সর্বশেষ :
ভোটারদের মন জয়ে সব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের সন্ধ্যায় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াত বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম রিজার্ভ জোরদারে আরও ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রার্থীর মৃত্যুতে কি নির্বাচন স্থগিত হয়, কী বলছে আইন বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার আটক, ন্যায়বিচারের আশা জামায়াত আমিরের লিবিয়ায় রাজনৈতিক সহিংসতা, গাদ্দাফির ছেলে সাইফ নিহত ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি নয়, সিদ্ধান্ত বদলালো নির্বাচন কমিশন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের ইন্তেকাল গ্রিস উপকূলে অভিবাসন যাত্রার ট্র্যাজেডি, প্রাণ গেল ১৪ জনের

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের ইন্তেকাল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শেরপুরের রাজনীতিতে নেমে এসেছে শোকের গভীর ছায়া। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং শেরপুর-৩ সংসদীয় আসন শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী থেকে দলটির মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আর নেই। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সেখানে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন নুরুজ্জামান বাদল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি। ভোররাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই খবরে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় রাজনীতিক অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

নুরুজ্জামান বাদল শেরপুর জেলার রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলকে সংগঠিত করা, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন পরিশ্রমী সংগঠক এবং নীতিগতভাবে দৃঢ় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নুরুজ্জামান বাদলের নাম ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার সৃষ্টি হয়। তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে সামনে রেখে দলটি এই আসনে ভালো ফলের আশাবাদী ছিল বলে জানা যায়। তার আকস্মিক ইন্তেকালে সেই পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, অসুস্থতার মাঝেও নুরুজ্জামান বাদল দলীয় কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর রাখতেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং সাংগঠনিক বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতেন। তার মৃত্যুতে একজন অভিজ্ঞ সংগঠককে হারালো জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখা, এমনটাই মনে করছেন দলটির স্থানীয় নেতারা।

নুরুজ্জামান বাদলের ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তায় ভরে ওঠে। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। অনেকেই তাকে একজন সৎ, আদর্শবান ও নিরহংকারী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

জামায়াতে ইসলামী এক শোকবার্তায় জানায়, নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে দল একজন পরীক্ষিত সংগঠককে হারাল। তারা বলেন, ইসলামী আন্দোলন ও সাংগঠনিক কাজে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শোকবার্তায় আরও বলা হয়, তার রেখে যাওয়া আদর্শ ও ত্যাগ আগামী দিনের নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে তার পরিবারের প্রতি ধৈর্য ধারণের দোয়া করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নুরুজ্জামান বাদল ছিলেন একজন পরিবারপ্রেমী মানুষ। তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। নিকটজনরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে পরিবার মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলেও এই শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তার জানাজার নামাজ ও দাফনসংক্রান্ত কর্মসূচি পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নুরুজ্জামান বাদলের ইন্তেকাল শেরপুরের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যু দলীয় কৌশল ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি স্থানীয় রাজনীতিতে মানবিক দিকটিও সামনে এনেছে, যেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে গিয়েও মানুষ একজন পরিচিত মুখের মৃত্যুতে শোক জানাচ্ছে।

শেরপুর জেলার সাধারণ মানুষদের মধ্যেও তার মৃত্যু নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ তাকে সরাসরি রাজনৈতিক কারণে চিনতেন, কেউ চিনতেন সামাজিক কাজের মাধ্যমে। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততার কথাও অনেকেই স্মরণ করছেন। এসব কারণেই তার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষতি নয়, বরং একটি এলাকার জন্যও এক ধরনের শূন্যতা বলে মনে করছেন অনেকে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, অনেক নেতা সংগঠনের কাজে নিবেদিত থেকে ব্যক্তিগত অসুস্থতাকেও উপেক্ষা করেন। নুরুজ্জামান বাদলের জীবনও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন তার সহকর্মীরা। তারা বলছেন, অসুস্থতার মধ্যেও তিনি দায়িত্ববোধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। এই দায়বদ্ধতাই তাকে নেতাকর্মীদের কাছে আলাদা করে সম্মানিত করেছে।

নুরুজ্জামান বাদলের ইন্তেকাল এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন দেশের রাজনীতি আবারও নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনায় উত্তপ্ত। এই প্রেক্ষাপটে তার মৃত্যু রাজনীতির কঠোর বাস্তবতার পাশাপাশি মানবিক অনিশ্চয়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। ক্ষমতা, পদ বা মনোনয়ন সবই ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের কাজ আর আচরণই শেষ পর্যন্ত স্মৃতি হয়ে থাকে—এমন কথাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল তার বিদায়।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন তার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করছে। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত