সর্বশেষ :
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দূরত্ব ঘোচেনি ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

দ্বিতীয় বিয়ে: প্রথম স্ত্রীর অনুমতি কি বাধ্যতামূলক?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪০ বার
দ্বিতীয় বিয়ে: প্রথম স্ত্রীর অনুমতি কি বাধ্যতামূলক?

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিয়ে মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি কেবল ব্যক্তিগত সুখ ও সার্থকতার জন্য নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং পরিবারে শান্তি বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসলামও বিয়েকে মহান আল্লাহর এক অগণন অনুগ্রহ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কোরআনের ভাষায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তিনি মানুষের জন্য তাদেরই মধ্য থেকে সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা শান্তি লাভ করে এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও দয়া প্রকাশ করতে পারে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, বিয়ে কেবল শারীরিক বা সামাজিক সম্পর্ক নয়, বরং মানসিক ও আত্মিক শান্তির উৎস।

ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে তা সবসময় সুবিচার ও সাম্য বজায় রাখার শর্তে। কোরআনের নিসা সুরায় বলা হয়েছে, ‘তোমরা বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমার ভালো লাগে দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে বিয়ে করো।’ ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝা যায়, একজন পুরুষ যদি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান, তার জন্য দরকার পূর্ণ সামর্থ্য, সুবিচার, ভরণপোষণের সামর্থ্য এবং প্রথম স্ত্রীর প্রতি ন্যায্যতা বজায় রাখা।

প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি ইসলামে জটিল এবং সূক্ষ্ম। রাজধানী ঢাকার আফতাবনগরের আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলূম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মুফতি মোহাম্মদ আলী বলেন, শরয়ি কারণ থাকলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যায়। শরয়ি কারণ বলতে বোঝানো হয় যদি প্রথম স্ত্রী অবাধ্য, শারীরিক সম্পর্ক করতে অক্ষম, গুরুতর অসুস্থ, বা এমন কোনো অবস্থা থাকে যেখানে স্বামীর জন্য পরিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে একজন আলেমের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক, এবং তারপরেই দ্বিতীয় বিয়ে করা জায়েজ। তবে প্রথম স্ত্রীর কোনো সমস্যা না থাকলে অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা ইসলামে উপযুক্ত নয়, কারণ এতে বৈষম্য এবং অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়।

ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ে শুদ্ধভাবে সম্পন্ন হয় এমন শর্তে, যখন প্রথম স্ত্রীর অধিকার এবং মর্যাদা বজায় থাকে। অনুমতি না নিয়ে বিয়েটি বৈধ হলেও তা প্রথাগত ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুচিত বলে বিবেচিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘মুমিনদের মধ্যে পূর্ণতর মুমিন সেই ব্যক্তি, যার আচরণ উত্তম এবং স্ত্রীদের কাছে সদাচারী।’ হাদিসগুলো স্পষ্টভাবে দেখায় যে, স্ত্রীদের প্রতি সদাচার ও কোমল মনোভাব একজন মানুষের মুমিনের চরিত্রের মূল ভিত্তি। তাই দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইনগত দিক থেকেও বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন ও শাস্তি বিধির নিয়মাবলী এটি নিশ্চিত করে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারামতে বলা আছে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বা সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিয়ে নিবন্ধন করা যায় না। অনুমতিহীন বিয়ে আইনত অবৈধ এবং এই ক্ষেত্রে স্বামীকে দণ্ডিত করা হতে পারে। ঝিনাইদহ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুফতি ইলিয়াছ আলমগীর বলেন, অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা এবং প্রথম স্ত্রীর ভরণপোষণ না দেয়া ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্বামী সাত বছরের পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এছাড়া সন্তান থাকলে তার জন্যও ভরণপোষণ দিতে হবে, যা পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।

এই আইন ও ইসলামের নির্দেশনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয় যে, দ্বিতীয় বিয়ে করার সময় প্রথম স্ত্রীর সম্মান ও অধিকার রক্ষা অপরিহার্য। ইসলামের মূল দিক হলো পরিবারে শান্তি ও ন্যায্যতা বজায় রাখা। একজন স্বামী যদি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান, তবে তা করতে হবে সম্মতি ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে, যাতে প্রথম স্ত্রী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কোনো ক্ষতি না হয়। অনুমতি নেয়া শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি পরিবার ও সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে বলা যায়, ইসলাম দ্বিতীয় বিয়েকে অনুমতি দিয়েছে কিন্তু সেই অনুমতি সবসময় শর্তসাপেক্ষ। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা আইনি ও নৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীদের খুশি ও সমতা বজায় রাখা, ভরণপোষণ নিশ্চিত করা এবং কোন প্রকার বৈষম্য এড়ানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন বিদ্যমান, তাই দেশের আইন ও ইসলামী নির্দেশনার সম্মিলিত দিকনির্দেশনা অনুসরণ করাই উত্তম। দ্বিতীয় বিয়েতে স্বামীকে দায়িত্বশীলতা, ন্যায্যতা ও সদাচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পরিবারে শান্তি ও সামাজিক সমতা বজায় থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত