প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চাহিদা ও জোগানের চাপের কারণে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি)–এর ফেব্রুয়ারির প্রথম নিলামের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এই নিলামে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে ননিছাঁড়া গুঁড়া দুধ ও মোজারেলার ক্ষেত্রে।
সর্বশেষ নিলামে ১৭৫ জন ক্রেতা অংশ নেন এবং মোট ২৪ হাজার ৩৪ টন দুগ্ধজাত পণ্য কেনাবেচা হয়। নিলামে টনপ্রতি গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩০ মার্কিন ডলার। এতে নিউজিল্যান্ডের খামার মালিকদের সমবায় প্রতিষ্ঠান ফন্টেরা সরবরাহ করা ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এর ফলে টনপ্রতি গড় মূল্য পৌঁছেছে ৩ হাজার ৬১৪ ডলারে।
অন্যদিকে, ননিছাঁড়া গুঁড়া দুধের দাম আরও বেশি হারে বেড়েছে। এই পণ্যের দাম ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে টনপ্রতি গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৭৪ ডলারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যশিল্পে ব্যবহার বাড়ায় এই ধরনের গুঁড়া দুধের চাহিদা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জিডিটি মূল্যসূচকে চলতি সপ্তাহে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে মোজারেলার দামে। এই চিজের দাম ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৯৪ ডলারে। একই সঙ্গে মাখনের দামও বেড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা টনপ্রতি ৫ হাজার ৭৭৩ ডলারে পৌঁছেছে।
এ ছাড়া বাটার মিল্ক পাউডারের দাম ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪৭ ডলারে। অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দামও ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে টনপ্রতি ৬ হাজার ৫২৪ ডলারে উঠেছে।
অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের মধ্যেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। চেডার চিজের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ৭৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর ল্যাক্টোজের দাম তুলনামূলক কম হারে বাড়লেও সেটিও ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে টনপ্রতি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪১০ ডলারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আবহাওয়াজনিত প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীল সরবরাহ না থাকায় আগামী দিনগুলোতেও দুগ্ধজাত পণ্যের দামে এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাব আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।