শিশুর বুকে ব্যথা: কখন ডাকবেন ডাক্তার?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
শিশুর বুকে ব্যথা: কখন ডাকবেন ডাক্তার?

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শিশুদের বুকে ব্যথা নিয়ে অনেক বাবা-মা কম গুরুত্ব দিতে পারেন। সাধারণ বিশ্বাস অনুযায়ী, জন্মগত ত্রুটি ছাড়া শিশুদের বুকে ব্যথা সাধারণত হার্টের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানও এ কথাকে সমর্থন করে। বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রায় ৯৫ ভাগ শিশুর বুকে ব্যথা হৃদরোগের কারণে হয় না। তবে ১ থেকে ৪ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হৃদরোগের সংকেত হতে পারে। তাই এই বিষয়টি কখনও অবহেলা করা উচিত নয়।

শিশুর বুকে ব্যথা দেখা দিলে প্রথমেই গুরুত্বের সঙ্গে তাদের অনুভূতিটি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। শিশুদের ১ থেকে ১০ স্কেলে ব্যথার তীব্রতা মূল্যায়ন করতে বলুন এবং সেই সময় তার নাড়ি নিয়মিত পরীক্ষা করুন। যদি শিশুর নাড়ি ১৬০ থেকে ১৮০ স্পন্দনের বেশি থাকে, তখন দ্রুত কার্ডিওলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। শিশুর কাছ থেকে স্পষ্টভাবে জানতে হবে ব্যথা কবে, কোথায় এবং কতটা তীব্র তা। এই তথ্য চিকিৎসকের জন্য মূল্যবান এবং সময়মতো নির্ণয় সহজ করে।

শিশুদের হার্ট-সংক্রান্ত সমস্যা বাড়ছে আধুনিক জীবনধারার কারণে। হপকিন্স চিলড্রেন’স সেন্টারের হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের এমডি উইলিয়াম রাভেকস বলেন, অস্থির জীবনধারা, ফাস্টফুড ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রাচুর্য, অতিরিক্ত ওজন এবং মানসিক অস্থিরতার কারণে শিশুদের হার্টের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। তাই বাবা-মা যদি সন্তানদের জীবনধারা, খাদ্যাভাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তা শিশুদের হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

শিশুর বুকে ব্যথা কখন সত্যিই চিন্তার বিষয় হতে পারে, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। যদি ব্যথার তীব্রতা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বৃদ্ধি পায়, এটি সাধারণ ব্যথা নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যথা যদি ব্যায়াম বা শারীরিক ক্রিয়াকলাপের সময় ঘটে, অথবা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে যুক্ত হয়, তা সময়মতো চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। কখনও কখনও শিশুর বুকের ব্যথা হঠাৎ অজ্ঞান হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা দাবি করে।

যেসব শিশু জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্ম নিয়েছে, তাদের বুকে ব্যথা অনুভব হলে তা অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। এছাড়া কাওয়াসাকি রোগ, উচ্চ কোলেস্টেরলের জেনেটিক ঝুঁকি, এবং পরিবারে কার্ডিওমায়োপ্যাথি বা হঠাৎ মৃত্যুর ইতিহাস থাকলে শিশুর বুকে ব্যথা অতিরিক্ত সতর্কতার ইঙ্গিত। এই ধরনের ক্ষেত্রে পরিবারকে শিশুর স্বাস্থ্যের উপর নিবিড় নজর রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, পরিবারে হার্টের সমস্যা থাকলে শিশুদের হার্টের স্বাস্থ্যের নিয়মিত মনিটরিং করা অত্যন্ত জরুরি। হার্টের রোগ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারে। বাবা-মা চাইলে শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কোলেস্টেরল, ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি মতো নির্দিষ্ট পরীক্ষা করাতে পারেন।

শিশুদের বুকে ব্যথার সঙ্গে মানসিক উদ্বেগ, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অবাঞ্ছিত আচরণ যুক্ত হলে তা সাধারণ ব্যথা নয়, বরং গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। এছাড়া শিশুদের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ বাড়ানো, ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুদের জন্য সচেতন অভিভাবকত্ব কেবল তাদের দেহ নয়, মানসিক স্বাস্থ্য ও সার্বিক উন্নয়নেও প্রভাব ফেলে। শিশুদের বুকে ব্যথা কোনো ছোট বিষয় মনে না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা, পরিবারের স্বাস্থ্যের ইতিহাস জানা, এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারা নিশ্চিত করা শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।

শিশুদের বুকে ব্যথা সাধারণত গুরুতর না হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হৃদরোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। তাই প্রতিটি অভিভাবককে সতর্ক থাকা, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা, এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি দায়বদ্ধ দৃষ্টি রাখা জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত