বৃষ্টি থামাতে পারেনি জনতার স্রোত, জুলাই পুনর্জাগরণে কেন্দ্রীয় শহিদমিনারে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩২ বার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

অঝোর বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদমিনার চত্বর যেন আবারও হয়ে উঠেছে জনতার মিলনমেলা। হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’-এর চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও ‘জুলাইয়ের গান’ অনুষ্ঠানটি যেন শুধুই আর সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং হয়ে উঠেছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ওঠা নতুন এক গণজাগরণের স্মারক।

এ আয়োজনের পেছনে কাজ করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পাশে আছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সহযোগিতা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা। সবমিলিয়ে এক অনন্য সমন্বয়ে ঢাকার শহিদমিনারে ছুটে এসেছে বিভিন্ন বয়সী, পেশার, চেতনার মানুষ—কারো হাতে ছাতা, কেউ বৃষ্টিভেজা শরীরে, কারো চোখে স্বপ্নের আলো আর কারো চোখের কোণে আবেগঘন জল।

সন্ধ্যা ৬টায় ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম’ শিরোনামে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। একসাথে গলা মেলান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী আর অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সায়ান। জনতার সেই সুর যেন শহিদমিনারের আকাশে বৃষ্টির গর্জনকেও ছাপিয়ে গেছে।

জাতীয় সংগীতের পর সায়ান মঞ্চে আসতেই উপস্থিত জনতা যেন আরও একবার গানে মিশে যায়। একে একে গেয়ে শোনান ‘আমিই বাংলাদেশ’, ‘জয় বাংলার’, ‘হুঁশিয়ারি’, ‘তাজ্জব বনে যাই’, ‘আমার নাম প্যালেস্টাইন’, ‘আমি জুলাই এর গল্প বলবো’—এসব গান যেন নতুন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেয় কতটা সংগ্রাম আর শপথে মোড়ানো এ দেশের জনতার ইতিহাস।

সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ‘জুলাই ওমেন্স ডে’ উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর পর্দায় ভেসে ওঠে ‘দীপক কুমার গোস্বামী স্পিকিং’ ও ‘জুলাই বিষাদ সিন্ধু’। প্রজেক্টরের আলোয় যখন ভিজে শহিদমিনারে ইতিহাসের নানা ছবি ভেসে ওঠে, তখন বহু মানুষের চোখ ভিজে যায় স্মৃতির জলে।

অনুষ্ঠানজুড়ে জুলাই যোদ্ধাদের কথামালা ছুঁয়ে গেছে অগণিত দর্শককে। যেসব মানুষ বুক চিতিয়ে একসময় রাজপথে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা আজকের প্রজন্মকে শুনিয়েছেন জীবনের কঠিন অধ্যায়—যেখানে বৃষ্টি, শীত কিংবা গরম কোনো কিছুই তাদের লক্ষ্যচ্যুত করতে পারেনি। তাদের সেই অদম্য মনোবল ও গল্পগুলো নতুন করে সাহস জুগিয়েছে এখানে আসা হাজারো মানুষের মনে।

বৃষ্টি থামেনি, তবুও কেউ ছাতা নামায়নি—বরং কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে গেয়েছে, হাততালি দিয়েছে আর অদেখা কোনো সূর্যের আলোয় নিজেদের ভিজিয়ে নিয়েছে আশা আর প্রতিজ্ঞার বৃষ্টিতে।

জুলাই পুনর্জাগরণ একবারের জন্য নয়, বারবার প্রয়োজন—এ বার্তাই যেন tonight শহিদমিনারের বাতাসে ছড়িয়ে গেল। যখনই প্রয়োজন হবে, এই মাটির মানুষ ফের জেগে উঠবে, গান গাইবে, ছবি দেখবে আর গল্প শোনাবে—এই ভরসা নিয়েই শেষ হলো আরও একটি স্মরণীয় বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত