প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি ভাষণ সম্প্রচারের অনুমতির জন্য আজ বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে।
দলের পক্ষ থেকে এই আবেদন বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম। তিনি বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সর্বজনের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা আজ নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা দিয়েছি। এখনো নির্দিষ্ট সময় বা ‘স্লট’ বরাদ্দ করা হয়নি। তবে আমরা আশা করছি, নির্বাচন কমিশন দ্রুতই প্রচারের সময় নির্ধারণ করে আমাদের জানাবে।”
এটি বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারের সুযোগের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওর মাধ্যমে ভাষণ সম্প্রচারের ফলে দলের নির্বাচনী বার্তা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাবে। এনসিপি আশা করছে, ভাষণে পারস্পরিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্বাচনী মূল নীতিমালা তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
এর আগে জামায়াত আমিরের ভাষণও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারের জন্য অনুমতির আবেদন করা হয়েছিল। দলটি মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন জমা দেয়। দলটি তার ভাষণ সম্প্রচারের জন্য আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় নির্ধারণ করেছে। এনসিপি জানাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রচারণাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সরাসরি ভাষণ সম্প্রচার রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করে। সাধারণ জনগণ এখন শুধু ভোটার নয়, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে নিজেদের অংশগ্রহণকে আরও সচেতনভাবে উপস্থাপন করতে পারছে।
নাহিদ ইসলামের ভাষণ মূলত নির্বাচনী বার্তা, দলীয় নীতি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি দলের অবস্থান এবং নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সাজানো হবে। এনসিপি জানাচ্ছে, ভাষণে দেশের যুবসমাজ, কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষদের অংশগ্রহণ ও সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই ভাষণ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও পর্যবেক্ষণ করতে পারবে, যা দেশের ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।