সর্বশেষ :
বরিশালে জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনা নতুন শিক্ষা আইন প্রস্তাব, জনগণের মতামত আহ্বান ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাইতির উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, গ্যাং সহিংসতায় উদ্বেগ বৃদ্ধি রায়পুরায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রের মৃত্যু দেশে পৌঁছেছে তিন লাখ ২৬ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ভোটারদের মন জয়ে সব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের সন্ধ্যায় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াত বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম রিজার্ভ জোরদারে আরও ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রার্থীর মৃত্যুতে কি নির্বাচন স্থগিত হয়, কী বলছে আইন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭ বার

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের আকস্মিক মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে এনেছে। একজন প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হয়, ভোটগ্রহণ আদৌ হয় কি না, নাকি পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়—এই বিষয়গুলো নিয়ে ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও আলোচনা। বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচন আইন এ বিষয়ে কী বলছে, তা জানা এখন সময়ের দাবি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যু নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি করেছে। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের সামনে এখন মূল প্রশ্ন, এই আসনে ভোটগ্রহণ হবে কি না এবং হলে কবে ও কীভাবে হবে। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, সংক্ষেপে আরপিও, ১৯৭২-এর নির্দিষ্ট বিধান থেকে।

বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালনার অন্যতম প্রধান আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২। এই আইনের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রার্থীর মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরপিওর ১৭(১) উপধারায় বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগেই যদি কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করতে হবে। অর্থাৎ এই পরিস্থিতিতে ওই আসনে নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ আর অনুষ্ঠিত হতে পারে না।

আইন অনুযায়ী এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, তাকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধ প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে। অর্থাৎ তার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা থাকতে হবে এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে হবে। যদি এই শর্ত পূরণ হয়, তাহলেই নির্বাচন স্থগিতের বিধান কার্যকর হয়।

শেরপুর-৩ আসনের ক্ষেত্রে এই শর্তগুলো পূরণ হয়েছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। নুরুজ্জামান বাদল জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন, তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারও করেননি। ফলে তার মৃত্যুর পর আইন অনুযায়ী ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা ছাড়া অন্য কোনো সুযোগ নেই।

আরপিও অনুযায়ী, প্রার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবেন। ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে যে, নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে ওই আসনের জন্য নতুন করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে।

এই প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণ শুধু পিছিয়ে যায় না, বরং কার্যত একটি নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগের নির্বাচনে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন এবং যাদের মনোনয়ন বৈধ ছিল, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয় না। তাদের জামানতের অর্থও নতুন করে জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আইন তাদের আগের অবস্থান বহাল রাখে।

অন্যদিকে, নতুন করে যারা এই আসনে প্রার্থী হতে চান, তাদের অবশ্যই নতুন তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে এবং আইন অনুযায়ী জামানত প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ আগের প্রার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিযোগিতায় থাকবেন, তবে নতুন প্রার্থীদের জন্য দরজা খোলা থাকবে।

শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান এ বিষয়ে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিত করার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রস্তুতের কাজ চলছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই আসনের নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি জানানো হবে। পরে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিধান মূলত ভোটারদের অধিকার এবং প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্যই রাখা হয়েছে। একজন প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে ভোটাররা আর সেই প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেওয়ার সুযোগ পান না। একই সঙ্গে অন্য প্রার্থীদের জন্যও পরিস্থিতি অসম হয়ে যেতে পারে। তাই নির্বাচন স্থগিত করে নতুন তফসিল ঘোষণা করাই ন্যায়সংগত ব্যবস্থা বলে মনে করা হয়।

বাংলাদেশে এর আগেও প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে বিভিন্ন আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার নজির রয়েছে। অতীতের নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন সাধারণত আইনের এই বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করে। ফলে শেরপুর-৩ আসনেও ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এতে ওই এলাকার ভোটাররা সাময়িকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার অনেকেই বলছেন, আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত নির্বাচনের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসনের রাজনৈতিক সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে। দলগুলো নতুন করে কৌশল নির্ধারণের সময় পাবে। একই সঙ্গে নতুন প্রার্থী আসার সম্ভাবনাও তৈরি হবে, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার বিষয়টি কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি সরাসরি আইনের বাধ্যবাধকতা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সুস্পষ্ট বিধানের আলোকে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এই ধরনের পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট পথেই এগোতে বাধ্য। শেরপুর-৩ আসনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী ঘোষণার দিকে। কবে নতুন তফসিল ঘোষণা হবে এবং ওই আসনের ভোটগ্রহণ কবে অনুষ্ঠিত হবে, সেটিই এখন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত