বছর শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রথম মৃত্যু রাজশাহীতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ বার
নতুন বছরে ডেঙ্গু মৃত্যু রাজশাহী

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নতুন বছরের শুরুতেই দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপে প্রথম প্রাণহানি ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে সোমবার (১২ জানুয়ারি) জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩০ বছর বয়সি এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, যদি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম দিনে রেকর্ডকৃত এই মৃত্যু দেশের জন্য নতুন সতর্কবার্তা। মৃত যুবক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল চোখে পড়ার মতো। সেদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চার শতাধিক রোগী মারা গেছেন। চলতি বছরের শুরুতে একমাত্র রাজশাহীতে নয়, অন্যান্য বিভাগেও নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৩৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, বরিশাল বিভাগে ৭ জন, ঢাকা ও খুলনা বিভাগে ২ জন করে এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১ জন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের বর্তমান হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যা ৬১০ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, ২০০০ সাল থেকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর ছিল ২০২৩, যখন দেশে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। এরপরও ২০২৫ সালে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ছিল অপ্রতুল এবং চার শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

ডেঙ্গু বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বছরের শুরুতেই মৃত্যুর এই ঘটনা এবং নতুন আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে বর্ষার আগেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেবে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অপরিহার্য। যেসব এলাকায় মশার প্রজনন হয়, সেখানে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মশারি ব্যবহার ও ব্যক্তিগত সতর্কতা প্রয়োজন।

রাজশাহী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে স্বাস্থ্য অধিদফতর ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে। তারা স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং রোগী সনাক্তকরণে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা এবং দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া সরকারকে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডেঙ্গু এখন শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকি নয়, বরং জনজীবনের জন্যও বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং রোগীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত রোগীদের হাইড্রেশন এবং জ্বর কমানোর ওষুধ সরবরাহ করা মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে জল জমে থাকা এবং আবর্জনা ঠিকভাবে অপসারণ না করার কারণে এডিস মশার প্রজনন বেড়ে যাচ্ছে।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তাই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেড ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতেই ডেঙ্গুতে প্রথম প্রাণহানি এবং নতুন আক্রান্তদের তথ্য সরকারের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, একমাত্র সমন্বিত প্রচেষ্টা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু নগর এলাকাতেই নয়, দেশের প্রান্তিক অঞ্চলেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকেও সচেতন হতে হবে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট, নতুন বছরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও জনগণকে আরও প্রস্তুত থাকতে হবে। এডিস মশার দ্রুত নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনসচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এখনি পদক্ষেপ নিলে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত