লবণ মেশানো গরম পানি খেলে স্বাস্থ্য থাকে সতেজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার
লবণ মেশানো গরম পানি খেলে স্বাস্থ্য থাকে সতেজ

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সকালে বা দিনের মাঝের সময় হালকা গরম পানিতে এক চিমটে লবণ মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস শুধুমাত্র সুগঠিত জীবনের অংশ নয়, এটি শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে লবণের প্রয়োজনীয়তা এবং শরীরের হাইড্রেশন রক্ষায় এই অভ্যাসের অমূল্য ভূমিকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লবণ মেশানো গরম পানি শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক রাখে, পেশী ও স্নায়ু সঠিকভাবে কাজ করে এবং শরীরকে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করে।

শরীরের জন্য লবণ অপরিহার্য। এটি মূলত সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। যখন আমরা লবণ মিশানো পানি খাই, তখন তা আমাদের রক্তনালী এবং কোষে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট সরবরাহ করে। ফলে পেশী ও স্নায়ু সঠিকভাবে সংকুচিত ও শিথিল হতে পারে। যারা নিয়মিত জিম করেন, ঘামতে বেশি হয় বা শরীরের কার্যকলাপ বেশি থাকে, তাদের জন্য এই অভ্যাস বিশেষভাবে উপকারী। কারণ প্রচুর ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে লবণ ও খনিজ পদার্থ বের হয়ে যায় এবং তা পুনরায় পূরণ করা প্রয়োজন।

লবণ মেশানো গরম পানি হজম প্রক্রিয়া সহজ করে। এটি অ্যাসিডিটি, বদহজম এবং গ্যাসের সমস্যা কমাতে সহায়ক। গরম পানি পেটের ভেতরের সংক্রমণ হ্রাস করে এবং হজমকে উন্নত করে। অনেকেই সকালে উঠে খালি পেটে গরম পানি পান করেন। সেখানে যদি এক চিমটে লবণ যোগ করা হয়, তা হজম প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে এবং সকালে শরীরকে সতেজ ও উদ্যমী রাখে।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য লবণ মেশানো পানি একটি প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবেও কাজ করে। এটি শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং কোষগুলিকে পুনরায় উজ্জীবিত রাখে। পেশীতে টানের সমস্যা থাকলে বা ব্যথা অনুভূত হলে গরম লবণ পানি তা দূর করতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। গরম পানির তাপমাত্রা পেশীকে শিথিল করে, আর লবণের খনিজ পদার্থ রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে পেশীতে সরবরাহ হয়, ফলে পেশী শক্তিশালী ও নমনীয় থাকে।

লবণ মিশানো পানি স্ট্রেস কমাতেও সহায়ক। চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোডিয়াম সঠিক মাত্রায় থাকলে শরীরের হরমোন ভারসাম্য বজায় থাকে। হরমোন ভারসাম্য থাকলে মানসিক চাপ কমে, মন শান্ত থাকে এবং দেহ-মানসিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অনেক মানুষ সকালে এক চিমটে লবণ মিশানো গরম পানি পান করে দিনের শুরুটা সতেজ ও প্রফুল্লভাবে শুরু করেন।

তবে এই অভ্যাসটি নিয়মিত, কিন্তু সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। বেশি লবণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এক চিমটে লবণ দৈনিক শরীরের জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর। বিশেষ করে যারা হাই ব্লাড প্রেসার বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষকরা বলছেন, লবণ মেশানো গরম পানি পান করলে শরীরের রক্তচাপ, হাইড্রেশন এবং পেশী কার্যক্ষমতা সবই ঠিক থাকে। এছাড়া এটি শরীরের স্বাভাবিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীরের অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ প্রতিরোধে এই অভ্যাসকে কার্যকর উপায় হিসেবে ধরা হয়।

সংক্ষেপে, হালকা গরম পানিতে এক চিমটে লবণ মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকে সুস্থ, শক্তিশালী ও সজীব রাখে। এটি শুধু শারীরিক উপকারে সীমাবদ্ধ নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে হজম, পেশী, ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য, মানসিক চাপ এবং টক্সিন নিঃসরণের সমস্যা দূর করা সম্ভব। তাই সকালে বা দিনের যে কোনো সময়ে হালকা গরম লবণ পানি পান করা একটি সহজ, সুলভ ও কার্যকর স্বাস্থ্য সচেতনতার উপায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত