সর্বশেষ :
বরিশালে জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনা নতুন শিক্ষা আইন প্রস্তাব, জনগণের মতামত আহ্বান ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাইতির উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, গ্যাং সহিংসতায় উদ্বেগ বৃদ্ধি রায়পুরায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রের মৃত্যু দেশে পৌঁছেছে তিন লাখ ২৬ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ভোটারদের মন জয়ে সব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের সন্ধ্যায় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াত বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম রিজার্ভ জোরদারে আরও ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

লিবিয়ায় রাজনৈতিক সহিংসতা, গাদ্দাফির ছেলে সাইফ নিহত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লিবিয়ার অস্থির রাজনৈতিক বাস্তবতায় আবারও নেমে এলো রক্তাক্ত অধ্যায়। দেশটির সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করে। ঘটনাটি লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে লিবিয়ার ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজনকে সামনে এনে দিয়েছে।

আলজাজিরা আরবির লিবিয়া প্রতিনিধি আহমেদ খলিফার বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে জিনতান শহরে অজ্ঞাত হামলাকারীরা সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির ওপর গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৫৩ বছর। গত প্রায় এক দশক ধরে তিনি জিনতান শহরেই অবস্থান করছিলেন। এই শহরটি ২০১১ সালের গৃহযুদ্ধের সময় থেকেই গাদ্দাফি-পরবর্তী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত।

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওথমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলাকারীরা কারা, কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লিবিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে লিবিয়ার কোনো সরকারি পদে ছিলেন না। তবুও তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি চরিত্র হিসেবে বিবেচিত হতেন। বিশেষ করে ২০০০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময়কালে তাকে তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে দেখা হতো। অনেক বিশ্লেষকের মতে, গাদ্দাফি শাসনের শেষ দিকে সাইফই ছিলেন সম্ভাব্য উত্তরসূরি। তিনি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং সীমিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতেন, যা তাকে শাসকগোষ্ঠীর ভেতরেও একটি আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।

২০১১ সালে লিবিয়ায় আরব বসন্তের ঢেউ আছড়ে পড়লে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। গাদ্দাফিবিরোধী বিদ্রোহ দ্রুত গৃহযুদ্ধে রূপ নেয় এবং একই বছরের অক্টোবরে মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হত্যা করা হয়। তার শাসনের পতনের পর সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে জিনতান শহরের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী আটক করে। সেই সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতও তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তোলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জিনতানেই কারাবন্দি অবস্থায় ছিলেন।

২০১৭ সালে লিবিয়ার একটি সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানানো হয়। তবে মুক্তির পরও তিনি জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থিত হয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি নীরব থাকলেও বিভিন্ন সময়ে তার সমর্থকরা তাকে লিবিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি সম্ভাব্য শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এমনকি একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এসব কারণে তাকে ঘিরে সবসময়ই এক ধরনের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বিরাজ করছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির হত্যা লিবিয়ার রাজনৈতিক সংঘাতের আরেকটি ভয়াবহ দিক প্রকাশ করেছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত শাসনব্যবস্থা, প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার, সশস্ত্র মিলিশিয়া এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের কারণে স্থিতিশীলতা ফিরে পায়নি। একদিকে ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার, অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে আলাদা ক্ষমতাকেন্দ্র—এই দ্বন্দ্বের মাঝে সাধারণ মানুষ যেমন ভুগছে, তেমনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের পর লিবিয়ার ভেতরে এবং বাইরে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গাদ্দাফি পরিবারের সমর্থকরা একে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। তাদের দাবি, সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি যদি রাজনীতিতে সক্রিয় হতেন, তাহলে তিনি লিবিয়ার বিভক্ত সমাজে একটি সমঝোতার প্রতীক হতে পারতেন। অন্যদিকে গাদ্দাফিবিরোধী অংশের কেউ কেউ মনে করছেন, অতীতের শাসনের প্রতীক হিসেবে তাকে ঘিরে সবসময়ই উত্তেজনা ছিল এবং এই হত্যাকাণ্ড সেই দীর্ঘদিনের সংঘাতেরই পরিণতি।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা লিবিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া, জাতীয় সংলাপ এবং মিলিশিয়াদের নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয়গুলো এমনিতেই অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি উচ্চপ্রোফাইল হত্যাকাণ্ড দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা সহিংসতা বা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

জিনতান শহরটি ঐতিহাসিকভাবেই সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির সঙ্গে জড়িত। এখানকার কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী একসময় তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, আবার দীর্ঘদিন আটকও রেখেছিল। ফলে এই শহরেই তার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া লিবিয়ার রাজনীতিতে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন অনেকে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ঘটনার পর শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারফিউ বা বিশেষ ব্যবস্থা ঘোষণার খবর পাওয়া যায়নি।

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির মৃত্যু লিবিয়ার ইতিহাসে গাদ্দাফি অধ্যায়ের আরেকটি নাটকীয় পরিসমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার শাসনের ছায়া লিবিয়ার রাজনীতি থেকে পুরোপুরি দূর হয়নি। এই হত্যাকাণ্ড সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে আনল।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের পথে এই ধরনের সহিংস ঘটনা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির হত্যার প্রকৃত কারণ ও এর পেছনের শক্তি উদঘাটন না হলে লিবিয়ার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত