের অন্ধকারে ঘুম থেকে উঠে কোরআন পড়া শুরু করতে হয়। সেই সময় ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ওযু করা এবং ঠাণ্ডা কক্ষে দীর্ঘ সময় বসে থাকা তাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শীতকালীন পরিবেশে মনোযোগ ধরে রাখা দারুণ কষ্টকর হয়ে ওঠে। পিসবের বিতরণকৃত রুম হিটার শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে সমান ও নিরাপদ উষ্ণতা প্রদান করছে। এতে শিক্ষার্থীরা আরামদায়ক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারছে। একই সঙ্গে গিজারের মাধ্যমে গরম পানির ব্যবস্থা হওয়ায় ওযু ও দৈনন্দিন ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমেছে এবং অসুস্থতার ঝুঁকিও হ্রাস পেয়েছে।
এই কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন মাওলানা ইমরান হোসাইন হাবিবী, প্রকল্প পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক, পিপলস ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ। তিনি জানান, ‘হিফজ শিক্ষার্থীরা কোরআনের খাদেম। শীতের কারণে যেন তাদের ইলম শিক্ষা ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, গিজার ও রুম হিটারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এখন স্বস্তিতে ইবাদত ও পড়াশোনা করতে পারছে।’
পিসব কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, এই শীতকালীন উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা খাতে ভবিষ্যতেও কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে। এটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অবহেলিত শিক্ষার্থীরা যারা কঠোর শীতে শিক্ষাজীবনে বাধা ভোগ করতেন, তাদের জন্য এটি এক নতুন সুযোগ এবং সুবিধা।
শুধু শিক্ষাগত ক্ষেত্রে নয়, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ ও উষ্ণ পরিবেশে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে। ফলে তারা হিফজ কার্যক্রমে আরও মনোযোগী হতে পারছে। পিসবের এই মানবিক উদ্যোগ দেশের জন্য এক নজির স্থাপন করেছে, যেখানে সংস্থার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে এই ধরনের মানবিক সহায়তা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য। কোরআন হিফজ কার্যক্রমে প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণের সময় কঠিন শীতের মধ্যে বসে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য গরম পানি ও রুম হিটার সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা। এ ধরনের কার্যক্রম দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং মানবিক সহমর্মিতার চিত্র প্রতিফলিত করে।
পিসবের এ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। হিফজ শিক্ষার্থীরা এখন আর শীতের তীব্রতাকে অতিক্রম করতে সমস্যায় পড়ছে না এবং তারা আরও স্বচ্ছন্দভাবে কোরআন হিফজের কাজে নিয়োজিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে নিজের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।