কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৩ আগস্ট কী করছে এনসিপি,জুলাই ঘোষণাপত্র ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৩০ বার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন বাঁক তৈরি করেছিল। ঠিক এক বছর আগে, ৩ আগস্ট রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের সমাবেশে ঘোষিত হয়েছিল সরকার পতনের একদফা আন্দোলন আর ফ্যাসিবাদবিরোধী চূড়ান্ত লড়াইয়ের ডাক। এবার সেই ঐতিহাসিক দিনটির বর্ষপূর্তিকে ঘিরে ফের উত্তাপ ছড়াচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি।

জুলাই অভ্যুত্থানের স্মরণে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি নিয়ে ইতিমধ্যেই সারা দেশে ছুটে বেড়াচ্ছেন গণ-অভ্যুত্থানের ফ্রন্টলাইনের নেতারা। জেলা থেকে জেলা, শহর থেকে গ্রাম—প্রতিটি পদযাত্রায় জনস্রোত প্রমাণ করছে যে অভ্যুত্থানকালীন ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে জনগণের আগ্রহ এখনও অটুট। এই পদযাত্রা শেষ হবে ৩০ জুলাই, আর এর পরের গন্তব্য ৩ আগস্টের শহীদ মিনার।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শহীদ মিনারে এবার কী হবে? এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, ৩ আগস্ট তাঁরা ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ এবং নতুন ইশতেহার পাঠ করবেন। এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম গত মাসের শেষের দিকে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও দুই দফায় এই ঘোষণাপত্র দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এবার তাঁরা জনগণের প্রত্যাশাকে হাতছাড়া করতে চান না।

নাহিদ ইসলাম আরও জানিয়েছেন, জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে ব্যর্থ হলে সরকারকে আবারও রাজপথে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। সারা দেশের পদযাত্রার পথসভাগুলোতেও একই সুরে হুঁশিয়ারি শোনা যাচ্ছে—যদি ৫ আগস্টের মধ্যে সরকার ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত না করে, তবে নতুন বিক্ষোভ-অভিযান অনিবার্য।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরির জন্য খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘোষণাপত্রের একটি খসড়া বিএনপিসহ কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মূল বিতর্ক হচ্ছে এর সাংবিধানিক বৈধতা ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। বিএনপি স্পষ্টভাবে বলেছে, পুরো ঘোষণাপত্র নয়, শুধু জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪-এর চেতনা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে উল্লেখ করলেই যথেষ্ট। অন্যদিকে এনসিপি বলছে, জনগণের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভ্যুত্থানকে বৈধতা দিতে হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতেই।

তরুণ নেতৃত্বনির্ভর এনসিপি যে এই ঘোষণাপত্র ইস্যুতে আপসহীন অবস্থান নিচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে পদযাত্রার ভাষণগুলো থেকে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, বিচার, সংস্কার আর নতুন সংবিধানের দাবি নিয়ে জনগণ একবার রাস্তায় নেমেছিল, প্রয়োজনে আবার নামবে। ৩ আগস্টের শহীদ মিনার সমাবেশ তাই হতে পারে নতুন কোনো আন্দোলনের সূচনা।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এক বছরের মাথায় গণ-অভ্যুত্থানের মূলধারার দলগুলো আবার সক্রিয় হচ্ছে—এটি দেশের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। অনেকে মনে করছেন, ক্ষমতা হস্তান্তর-পরবর্তী প্রশাসনিক কাঠামো এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। এর মধ্যেই যদি আবার ছাত্র-জনতা বড় জমায়েতে রাস্তায় নামে, তবে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন চাপের মুখে পড়বে।

তবে এনসিপির শীর্ষ নেতারা একে চাপ হিসেবে নয়, বরং জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে দেখছেন। দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন স্পষ্ট করেছেন, সরকার যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়, তবে এনসিপি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী অন্য পক্ষগুলো একজোট হয়ে ৩ আগস্টেই সেই ঘোষণাপত্র জনতার সামনে উপস্থাপন করবে। অর্থাৎ শহীদ মিনার হতে পারে আরেক দফা গণসমাবেশের প্রারম্ভিক মঞ্চ।

এখন পুরো দেশের চোখ দুই জায়গায়—এক, সরকার শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুত ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করে কি না; দুই, ৩ আগস্টের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘিরে এনসিপির সমাবেশ আদৌ শান্তিপূর্ণ থাকে, নাকি আবারও রাজপথে নতুন কোনো অভ্যুত্থানের গন্ধ ছড়িয়ে দেয়।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত