পল্টনে ডিবির ঝটিকা অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৯ বার
পল্টনে ডিবির ঝটিকা অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আরেকটি বড় সাফল্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পল্টন এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি-মতিঝিল বিভাগ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে ইয়াবার পাইকারি সরবরাহ চক্র ভাঙার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

ডিবি সূত্র জানায়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে পল্টন মডেল থানাধীন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিপরীত পাশে একটি গাড়ি বিক্রয় কেন্দ্রের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি-মতিঝিল বিভাগের একটি চৌকস দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন মো. বিল্লাল হোসেন (৪৫) এবং মো. আল আমিন (২৮)। ডিবি কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ ও বহনের কৌশল দেখে প্রাথমিকভাবেই ধারণা করা হয়, তারা কোনো খুচরা বিক্রেতা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত মাদক কারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরাও বিষয়টি স্বীকার করেছে।

ডিবি-মতিঝিল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালান সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। বিশেষ করে পল্টন, মতিঝিল, শাহবাগ ও পুরান ঢাকার কয়েকটি এলাকায় পাইকারি পর্যায়ে ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে তারা জড়িত ছিল বলে তথ্য মিলেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গ্রেফতার দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। মো. বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানায় তিনটি এবং মো. আল আমিনের বিরুদ্ধে একই থানায় দুইটি মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তারা বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, এই চক্রটি সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে প্রথমে ঢাকার বাইরে কিছু গুদামে মজুদ করত। পরে সুযোগ বুঝে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে রাজধানীতে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। এ ক্ষেত্রে তারা গাড়ির ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার ব্যবহার করত, যাতে তল্লাশির সময় সহজে ধরা না পড়ে।

অভিযানে জব্দ করা প্রাইভেটকারটি মাদক পরিবহনের কাজে নিয়মিত ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। গাড়িটির মালিকানা ও এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। ডিবি কর্মকর্তারা আশা করছেন, গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের আরও কয়েকজন সদস্যকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজধানীতে ইয়াবার প্রবাহ বন্ধ করতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় চালান আটক ও চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে বাজারে ইয়াবার সরবরাহে সাময়িক হলেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদক কারবারিরা কৌশল বদলাচ্ছে, প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সেই অনুযায়ী কৌশল উন্নত করছে। মাদক নির্মূলে শুধু অভিযান নয়, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে।

এই ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নতুন মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ইয়াবার উৎস, সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং রাজধানীর কোন কোন এলাকায় তারা সরবরাহ দিত—সে বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

মাদক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইয়াবা বর্তমানে দেশের সবচেয়ে ভয়ংকর মাদকগুলোর একটি। তরুণ সমাজকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এই মাদক। রাজধানীতে ইয়াবার বড় চালান আটক হওয়া মানে অনেক তরুণের জীবন ধ্বংসের হাত থেকে আপাতত রক্ষা পাওয়া।

স্থানীয় সচেতন মহলও ডিবির এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান চালানো গেলে রাজধানীতে মাদকের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে একই সঙ্গে তারা মাদক মামলার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ওপর জোর দেন, যাতে অপরাধীরা পুনরায় এই কাজে জড়াতে সাহস না পায়।

সব মিলিয়ে, পল্টনে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারির গ্রেফতার রাজধানীর মাদকবিরোধী অভিযানে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মাদক নির্মূলে তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত