সর্বশেষ :
বরিশালে জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনা নতুন শিক্ষা আইন প্রস্তাব, জনগণের মতামত আহ্বান ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাইতির উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, গ্যাং সহিংসতায় উদ্বেগ বৃদ্ধি রায়পুরায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রের মৃত্যু দেশে পৌঁছেছে তিন লাখ ২৬ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ভোটারদের মন জয়ে সব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের সন্ধ্যায় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াত বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম রিজার্ভ জোরদারে আরও ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার আটক, ন্যায়বিচারের আশা জামায়াত আমিরের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮ বার

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাইবার অপরাধ ও নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আলোচিত এক ঘটনায় বঙ্গভবনের এক সহকারী প্রোগ্রামারকে আটকের পর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আটক হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমির এই প্রতিক্রিয়া জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেরিফায়েড এক্স আইডি যেখান থেকে হ্যাক হয়েছিল, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে। তার এই বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে শুধু ধন্যবাদ জানানোতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং পুরো ঘটনাকে সাইবার অপরাধ দমন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন। তিনি বলেন, তিনি আশা করেন এই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, যা অত্যন্ত প্রয়োজন। তার মতে, দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে এ ধরনের আইনি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাস্তি নিশ্চিত হলে অনেকেই সাবধান হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা কমবে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, তিনি আশা করেন এই ঘটনা থেকে অনেকেই শিক্ষা নেবে। একই সঙ্গে তিনি আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার অপেক্ষায় থাকার কথাও জানান। অল্প সময়ের মধ্যেই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলে কেউ কেউ কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে সাইবার অপরাধ দমনে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচনা করছেন।

এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, সংক্ষেপে ডিবি, তাকে আটক করেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ডিএমপির ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশের সরকারি কোয়ার্টারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে। আটক ব্যক্তির কর্মস্থল বঙ্গভবন হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে এবং প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ওই পোস্টে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য দেখা যায়, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পোস্টটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলেও এর মধ্যে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে দলটি জানায়, ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলা চালানো হয়েছে এবং তার নামে মিথ্যা ও অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। দলটির দাবি ছিল, ওই পোস্টটি জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত মতামত নয় এবং এটি পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

পরবর্তীতে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচার টিমের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। দলটি দাবি করে, এই ধরনের ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও একটি বিষয় সামনে আসে। গত ৩১ জানুয়ারি বিকেলে ডা. শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকে নারীদের প্রতি অসম্মানজনক একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। সেখানে কর্মজীবী নারীদের আধুনিক পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করে চরম অবমাননাকর মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং নানা মহল থেকে নিন্দা জানানো হয়। পরবর্তীতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আবারও দাবি করা হয়, এটি একটি সাইবার হামলার অংশ এবং দলীয় প্রধানের বক্তব্য হিসেবে এটি সঠিক নয়।

এই ধারাবাহিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তা, রাজনৈতিক নেতাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার এবং তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ফলে এসব প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং জাতীয় রাজনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

বিশেষ করে নির্বাচন সামনে রেখে এমন সাইবার হামলা রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। একটি ভুয়া বা আপত্তিকর পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এই বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপকে কেউ কেউ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।

অন্যদিকে, বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা এই ঘটনায় অভিযুক্ত হওয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এখনো তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান এবং আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী বলা যাবে না, তবুও বিষয়টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভবিষ্যতে একটি নজির হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। যদি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা যায়, তাহলে এটি সাইবার অপরাধ দমনে একটি শক্ত বার্তা দেবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

সব মিলিয়ে, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার আটক হওয়ার ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয় নয়। এটি দেশের সাইবার নিরাপত্তা, রাজনৈতিক শিষ্টাচার এবং নির্বাচনপূর্ব পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে যেমন ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা উঠে এসেছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এখন সবার দৃষ্টি তদন্তের অগ্রগতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার দিকে, যেখানে সত্য উদঘাটনের মধ্য দিয়েই এই আলোচিত ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত