ব্লাড প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন ও কীভাবে থাকবেন নিরাপদে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪০ বার
ব্লাড প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন ও কীভাবে থাকবেন নিরাপদে

প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বর্তমান সময়ের অন্যতম নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত উচ্চ রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেমন এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে, তেমনি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের কারণেও কম বয়সীদের মধ্যেও ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় হঠাৎ করে ব্লাড প্রেসার বেড়ে গেলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। অথচ সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসকদের মতে, ব্লাড প্রেসার হঠাৎ বেড়ে গেলে প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজেকে শান্ত রাখা। দুশ্চিন্তা, ভয় কিংবা উত্তেজনা এই অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে বসে পড়া বা শুয়ে পড়া ভালো। চোখ বন্ধ করে কয়েকবার গভীর শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার মাধ্যমে শরীরকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হবে। এতে স্নায়ুর ওপর চাপ কিছুটা কমে এবং রক্তচাপও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের দিকে আসে।

উচ্চ রক্তচাপের সময় খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লবণ এ সময় সবচেয়ে বড় শত্রু। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে, ফলে রক্তচাপ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই ব্লাড প্রেসার বেড়ে গেলে আচার, চিপস, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড ও বিভিন্ন ধরনের প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। অনেক সময় আমরা না জেনেই খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

শরীরে পানির ঘাটতি থাকলেও অনেকের ব্লাড প্রেসার বেড়ে যেতে পারে। তাই এ সময় পরিমাণমতো বিশুদ্ধ পানি পান করা দরকার। তবে একসঙ্গে খুব বেশি পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে পান করাই ভালো। এতে শরীরের তরল ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে সহায়তা করে।

যাঁরা নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খান, তাঁদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওষুধ নিয়মিত ও সময়মতো গ্রহণ করা। অনেকেই প্রেসার কিছুটা কম মনে হলেই ওষুধ বন্ধ করে দেন বা অনিয়ম করেন, যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই প্রেসারের ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। ব্লাড প্রেসার হঠাৎ বেড়ে গেলে নির্ধারিত ওষুধটি ঠিক সময়ে খাওয়া খুব জরুরি।

গভীর শ্বাসের ব্যায়াম বা শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের কৌশলও এ সময় বেশ কার্যকর। ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখা এবং মুখ দিয়ে ধীরে ছাড়ার অভ্যাস রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই অভ্যাস করলে মানসিক চাপও কমে, যা দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

তবে কিছু কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। তীব্র মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, মাথা ঘোরা বা চোখে ঝাপসা দেখা, হঠাৎ হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া—এসব লক্ষণ উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে। এ অবস্থায় ঘরে বসে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এসব লক্ষণ হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের পূর্বাভাসও হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুললে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং রক্তনালিতে চাপ কমে। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম প্রধান কারণ।

ধূমপান ও অতিরিক্ত চা-কফি পরিহার করাও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। ধূমপান রক্তনালিকে সংকুচিত করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। একইভাবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন সাময়িকভাবে প্রেসার বাড়াতে পারে। তাই এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা বা সম্পূর্ণ ছেড়ে দেওয়াই উত্তম।

খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি ও ফল রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সবুজ শাক, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার শরীরের জন্য উপকারী এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়াও জরুরি। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শুধু প্রেসার নয়, সামগ্রিকভাবে শরীরকে সুস্থ রাখে।

মানসিক চাপ কম রাখা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম চাবিকাঠি। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও, সেটিকে সামলানোর কৌশল শেখা যায়। প্রার্থনা, মেডিটেশন, পছন্দের কাজ করা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক স্বস্তি এনে দিতে পারে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

সবশেষে বলা যায়, ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়া কোনো সাধারণ বিষয় নয়, আবার আতঙ্কিত হওয়ার মতো বিষয়ও নয়। সচেতনতা, সঠিক পদক্ষেপ এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিজের শরীরের সংকেতগুলোকে গুরুত্ব দিন, নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলুন—তাহলেই উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত